Inqilab Logo

ঢাকা, বৃহস্পতিবার ২০ জুন ২০১৯, ৬ আষাঢ় ১৪২৬, ১৬ শাওয়াল ১৪৪০ হিজরী।

যানজট-তাপদাহে নাজেহাল

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ৩০ কি.মি. স্থবির , পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ঘাটে পারাপারে অপেক্ষায় ৩ শতাধিক যানবাহন

মোক্তার হোসেন (সোনারগাঁ) ও জাহাঙ্গীর ভ‚ইয়া (আরিচা) থেকে | প্রকাশের সময় : ২৭ এপ্রিল, ২০১৯, ১২:০৭ এএম

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সোনারগাঁ উপজেলার মেঘনা টোল প্লাজা এলাকা থেকে মহাসড়কের দু‘প্রান্তে প্রায় ৩০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুরু হওয়া এ যানজট দিনভর অব্যাহত ছিল। সড়কে দু’পাশে আটকে পড়েছে শত শত পরিবহন। এতে চরম ভোগান্তির শিকার হয় সাধারণ মানুষ। অনেক যাত্রী নিরুপায় হয়ে পায়ে হেঁটে তাদের নির্ধারিত গন্তব্যে পৌঁছান। অনেকে আবার প্রচন্ড তাপদাহের কারণে গাড়ীতেই অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।
অন্যদিকে, পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ঘাটে বৃহস্পতিবার থেকে যানবাহনের চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে দু’পারেই যানবাহনের দীর্ঘলাইন দেখা গেছে। পারা-পারের অপেক্ষায় রয়েছে প্রায় তিন শতাধিক যানবাহন। যার অধিকাংশই পণ্যবাহী ট্রাক। যাত্রীবাহী বাস ও প্রাইভেটকার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পারাপার করা হচ্ছে। ফলে ভোগান্তিতে পড়ছে ট্রাক চালকরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, মেঘনা সেতু ও কাঁচপুর সেতুর উঠার রাস্তা মেরামতের জন্য এক লেন করে গাড়ী চলাচল করায় অতিরিক্ত গাড়ীর চাপে গত কয়েকদিন ধরে মদনপুর থেকে কাঁচপুর পর্যন্ত যানজট লেগেই আছে। শুক্রবার ছুটি থাকার কারণে অতিরিক্ত যানবাহনের চাপে যানজট সৃষ্টি হয়েছে। একদিকে যানজট অপরদিকে অতিরিক্ত তাপদাহের কারণে অনেক যাত্রী রাস্তায় অসুস্থ হয়ে পড়েছে। এছাড়া লোকাল বাসগুলো সেতুতে উঠার মুখে ও মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে যাত্রী উঠা নামার কারণেও যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। মহাসড়কের এ যানজট শাখা রাস্তাগুলোতেও প্রভাব ফেলেছে । ফলে স্থানীয়রাও যানজটের কবল হতে মুক্ত হতে পারছেনা। কাঁচপুর হাইওয়ে পুলিশের ওসি (তদন্ত) আলী রেজা জানান, কাঁচপুর ব্রিজের ঢালে চার লেনের রাস্তা এক লেন করে বাকি তিন লেনে মেরামতের কাজ করায় গত কয়েকদিন যাবত মদনপুর থেকে কাঁচপুর ব্রিজ পর্যন্ত যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। এছাড়া মেঘনা ২য় সেতুর কাজ করার কারণে ও মেঘনা সেতু এক লেন হওয়ায় অতিরিক্ত গাড়ী ব্রিজের মুখে গিয়ে জমা হয়ে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। এছাড়া শুক্রবার ছুটির কারণে অতিরিক্ত গাড়ী মহাসড়কে চলার ফলে গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে মহাসড়কে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। যানজট নিরসনে হাইওয়ে পুলিশ দিন রাত কাজ করছে।
বিআইডব্লিউটিসি (পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ঘাট) সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় সকল ধরনের যানবাহনের চাপ বেড়ে যায়। এরমধ্যে যাত্রীবাহী বাস ও ছোট গাড়ির চাপ বেশি বাড়ে।
বিআইডব্লিউটিসি’র পাটুরিয়া ঘাটের বাণিজ্য বিভাগের ব্যবস্থাপক সালাউদ্দিন হোসেন জানান, ভোর থেকেই দক্ষিণ ও পশ্চিমাঞ্চলগামী ব্যক্তিগত ছোট গাড়ি ও যাত্রীবাহী বাসের চাপ রয়েছে। ফলে ক্রমেই দীর্ঘ হচ্ছে ওই যানবাহনের লাইন। যে কারণে সাধারণ পণ্যবাহী ট্রাক পারাপার করা হচ্ছে সীমিত আকারে। শুধুমাত্র জরুরি পণ্যবাহী ট্রাকগুলোকে সিরিয়াল অনুযায়ী নৌরুট পারাপারে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
বিআইডব্লিউটিসির দৌলতদিয়া ঘাটের বাণিজ্য বিভাগের সহকারী ব্যবস্থাপক রুহুল আমিন জানান, মধ্যরাতের পর থেকে ভোর পর্যন্ত ঢাকামুখী যাত্রীবাহী বাস ও জরুরি পণ্যবাহী ট্রাকের চাপ বেশি থাকায় পণ্যবাহী ট্রাকগুলো সিরিয়াল অনুযায়ী আটকে রাখা হয়েছে। ফলে অপেক্ষমান পণ্যবাহী ট্রাকের সংখ্যা বাড়ছে। যানবাহনের চাপ কমে গেলে সিরিয়াল অনুযায়ী ওই ট্রাকগুলোকে পারাপার করা হবে।
পাটুরিয়া দৌলতদিয়া নৌরুটে ছোট বড় মিলে ১৬ টি ফেরি রয়েছে। এর মধ্যে ১ টি ফেরি যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে পাটুরিয়া ফেরিঘাটের ভাসমান মেরামত কারখানায় মেরামতে রয়েছে। বাকি ১৫ টি ফেরি দিয়ে যাত্রী ও যানবাহন পারাপার করা হচ্ছে। গতকাল দুপুর ১২ টায় এ রির্পোট লেখা পর্যন্ত প্রায় ৩ শতাধিক যানবাহন ফেরি পারা-পারের অপেক্ষায় রয়েছে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: মহাসড়ক

২৫ এপ্রিল, ২০১৯

আরও
আরও পড়ুন