Inqilab Logo

ঢাকা, মঙ্গলবার ২১ মে ২০১৯, ০৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬, ১৫ রমজান ১৪৪০ হিজরী।

পুঁ‌জিবাজারে পাঁচ লাখ কো‌টি টাকা দি‌লেও খে‌য়ে ফেল‌বে

প্রাক বাজেট আলোচনায় অর্থমন্ত্রী

অর্থনৈতিক রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ২৫ এপ্রিল, ২০১৯, ৯:১১ পিএম

দে‌শের পুঁ‌জিবাজারে সিংহ-ছাগ‌লের খেলা চলছে মন্তব্য ক‌রে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল ব‌লেছেন, আমার ভয় হয়, পুঁজিবাজাকে ৫০ হাজার কোটি টাকা কিংবা ৫ লাখ কোটি টাকা দিলেও এই মুহুর্তে তা শেষ হয়ে যাবে। একই সঙ্গে আমরা জানি এখানে সমস্যা কোথায় আছে। কিন্তু সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করতে পারছি না। এছাড়া ব্যাংকিং খাতে একটি করুণ অবস্থায় সৃষ্টি হয়েছে। আইন করা হচ্ছে, আমার উপর আস্থা রাখুন, ঠিক হয়ে যাবে বলে উল্লেখ করেন অর্থমন্ত্রী।

বৃহস্পতিবার (২৫ এপ্রিল) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের এনইসির সম্মেলন কক্ষে এক প্রাক বাজেট আলোচনা অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এসব কথা বলেন। আলোচনায় দেশের বেসরকারী সংস্থা-এনজিও প্রতিনিধি, ইলেকট্রনিক্স ও প্রিন্ট মিডিয়ার সম্পাদক ও সাংবাদিকরা এবং ইকোনমিক রিপোর্টাস ফোরাম (ইআরএফ) এর কার্যনির্বাহী কমিটির নেতৃবৃন্দরা অংশ গ্রহণ করেন।

দেশের অর্থনীতি ও পুঁজিবাজার ওতপ্রোতভাবে জড়িত জানিয়ে আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, পুঁ‌জিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসই‌সির স‌ঙ্গে বৈঠকের পর আমি বললাম-বর্তমান বাজার যে খারাপ হচ্ছে এর পেছনে কেউ আছে। অসাধু উদ্দেশ্য থাকতে পারে। এমন কি অন্যায় বলেছি? পরের দিন ১০০ পয়েন্ট পড়ে গেল। যদি পুঁ‌জিবাজার খারাপ অবস্থা বলতাম তাহলে কি হতো।

সম্পাদকদের উদ্দেশ্যে অর্থমন্ত্রী বলেন, এটা আপনার ভালভবে জানেন কারা করে। যারা করে তারা উদ্দেশ্য প্রনোদিতভাবেই করছে, চিহ্নিত করে এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। আ হ ম মুস্তফা কামাল ব‌লেন, ওরা (একটি মহল) ভালভাবেই জানে সামনে বাজেট। পুঁজিবাজার বিষয়ে কিছু না কিছু বাজেটে প্রণোদনা থাকবে। এজন্য এখন শেয়ারের দাম বাড়ার কথা কমার কথা না। এখন কেন কমাচ্ছে, কারণ দাম কমলে যেন তারা শেয়ারটা কিনতে পারে।

বাজারে দুটি পার্টি রয়েছে উ‌ল্লেখ ক‌রে অর্থমন্ত্রী মুস্তফা কামাল বলেন, মোহামেডান ও আবাহনীর খেলা নয়, এ দু‌টি পক্ষের ম‌ধ্যে এক‌টি পক্ষ সিংহ অপরটি ছাগলের বাচ্চা। এই দুই গ্রুপের মাঝে অনেক তফাৎ। নিজে থেকে ঠিক না হলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া ছাড়া বাজার কোনভাবেই ঠিক করা সম্ভব না।

অর্থমন্ত্রী বলেন,পুঁজিবাজারে শত শত কম্পোনেন্ট। ওরা (মহল) সারা দেশে লোক রেখে দেয়। তারা তাদের নিয়োগকৃত লোকদের বলে দেয় কিনো কিনো। পরে দাম উঠে গেলে বিক্রি করে দেয়। আর খুজে পাওয়া যায় না। এখন কয়জনকে ধরবেন বা বুঝাবেন। বিষয়টা হলো- অনেকে না বুঝে শেয়ার বাজাওে আসে। তারাই ধরা খায়। না বুঝে ও স্বল্প সময়ের জন্য বাজারে না আশার অনুরোধ করেন তিনি।

বি‌নি‌য়োগকারী‌দের উ‌দ্দে‌শ্যে অর্থমন্ত্রী ব‌লেন, বাজার নি‌য়ে ভয় পাওয়ার কারন নেই। দে‌শের অর্থনী‌তির স‌ঙ্গে তাল‌মিলি‌য়ে পুঁ‌জিবাজারের উন্নয়ন করা হ‌বে। আমরা বারবার এ বাজার‌কে নি‌য়ে নাজুক অবস্থায় পড়‌তে চাই না। মান‌ু‌ষের গালাগা‌লি শুন‌তে চাই না। এ জন্য আমরা সব ধর‌ণের ব্যবস্থা নি‌বো।

ব্যাংকিং ব্যবস্থা খুব ভালো নেই জানিয়ে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, এ খাতের উন্নয়নে অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি হচ্ছে। অকেকেই খেলাপী ঋণের বিপরীতে কোন উদ্যোগ নিতে পারছে না। মামলা করতে পারছে না। এ সব বিষয়ে উদ্যোগ নিবে আসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি।

তিনি বলেন, ব্যাংক ঋণে সুদেও হার বেশি। এত বেশি সুদ দিয়ে কখনই ব্যবসা করা যাবে না। সুদের ওপর নতুন করে সুদ আরোপ করা হচ্ছে। আগামীতে সুদের হার অনেক কমিয়ে নিয়ে আসা হবে। যাতে ঋণ খেলাপি না হয়। এছাড়া বাজেটে পুঁজিবাজারের জন্য প্রণোদনা থাকবে।

আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, আমার উপর বিশ^াস রাখুন। অসততা আমাকে স্পর্শ করেনি, করবেও না। আমি অনেক কষ্ট করে লেখাপড়া করেছি। সাধারন মানুষের প্রতি আমার দায়বদ্ধতা রয়েছে।

অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, ব্যাংক থেকে কেউ ঋণ গ্রহণ করে সেখান থেকে বেরিয়ে আসাটা সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। ব্যবসা করলে লাভ বা লোকসান হতে পারে। যারা লোকসান দেয় তাদের জন্য কিছু করার ব্যবস্থা থাকে না। ঋণ খেলাপি হওয়ার পরও সব ব্যবসায়ীদের জেলে পাঠালে তো হবেনা। সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে হবে।

অর্থপাচার নিয়ে আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, যথাযথ আইন না থাকার কারনে দেশ থেকে অর্থ পাচার হয়। মানি লন্ডারিং প্রতিরোধে আইন নিয়ে আসবো। এজন্য যেসব পন্য বিদেশ থেকে আসবে সেগুলো শতভাগ স্কানিং হয়ে আসবে। আবার যেসব পন্য রফতানি হবে সেগুলোও শতভাগ স্কানিং করা হবে। তাছাড়া র‌্যান্ডম শ্যাম্পলিং এর মাধ্যমে পরিদর্শন করার ব্যবস্থা করা হবে।

মন্ত্রী বলেন, যারা আয়কর দেয় তারা শুধু কর দেবে, আর যারা কর দেয় না তারা দেয়ই না। দেশের দেশের ৪ কোটি মানুষ কর দেয়ার যোগ্য হলেও কর দেয়া মাত্র ২৯ লাখ। এজন্য ভ্যালু এ্যাডেড ট্যাক্স নির্ধারণ করা হবে।

দেশের উন্নয়নে পথে বৈষম্য বাড়তেই পারে জানিয়ে আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, অর্থনীতির উন্নয়ন হলে অনেক সময় মিসম্যাচ হয়। ফলে বৈষম্য বেড়ে যায়। তবে আর যেন বৈষম্য না বাড়ে, সে উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।

এক প্রশ্নেরও জবাবে মুস্তফা কামাল বলেন, আগামী বাজেটে সঞ্চয়পত্রের সুদ হারে কোন পরিবর্তন আসে না। তিনি বলেন, সঞ্চয়পত্রের রেট ও রির্টা‌নে আমরা হাত দেয়নি, আর দিবও না। তবে সঞ্চয়পত্রের সংস্কার নি‌য়ে কাজ চলছে। সঞ্চয়পত্রের যা‌দের জন্য করা হয়েছে, শুধু তারাই এখা‌নে বি‌নি‌য়োগ কর‌তে পার‌বে। এ‌ক্ষে‌ত্রে তারা কো‌নো ক্ষতিগ্রস্থ হবে না।

অর্থমন্ত্রী ব‌লেন, অনেক অবৈধ টাকায় সঞ্চয়পত্র কেনা হচ্ছে। ফলে যে পরিমাণ সঞ্চয়পত্র বিক্রি হওয়ার কথা তার চেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে। এ‌টি নিয়ন্ত্রণ কর‌তে হ‌বে।

আলোচনায় অংশ নিয়ে বিশ^ সাহিত্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা আব্দুল্লাহ আবু সাঈদ বলেন, উন্নয়ন হচ্ছে, কিন্তু পরিবেশের দিকে কোন মনযোগ দেয়া হচ্ছে না। ইচ্ছা মতো গাড়ি নামছে ঢাকায়। কোন নিয়ন্ত্রণ নেই। যানযট কমাতে হলে বাড়তি কর আরোপ করে গাড়ি নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।

বাংলাদেশ অবজারভারের সম্পাদক ইকবাল সোবহান চেীধুরী বলেন, ট্যাক্সের আওতা বাড়াতে হলে ইনসেনটিভের ব্যবস্থা থাকতে হবে। বাংলাদেশে এ ধরনের কোন ব্যবস্থা নেই। ব্যাংকিং খাতে আস্থা ও শৃংঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে হবে। বাজেটে এ নিয়ে পদক্ষেপ থাকা উচিত।

বাংলাদেশ প্রতিদিনের সম্পাদক নঈম নিজাম বলেন, অর্থনীতিতে চ্যালেঞ্জের সব থেকে বড় জায়গা হচ্ছে ব্যাংক। ব্যাংকে কোন প্রকার দায়বদ্ধতা নেই। কিছু মানুষ ঋণের নামে লোপাট করছে। যদি এই ধারা অব্যাহত থাকে তাহলে অর্থনীতিতে সংকট আরও বাড়বে। এছাড়া শেয়ার বাজার নিয়েও নতুন করে ভাবতে হবে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: অর্থমন্ত্রী


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ