Inqilab Logo

ঢাকা, মঙ্গলবার ১৮ জুন ২০১৯, ৪ আষাঢ় ১৪২৬, ১৪ শাওয়াল ১৪৪০ হিজরী।

বিরলে চঞ্চল্যকর সুমিত্রা মার্ডী হত্যার মুল রহস্য উন্মোচিত

পরকীয়ার জেরে খুন, খুনি শনিরামের আদালতে স্বীকারোক্তি

বিরল (দিনাজপুর) উপজেলা সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ২৮ এপ্রিল, ২০১৯, ৬:৫৩ পিএম

দিনাজপুরের বিরলে চাঞ্চল্যকর উপজাতীয় গৃহবধূ সুমিত্রা মার্ডী (২৮)এর হত্যার আসল রহস্য উন্মোচিত হয়েছে। পরকীয়া প্রেমের জেরে খুন হয়েছে সুমিত্রা মার্ডী। 
হত্যার সাথে জড়িত সন্দেহে আটক যুবক শনিরাম হেমরম (২৫) হত্যার দায় স্বীকার করে গত শনিবার রাত ১০ টার দিকে জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট (চলতি দায়িত্ব) লিমেন্ট রায়ের আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী প্রদান করেছে। শনিরাম হেমরমের দেয়া স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি থেকে জানা যায়, উপজেলার মহেষ শীবপুর গ্রামের বিস্তা হাসদার স্ত্রী ২ সন্তানের জননী উপজাতীয় গৃহবধু সুমিত্রা মার্ডী (২৮) এর সাথে পাশের বাড়ীর চুনকু হেমরমের পুত্র সম্পর্কে দেবর আটক শনিরাম হেমরম (২৫) এর পরকীয়া প্রেম চলে আসছিল। এবিষয়ে দু’পরিবারের মাঝে দীর্ঘ বিরোধও চলছিল। তার পরেও গোপনে দু’জনের পরকীয়া প্রেম চলে আসছিল। মাঝে মধ্যে শনিরামকে সুমিত্রা মার্ডী অন্যত্র নিয়ে পালানোর প্রস্তাব দিত। গত ২৫ এপ্রিল বৃহস্পবিার বিকালে অন্য জনের মোবাইল ফোনে শনিরামকে ডাকে সুমিত্রা। সে হিসাবে বিকাল ৪ টার দিকে সুমিত্রা তাঁর কন্যা শ্যামলী (৬) দেবর বগধার পুত্র সুশান্ত (৪) এবং প্রতিবেশি মোতালেবের কন্যা হাসি (৯) কে সাথে নিয়ে বাড়ীর পাশে জমিনে খাওয়ার জন্য শাক তুলার অজুহাতে বাড়ী থেকে বের হয়ে আসে। কথামত আগে থেকে ঘটনাস্থল ভুট্টা ক্ষেতে অপেক্ষা করতে থাকে শনিরাম। শাক তুলার এক পর্যায় সুমিত্রা সংগীয় শিশুদের রেখে কৌশলে শনিরামের কাছে যায়। এসময় সুমিত্রা আবারও পালিয়ে যাবার জন্য শনিরামকে জরালো প্রস্তাব দেয়। শনিরাম এতে আপত্তি তুললে সুমিত্রা শনিরামকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে শনিরাম। ফলে সে সুমিত্রার উড়না দিয়ে সুমিত্রারই গোলা পেচিয়ে জরে টান দিলে মারা যায় সুমিত্রা। সুমিত্রা মারা গেলে লাশ রেখে দ্রুত স্থান ত্যাগ করে পালিয়ে যায় শনিরাম। এ ভাবে চাঞ্চল্য এ খুনের দায় স্বীকার করে খুনের বর্ণনা দেয়, পরকীয়া প্রেমিক শনিরাম। বিরল থানার অফিসার ইনচার্জ এটিএম গোলাম রসূল বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আমরা দিনাজপুর পুলিশ সুপার সৈয়দ আবু সায়েম (বিপিএম) মহোদয়ের দিক নির্দ্দেশনা এবং পরামর্শ ক্রমে ঘটনার দিন সন্ধ্যার দিকে শনিরামকে ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে আসি। এরপর আমার উর্দ্ধোত্বন কর্তৃপক্ষ দিনাজপুর জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহফুজ জামান আ¯্রাফ, অতিরিক্তি পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সুশান্ত সরকার, আমি ও মামলার আইও ইন্সপেক্টর (তদন্ত) নাজমুল আহমেদ দীর্ঘ সময় ধরে শনিরামকে জিঞ্জাসাবাদ করলে এক পর্যায় সে পুলিশের কাছে নিজের দোষ স্বীকার করে এবং বিজ্ঞ আদালতে নিজের দোষ স্বীকার করে স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি প্রদান করে। চাঞ্চল্য এ হত্যা মামলার আইও বিরল থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) নাজমুল আহমেদ জানান, শনিরামকে নিহত গৃহবধু সুমিত্রার মা একই জেলার কাহারোল উপজেলার পানিসাইল গ্রামের তালমাই মার্ডীর দায়ের করা হত্যা মামলায় গ্রেফতার করে স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি প্রদানের পর আদালতের মাধ্যমে শনিবার রাতেই জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। 
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার বিকাল ৪ টার দিকে উপজেলার রাণীপুকুর ইউপি’র মহেষ শিবপুর গ্রামের বিস্তা হাসদার স্ত্রী ২ সন্তানের জননী সুমিত্রা মার্ডী (২৮) সংগীয় শিশুদের নিয়ে বাড়ীর পাশে জমিনে খাওয়ার জন্য শাক তুলতে গিয়ে নিখোঁজ হয়। তাঁকে খোঁজা খুজির এক পর্যায় শুক্রবার সকালে বাড়ীর পাশে ভুট্রা ক্ষেতে ঐ গৃহবধু সুমিত্রার লাশ দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য দিনাজপুর এম, আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করে। ময়না তদন্ত শেষে ঐ দিনই বিকালে সুমিত্রার লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে পুলিশ। সন্ধ্যার দিকে তাকে সমাহিত করা হয়। এ ঘটনায় শুক্রবার বিকালে নিহত গৃহবধু সুমিত্রার মা একই জেলার কাহারোল উপজেলার পানিসাইল গ্রামের তালমাই মার্ডী বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামী করে বিরল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করলে পুলিশ ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে যুবক শনিরাম হেমরমকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: আদালতে স্বীকারোক্তি
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ