Inqilab Logo

ঢাকা, শনিবার, ১৯ অক্টোবর ২০১৯, ০৩ কার্তিক ১৪২৬, ১৯ সফর ১৪৪১ হিজরী

শ্রীলঙ্কায় পুলিশপ্রধান ও প্রতিরক্ষা সচিবকে পদত্যাগের নির্দেশ

নিহত বেড়ে ৩৫৯ : শেষকৃত্য সম্পন্ন বিশেষ ক্ষমতা পাচ্ছে সেনাবাহিনী

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ২৫ এপ্রিল, ২০১৯, ১২:০৩ এএম

শ্রীলঙ্কায় আত্মঘাতী বোমা হামলার পর নিহতের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। এ ঘটনায় পুলিশের দায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এরপরই গতকাল বুধবার শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট মৈত্রীপালা সিরিসেনা দেশটির পুলিশের প্রধান ও প্রতিরক্ষা সচিবকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন। কর্তব্যে অবহেলার অভিযোগ এনে পুলিশপ্রধানকে গ্রেফতারের দাবিও উঠেছে। এদিকে একদশক পর দেশটিকে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় জরুরী অবস্থার সময়কার বিশেষ ক্ষমতা পাচ্ছে শ্রীলঙ্কার সেনাবাহিনী। এই ক্ষমতা প্রয়োগ করে কোনরকম পরোয়ানা ছাড়াই তারা তল্লাশি ও আটক অভিযান চালাতে পারবে। আদালতের শুনানি ছাড়াও আটকে রাখতে পারবে দুই সপ্তাহ। গৃহযুদ্ধ অবসানের পর থেকে সামরিক বাহিনীকে এমন ক্ষমতা দেয়া হয়নি।
সরকারের গোয়েন্দা বাহিনী হামলার আগাম তথ্য দিতে ব্যর্থ হয়েছে বলে অভিযোগ আনা হয়েছে। রোববার ইস্টার সানডেতে চার্চ ও বিলাসবহুল হোটেলে আত্মঘাতী হামলার ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৩৫৯ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৫ শতাধিক। এ ঘটনায় আটক করা হয়েছে ৬০ জনকে। দেশটির প্রতিরক্ষা প্রতিমন্ত্রী জানায়, এ হামলার ঘটনায় ৯ জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এদের মধ্যে একজন নারীও রয়েছেন।
এদিকে শ্রীলঙ্কার ডেপুটি প্রতিরক্ষামন্ত্রী রুয়ান ভিজেবর্ধনে গতকাল বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, রোববার গির্জা ও হোটেলে আত্মঘাতী হামলায় অংশ নেওয়া তরুণ-যুবকদের অধিকাংশই উচ্চ-শিক্ষিত এবং উচ্চ-মধ্যবিত্ত ঘরের সন্তান। ‘তারা অর্থনৈতিকভাবে যথেষ্ট স্বাবলম্বী। পরিবারগুলোর যথেষ্ট টাকা-পয়সা রয়েছে, অর্থনৈতিকভাবে তারা স্থিতিশীল।’
হামলাকারীদের একজন ব্রিটেন এবং অস্ট্রেলিয়ায় উচ্চশিক্ষা শেষ করে দেশে ফিরে স্থায়ীভাবে বসবাস করছিলো। শ্রীলঙ্কান মন্ত্রী বলেন, ‘খুবই উদ্বেগের বিষয় এটি।’ যে আটজন আত্মঘাতী হামলাকারীকে এখন পর্যন্ত সনাক্ত করা হয়েছে, তাদের মধ্যে দুজন সহোদর। এই দুই ভাই কলম্বোর ধনী এক মসলা ব্যবসায়ীর দুই ছেলে বলে তদন্তকারীদের উদ্ধৃত করে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে বলা হচ্ছে। এই দুই ভাই কলম্বোর দুটো হোটেলে হামলা চালায়। তদন্তকারী একজন কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে বার্তা সংস্থা এএফপি বলছে, এক ভাইয়ের নাম-ঠিকানা পাওয়ার পর তার বাড়িতে কম্যান্ডো পুলিশ গেলে ভেতরে এক ভাইয়ের স্ত্রী বিস্ফোরণ ঘটায়। বিস্ফোরণে ঐ নারী এবং তার দুই ছেলে মারা যায়। সাথে নিহত হয় তিনজন পুলিশ কম্যান্ডো।
একজন তদন্তকারী এএফপিকে বলেছেন, ‘একটি পরিবার তাদের বাড়ীতে সন্ত্রাসী সেল প্রতিষ্ঠা করেছিল।
কলম্বোতে বিবিসির সাংবাদিক আজাম আমিন বলছেন, তদন্তকারীরা হামলাকারীদের পরিবারের সদস্যদের দিকেও নজর রাখছেন। পরিবারের সদস্যদের পরিচয়, গতিবিধি বিশ্লেষণ করছেন। তিনি জানান, যে ৬০ জনের মত সন্দেহভাজনকে এখন পর্যন্ত আটক করা হয়েছে তাদের মধ্যে হামলাকারীদের কয়েকজন স্ত্রীও রয়েছে।
মঙ্গলবার প্রেসিডেন্ট ‘গেজেট এক্সট্রাঅর্ডিনারি’ ইস্যু করে দেশে জরুরি অবস্থা জারি করেন যাতে জনগণের নিরাপত্তা ও জরুরি সেবা নিশ্চিত করা যায়। পুরো দ্বীপজুড়ে রাত ৯টা থেকে ভোর ৪টা পর্যন্ত কারফিউ জারি রয়েছে। লরি বা ভ্যান জাতীয় যেসব যানবাহনে বোমা বহন করা যেতে পারে, সে ধরনের যানবাহনের উপর রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। কলম্বোর পেত্তাহ এলাকায় ৮৭টি বোমা নিষ্ক্রিয় করার পর বোমা ডিসপোজাল স্কোয়াডকে সর্বোচ্চ সতর্কতায় রাখা হয়েছে। ইন্টারপোল শ্রীলঙ্কায় একটি টিম মোতায়েন করেছে এবং পুরো দেশজুড়ে চার্চ, বৌদ্ধ গীর্জা ও হিন্দু মন্দিরগুলোতে পুনরায় হামলার আশঙ্কায় সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
এদিকে, কলম্বোভিত্তিক সংবাদপত্র আইল্যান্ড কলম্বো ক্রাইমস ডিভিশানের এক সিনিয়র কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে যে, ইস্টার সানডেতে হামলায় জড়িত একজন সন্দেহভাজন ব্যক্তি দেমাতাগোদা মাহাবিলা গার্ডেন্সের একটি বাড়িতে আত্মঘাতী হামলা করার আগে তার মায়ের কাছে একটি চিঠি লিখেছিল, যেখানে সে তার মায়ের কাছে ক্ষমা চেয়েছে। পুলিশ ওই সংবাদপত্রকে জানিয়েছে যে, ‘বাড়িটিতে তল্লাশি চালানোর সময় আমরা চিঠিটা হাতে পেয়েছি। চিঠিতে সে লিখেছে যে, ধর্মের নামে সে এই হামলা করেছে’। আত্মঘাতী হামলার সময় কলম্বো ক্রাইমস ডিভিশানের (সিসিডি) তিনজন পুলিশ সদস্যও নিহত হয়েছে। সন্ত্রাসী হামলার সময় সাতটি আত্মঘাতী বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
রোববারের হামলাকে ব্যবহার করে যাতে ঘৃণা ছড়ানো না হয় এবং কোন সাম্প্রদায়িক অস্থিরতা ছড়ানো না হয়, সে কারণে টুইটার ছাড়া বাকি সোশাল মিডিয়াগুলো আপাতত শ্রীলঙ্কায় বন্ধ রাখা হয়েছে। সূত্র : বিবিসি, রয়টার্স, সাউথ এশিয়ান মনিটর।



 

Show all comments
  • Jugal Sarkar ২৫ এপ্রিল, ২০১৯, ২:২১ এএম says : 0
    হামলার জন্য শ্রীলংকান প্রশাসনই দায়ী। সতর্ক করার পরেও কেন ব্যাবস্হা নেওয়া হয়নি।
    Total Reply(0) Reply
  • জীবন ২৫ এপ্রিল, ২০১৯, ২:৩০ এএম says : 0
    সব দেশ মিলে বুঝি সন্ত্রাসীদের হত্যা করতে পারছেনা, সন্ত্রাসীদের কোন ধর্ম নেই
    Total Reply(0) Reply
  • বাবুল ২৫ এপ্রিল, ২০১৯, ২:৪৪ এএম says : 0
    পদত্যাগের নির্দেশ দিলে হবে না তাদের বিরুদ্ধে সঠিকভাবে তদন্ত চালাতে হতে
    Total Reply(0) Reply
  • জাহিদ ২৫ এপ্রিল, ২০১৯, ২:৪৭ এএম says : 0
    আসল অপরাধীদের খুঁজে বের করতে হবে।
    Total Reply(0) Reply
  • রাশেদ ২৫ এপ্রিল, ২০১৯, ২:৪৮ এএম says : 0
    হামলাকারী ও তাদের মদদদাতাদেরকে বিচারের আওতায় আনতে হবে।
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: শ্রীলঙ্কা

২৭ আগস্ট, ২০১৯

আরও
আরও পড়ুন