Inqilab Logo

ঢাকা, বৃহস্পতিবার ২৭ জুন ২০১৯, ১৩ আষাঢ় ১৪২৬, ২৩ শাওয়াল ১৪৪০ হিজরী।

শপথের জন্য সরকারের চাপ রয়েছে

সাংবাদিকদের মির্জা ফখরুল

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ২৭ এপ্রিল, ২০১৯, ১২:০৭ এএম

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি থেকে নির্বাচিত এমপিদের শপথ নেয়ার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে চাপ দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, নিঃসন্দেহে চাপ রয়েছে। সব সময়ই থাকে। যে সরকারই আসুক, এ ধরনের সরকার যারা জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয় না, তাদেরকে এভাবে ভিন্ন অগণতান্ত্রিক কৌশলেই চেষ্টা করতে হয় ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য। গতকাল (শুক্রবার) সকালে রাজধানীর চন্দ্রিমা উদ্যানে বিএনপির নির্বাচিতরা শপথ নেওয়ার পেছনে সরকারের কোনও চাপ আছে কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে বিএনপি মহাসচিব ও অন্য নেতারা মহিলা দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
সরকার বিএনপি ভাঙার চেষ্টা করছে জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, এটা তো স্বাভাবিক, বাংলাদেশের রাজনীতিতে এটা কোনো অস্বাভাবিক ব্যাপার নয়। বাংলাদেশে বরাবরই এ ধরনের দল ভাঙার প্রচেষ্টা হয়েছে, ভেঙেছে। কিন্তু বিএনপিকে এভাবে ভেঙে বা দল থেকে ছুটকে নিয়ে গিয়ে কোনো লাভ হয়নি। বিএনপি সবসময় তার নিজের পায়ে ফিরে এসে দাঁড়িয়েছে এবং স্বমহিমায় জনগণের কাছে গেছে। সংসদে না যাওয়ার বিএনপির যে সিদ্ধান্ত ছিল, তা এখনও অটুট আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ বিষয়ে কোনও দ্বিমত থাকার কথা নয়। দলের এই (শপথ না নেওয়া) সিদ্ধান্ত যারা ভঙ্গ করবেন তাদের বিরুদ্ধে দল থেকে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জাহিদুর রহমানের শপথের বিষয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, জাহিদুর রহমান শপথ নিয়ে দলের সিদ্ধান্ত ভঙ্গ করেছেন। এটা তিনি অত্যন্ত গর্হিত কাজ করেছেন, অন্যায় করেছেন, অপরাধ করেছেন। এজন্য তার বিরুদ্ধে দল ব্যবস্থা নেবে, যেটা আমরা বলি সাংগঠনিক ব্যবস্থা, সেই ব্যবস্থা অবশ্যই নেওয়া হবে। একজন ব্যক্তির সিদ্ধান্তে দলের বড় কোনো ক্ষতি হয় না মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, এই ধরনের ঘটনায় দলে কোনো বিশৃঙ্খলা নেই, এই ধরনের ঘটনা অতীতেও ঘটেছে এবং এতে আমরা খুব বেশি উদ্বিগ্ন নই।
দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে কেউ শপথ নিলে সংসদে তার সদস্যপদের বৈধতা নিয়ে বিএনপি স্পিকার বা নির্বাচন কমিশনের কাছে যাবে কি না এমন প্রশ্নে মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে। জাহিদের বিরুদ্ধে কী ধরনের সিদ্ধান্ত হতে সে বিষয়ে তিনি বলেন, সেটা স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সিদ্ধান্ত হবে। আমি তো একা সিদ্ধান্ত নেয়ার মালিক নই। যখন সিদ্ধান্ত হবে আপনারা তা জানতে পারবেন।
দলের সিদ্ধান্ত নির্বাচিতরা মানছেন না এবং অনেকে সংসদে যাওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক কথা বলছেন- এ বিষয়টাকে কীভাবে দেখছেন জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল বলেন, এখানে এমপিরা বলতে তো কেউ নেই। এখন পর্যন্ত একজন গেছেন। বাকি যারা আছেন, যাদেরকে আপনারা ইঙ্গিত করছেন, তাদের সিদ্ধান্ত আমরা জানি না বা তারা জানায়নি এখনো। আমাদের দলের যেটা সিদ্ধান্ত ছিল সেটাই বহাল আছে। আমরা শপথ গ্রহণ করব না- এ বিষয়ে আর কোনো দ্বি-মত থাকার কথা নয়। দলের সিদ্ধান্ত যারা ভঙ্গ করবেন তাদের বিরুদ্ধে দল যা ব্যবস্থা নেওয়ার নেবে।
খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য বিএনপি বড় কোনো কর্মসূচি নেবে কিনা- এ প্রশ্নে ফখরুল বলেন, বড় কর্মসূচি বলতে আপনারা কী বোঝাচ্ছেন, আমরা জানি না। আমরা দেশনেত্রীর মুক্তির ব্যাপারে আন্দোলন-সংগ্রামে আছি। এটা ধীরে ধীরে জনগণের দাবিতে পরিণত হচ্ছে এবং হবে।
জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভানেত্রী আফরোজা আব্বাস ও সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদের নেতৃত্বে নেতা-কর্মীদের নিয়ে শেরেবাংলা নগরে জিয়ার কবর জিয়ারত এবং পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন বিএনপি মহাসচিব। মহিলা দলের জেবা খান, হেলেন জেরিন খান, শাম্মী আখতারসহ কেন্দ্রীয় নেতারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: মির্জা ফখরুল


আরও
আরও পড়ুন