Inqilab Logo

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৫ অক্টোবর ২০১৯, ৩০ আশ্বিন ১৪২৬, ১৫ সফর ১৪৪১ হিজরী
শিরোনাম

মাস্টারমাইন্ড ইব্রাহিমের কারখানায় কর্মরত বাংলাদেশিরা ফিরছেন আজ

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ২৬ এপ্রিল, ২০১৯, ৪:০৪ পিএম

শ্রীলঙ্কায় ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার অন্যতম মাস্টারমাইন্ড ইনশাফ ইব্রাহিমের তামা কারখানায় কর্মরত অন্তত ১৫ বাংলাদেশি শুক্রবার দেশে ফেরত আসছেন। ওই কারখানায় প্রায় ৪০ জন ভারতীয় শ্রমিক কাজ করতেন। সূত্রের খবরে জানা যায়, এই ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনার পর তারা সবাই দেশে ফেরত গেছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি সূত্র জানায়, ১৫ জনের মতো বাংলাদেশি শ্রমিক ওই কারখানায় কাজ করতেন। তাদের বেশির ভাগেরই বাড়ি টাঙ্গাইলে। এই ঘটনার পর সেখানে থাকার আর কোনো পরিস্থিতি নেই বলে ফেরত আসছেন তারা।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক রিপোর্টে বাংলাদেশি সারোয়ার নামের এক শ্রমিক বলেছেন, ‘তিনি (ইনশাফ ইব্রাহিম) অনেক মালিকের থেকে ভিন্ন এবং খুব দয়ালু ছিলেন। ওনার এখানে কাজ করে আমি খুশি ছিলাম। তিনি চলে গেছেন। এখন আমি কি করবো?’

রয়টার্সের রিপোর্টে বলা হয়েছে, ৩৩ বছর বয়সী তামা কারখানার মালিক ইনশাফ ইব্রাহিম সাংরি লা হোটেলের নাস্তার বুফেতে বোমা বিস্ফোরণ ঘটান।

এদিকে দক্ষিণ এশিয়ার ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণের ঘটনার স্বাক্ষী হয়েছে শ্রীলঙ্কা। ইস্টার সানডের দিন গীর্জা ও হোটেলে বোমা বিস্ফোরণে ৩৫৯ জনের প্রাণহানি ঘটে। এই ভয়াবহ বিষ্ফোরণে জড়িত ৯ জন আত্মঘাতী হামলাকারীর মধ্যে দুই ভাইয়ের তথ্য প্রকাশ করে শ্রীলঙ্কা। আইএসআইএস এই হামলার দায় স্বীকার করে, যেখানে তারা তাদের জঙ্গিদের দ্বারা এই ভয়াবহ হামলা ঘটানো হয়েছে বলে দাবি করে। তদন্তের মাধ্যমে উঠে আসে শ্রীলঙ্কার বিত্তবান এক মুসলিম পরিবারের নাম।

কলম্বোর মাহাওয়েলা গার্ডেন্স এলাকার সাদা বাড়িটাকে সম্মান করত সবাই। পরিবারের সদস্যদেরও সামাজিক সম্মান ছিল, প্রতিপত্তি ছিল। কিন্তু ইস্টার সানডের ধারাবাহিক বিস্ফোরণের পর পাল্টে গিয়েছে সব। বিশ্বাস করতে কষ্ট হলেও স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে স্পষ্ট হতে শুরু করেছে এই পরিবারই শ্রীলঙ্কার সব থেকে ভয়ানক সন্ত্রাসী হামলার মাস্টারমাইন্ড।

এই ভয়াবহ বিস্ফোরণের নেপথ্যে ছিল ইব্রাহিম পরিবার। বাড়ির বেশিরভাগ সদস্যই মারা গিয়েছেন। আত্মঘাতী বিস্ফোরণকারী দুই ভাইয়ের পিতা মোহাম্মদ ইব্রাহিমকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ইস্টার সানডেতে হামলার পর দীর্ঘ সময় কোনো সংগঠন ঘটনার দায় স্বীকার করেনি। দুদিন বাদে হামলার দায় নিয়েছে আইএসআইএস। তবে তার আগেই ইব্রাহিম পরিবারের যোগাযোগ সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল প্রশাসন।

বিত্তবান এই বাড়ির বড় ছেলে ইনশাফ ইব্রাহিমই কলম্বোর অন্যতম বিখ্যাত হোটেল সাংরি-লাতে আত্মঘাতী বিস্ফোরণ ঘটায়। প্রাতরাশের লাইনে দাঁড়িয়ে নিজের সঙ্গে থাকা বোমা ফাটিয়ে দেয় ইনশাফ। মৃত্যু হয় বহু মানুষের। এরপর সেদিনই ইব্রাহিমদের বাড়িতে হানা দেয় পুলিশ। বিপদ বুঝতে পেরে ইনশাফের ছোট ভাই ইলহাম একটি বোমা ফাটায়। তাতে মৃত্যু হয় তার। একই সঙ্গে তার স্ত্রী এবং তিন সন্তানেরও প্রাণ যায়। শ্রীলঙ্কান পুলিশ সরকারিভাবে এ তথ্য জানায়নি। তবে সংবাদ সংস্থা ‘রয়টার্স’ একটি বিশেষ সূত্র থেকে এই খবর জানতে পেরেছে।

এদিকে শ্রীলঙ্কায় ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় নিহত হয়েছে এক বাংলাদেশি শিশুও। আওয়ামী লীগ নেতা শেখ সেলিমের নাতি জায়ান চৌধুরী একটি হোটেলে নাস্তা করার সময় বোমা বিস্ফোরণে নিহত হয়। জায়ানের বাবা আহত হয়ে বর্তমানে কলম্বোতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: শ্রীলঙ্কা

২৭ আগস্ট, ২০১৯

আরও
আরও পড়ুন