Inqilab Logo

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৯, ০২ কার্তিক ১৪২৬, ১৭ সফর ১৪৪১ হিজরী

তারুণ্যে সাজবে আ.লীগ

এমপি ও জেলা নেতাদের দ্ব›দ্ব পুরনো এবং প্রকাশ্য দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ নেতাদের তালিকা তৈরি হচ্ছে

ইয়াছিন রানা | প্রকাশের সময় : ২৭ এপ্রিল, ২০১৯, ১২:০৭ এএম

রংপুর জেলা আওয়ামী লীগের সর্বশেষ সম্মেলন হয়েছে এগারো বছর আগে ২০০৮ সালে। এরমধ্যে সভাপতি আবুল মনসুর আহমেদের মৃত্যু হয়েছে ৫ বছর আগে। বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত দিয়ে ঢিমেতালে চলছে সংগঠন। নীলফামারীর পৌর আওয়ামী লীগের সর্বশেষ সম্মেলন হয় ২০০০ সালে, জলঢাকায় ২০০৪ সালে ও কিশোরগঞ্জ ২০০৫ সালে। এখানেও সংগঠনের একই দশা। সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলায় সম্মেলন হয় না ১৬ বছর। একই জেলার দক্ষিণ সুরমায় ১৫ বছর আগের কমিটির সভাপতি মারা গেছেন। তারপর থেকে ভারপ্রাপ্ত দিয়ে চলছে। সিলেট সদর উপজেলায় ১৪ বছর আগের কমিটির অনেকে মারা গেছেন। আবার অনেকে বিদেশে অবস্থান করছেন।
আওয়ামী লীগের তৃণমূল সংগঠনের বেহাল দশা শুধু এই কয়েকটি উপজেলাতেই নয়। বরং সারাদেশেই কোন্দল, গ্রুপিং ও পূর্ণাঙ্গ কমিটি না থাকায় তৃণমূল সংগঠনের অবস্থা নাজুক। এর মধ্যে এমপিদের সঙ্গে জেলা নেতাদের দ্ব›দ্ব পুরানো এবং প্রকাশ্য। দীর্ঘদিন সম্মেলন না হওয়ায় নতুন করে কেউ আওয়ামী লীগ করছে না। ছাত্রলীগ বা যুবলীগ থেকে বিদায় নিয়ে নিষ্ক্রিয় থাকছেন।
শুধু তৃণমূলই নয় খোদ কেন্দ্রীয় কমিটির বিভিন্ন সম্পাদকীয় দফতরে কোন কার্যক্রম হচ্ছে না। সম্পাদকীয় কাজও অনেকে বোঝেন না। এমন অবস্থায় কেন্দ্র ও জেলা মহানগর থেকে শুরু করে থানা ও উপজেলা পর্যন্ত তৃণমূল সংগঠনকে সম্পূর্ণভাব ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ হাতে নিয়েছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।
দলীয় সূত্র বলছে, শুধু তৃণমূল সংগঠন নয়, কেন্দ্রীয় সংগঠনও নতুন করে ঢেলে সাজানো হবে আগামী সম্মেলনে। চলতি বছরের অক্টোবরে দলের একুশতম জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। যারা দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্ব পালন করেছেন, দায়িত্বে থেকে নিষ্ক্রিয় থেকেছেন, বয়ঃবৃদ্ধ তাদের বদলে নতুন তরুণ, উদ্যোমী, কর্মঠ নেতাদের সমন্বয়ে আওয়ামী লীগকে ঢেলে সাজানো হবে। জেলা সংগঠনের পাশাপাশি একই সঙ্গে উপজেলাগুলোর সম্মেলন করে কমিটি গঠন করা হবে।
সূত্র বলছে, দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা এবার তরুণদের বেশি প্রধান্য দিচ্ছেন। এতে বাদ পড়তে পারেন অনেক বড় বড় নেতা। অন্যদিকে কর্মঠ ও বুদ্ধিদীপ্ত তরুণরা স্থান পেতে পারেন নতুন কমিটিতে। বছরের শুরুতে নতুন মন্ত্রিসভা, সংসদে সংরক্ষিত মহিলা আসন এবং উপজেলা নির্বাচনে নতুনদের আধিক্যে এবার দলে বড় পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে বলে আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা মনে করছেন।
সূত্র জানায়, দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা মনে করেন আগামী দিনে তরুণ নেতৃত্বই পারবে স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে দেশকে সমৃদ্ধশালী করতে। তৃণমূল সংগঠনে কাদের নেতৃত্বে আনলে সংগঠন শক্তিশালী হবে তা নিয়ে একাধিক সংস্থার মাধ্যমে জরিপ চালাচ্ছেন দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা। এদিকে ৮টি বিভাগীয় টিমের প্রতিবেদন এবং সভাপতির নিজস্ব মূল্যায়নের ভিত্তিতেই দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ নেতাদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। এই তালিকার হিসেবে বর্তমান বেশিরভাগ নেতাই আগামীতে বাদ পড়তে পারেন।
ইতোমধ্যে দলের সাংগঠনিক সম্পাদকরা সবগুলো জেলা অর্থাৎ ৭৮টি সাংগঠনিক জেলা ও উপজেলাগুলোর সর্বশেষ সম্মেলনের তারিখ সংগ্রহ করে জেলাগুলোকে সম্মেলনের প্রস্তুতি নিতে মৌখিক নির্দেশনা দিয়েছেন। আগামী সোমবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এ্যভিনিউতে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে খুলনা বিভাগের এমপি ও দলের নেতাদের নিয়ে যৌথসভার আহ্বান করা হয়েছে। এছাড়া রমজান মাসে অনেকগুলো জেলার বর্ধিত সভা করার জন্য মৌখিক নির্দেশনা দিয়েছেন কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদকরা।
এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও দলের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ দৈনিক ইনকিলাবকে বলেন, জাতীয় কাউন্সিল অক্টোবরে হবে। সংগঠনের নিয়ম অনুযায়ী সম্মেলনের আগে বিভিন্ন ইউনিটে কাউন্সিলের মাধ্যমে কমিটি গঠন করেই জাতীয় কাউন্সিল করা হয়। এবারো সেভাবে করা হবে।
আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক ইনকিলাবকে বলেন, দলের উপদেষ্টা পরিষদ ও কার্যনির্বাহী সংসদের যৌথসভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দল ঢেলে সাজাতে নানা নির্দেশনা দিয়েছেন। এছাড়া ২০২০ সালে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ও ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনে গুরুত্বারোপ করেছেন।
তিনি আরও বলেন, মুজিববর্ষ সামনে রেখেই দল ঢেলে সাজানোর কাজ ত্বরান্বিত হচ্ছে। অক্টোবরে সম্মেলনের মাধ্যমে গঠিত নতুন কমিটির মেয়াদেই (৩ বছর) উদযাপিত হবে মুজিববর্ষ। এ নিয়ে তৃণমূল সংগঠনেকে ঢেলে সাজাতে ইতোমধ্যে কাজ শুরু করা হয়েছে। রমজানের পর পুরোদমে কাজ শুরু হবে। প্রত্যেক জেলা ও উপজেলায় সম্মেলনের আয়োজন করা হবে।
এ বিষয়ে আওয়ামী লীগ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান বলেন, সম্মেলনের মাধ্যমে পরিবর্তন আসবে এটাই স্বাভাবিক। এটা প্রতি বছরই হয়ে থাকে। নতুনদের জায়গা দিতে পুরনোদের সরে যেতে হয়। অপরদিকে আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারক পর্যায়ের একাধিক নেতা বলেন, দলের বেশ কয়েকজন নেতা বিগত আড়াই বছরে নিজ দফতরে একটি বৈঠকও করতে পারেননি।
অনেকে নিজের দায়িত্ব সম্পর্কেও সঠিকভাবে অবহিত নন। দিবসভিত্তিক ও রুটিন কর্মসূচি ছাড়া অন্য কোনো কর্মকান্ডে ছিলেন না। এমন নেতারা এবার কমিটিতে স্থান পাবেন না। এছাড়া দলের ও সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষু্ন্নকারী কোনো নেতা এবার জাতীয় ও তৃণমূল কমিটিতে স্থান পাবেন না। নতুন করে বিতর্ক ওঠা নেতারাও থাকবেন শেখ হাসিনার আগামী কমিটির বাইরে। সে হিসেবে বর্তমান কমিটির অনেকেই বাদ পড়ার তালিকায় আছেন।

 



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: আ.লীগ

১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৯
১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৯
৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ