Inqilab Logo

ঢাকা, রোববার, ২০ অক্টোবর ২০১৯, ০৪ কার্তিক ১৪২৬, ২০ সফর ১৪৪১ হিজরী

রোহিঙ্গা সামালে দ্রুত সাড়া দিতে দাতাদের প্রতি জাতিসংঘের আহ্বান

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ২৭ এপ্রিল, ২০১৯, ১০:৩৩ এএম

রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির ঘুরে কক্সবাজারের ‘দুর্দশা’ লাঘবে দ্রুত আরও ভূমিকা নিতে দাতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের তিনটি সংস্থার প্রধানরা।

জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাই কমিশনের (ইউএনএইচসিআর) প্রধান ফিলিপ্পো গ্রান্ডি, জাতিসংঘের আন্ডার-সেক্রেটারি- জেনারেল (হিউম্যান অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড ইমার্জেন্সি রিলিফ) মার্ক লোকক এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) মহাপরিচালক আন্তোনিও ভিতোরিনোর নেতৃত্বে ২০ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল শুক্রবার সকালে কক্সবাজারের উখিয়ার বালুখালী-২ রোহিঙ্গা ক্যাম্পে যান।

তারা সেখানে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) খাদ্য বিতরণ কেন্দ্র পরিদর্শন করেন এবং মিয়ানামারে রাখাইনে নিপীড়নের শিকার রোহিঙ্গা নারী ও শিশুদের সঙ্গে কথা বলেন।

পরে এক যৌথ বিবৃতিতে জাতিসংঘের সংস্থাগুলোর প্রধানরা রোহিঙ্গা শরণার্থীসহ বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের এই ঊপকূলীয় জেলার ১২ লাখ মানুষের জরুরি প্রয়োজন মেটাতে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান।

‘এই বোঝা’ সামলে নিতে দাতাদের প্রতি দ্রুত আরও ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তারা।

যৌথ বিবৃতির আগে এক টুইটে ফিলিপ্পো গ্র্যান্ডি লেখেন, “উচ্চ মূল্য, বনভূমি ধ্বংস, যানজট, নিরাপত্তাহীনতা… কক্সবাজার পরিদর্শন করছি, আরও একবার, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আশ্রয় দেওয়া স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ওপর ভয়াবহ প্রভাব দেখা যাচ্ছে। ৥আইওএমচিফ ৥ইউএনরিলিফচিফ ও আমি এই বোঝা সামাল দিতে দাতাদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি আরও ভূমিকা রাখার জন্য (এবং দ্রুত পদক্ষেপ নিন)।”

যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, ১২ বছরের কম বয়সী ৫ লাখ ৪০ হাজার রোহিঙ্গা শিশুর প্রায় অর্ধেক এখন শিক্ষার বাইরে। বাকিদের শিক্ষার সুযোগও সীমিত পরিসরে।
কিশোর-কিশোরীদের মাত্র গুটিকয় কোনো ধরনের শিক্ষা বা প্রশিক্ষণের সুযোগ পাচ্ছে।

“এটা বিশ্বের সবচেয়ে বড় শরণার্থী সংকটের একটি হয়ে রয়েছে,” বলেন গ্রান্ডি।

ভিতোরিনো বলেন, “বাংলাদেশে নয় লাখের বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী রয়েছে, যাদের অধিকাংশই ২০১৭ সালে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে এসেছে। তাদের অনেক অগ্রগতি দেখছি, কিন্তু তাদের পরিস্থিতি বিশেষত নারী ও শিশুদের অবস্থা এখনও শোচনীয়।

“প্রায় দুই বছর এই সংকট চলছে। আমাদের শরণার্থীদের শিক্ষার সুযোগ, দক্ষতা তৈরি এবং তারা মিয়ানমারে ফিরলে যাতে সমাজে ভূমিকা রাখতে পারে সেজন্য প্রস্তুত করার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে হবে।”

রোহিঙ্গাদের পাশাপাশি তাদের আশ্রয় দেওয়া স্থানীয় জনগোষ্ঠীকেও অনেক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হচ্ছে বলেও পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন তিনি।

লোকক বলেন, ২০১৭ সালে যখন লাখ লাখ রোহিঙ্গা পালিয়ে আসছিল, তখন প্রথম কক্সবাজার পরিদর্শন করেছিলেন তিনি।
“আমি এমন শিশুদের দেখা পেয়েছিলাম, যারা চোখের সামনে বাবা-মাকে খুন হতে দেখেছে। নারীরা তাদের ওপর সংঘটিত যৌন সহিংসতার ভয়ানক গল্প আমাকে শুনিয়েছিল।”

তাদের শুধু নির্মম ওই অভিজ্ঞতা থেকে বের করে আনাই নয়, একটি সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করার দিকে মনোযোগ দেওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।

জাতিসংঘের প্রতিনিধি দলের সদস্যরা বুধবার বিকালে ঢাকা পৌঁছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। বৃহস্পতিবার বিকালে ঢাকা থেকে কক্সবাজারে পৌঁছে তারা জেলা প্রশাসন এবং কক্সবাজার ত্রাণ ও রোহিঙ্গা শরণার্থী কমিশনারের সঙ্গে আলাদাভাবে বৈঠক করেন।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: রোহিঙ্গা


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ