Inqilab Logo

ঢাকা, রোববার ২১ জুলাই ২০১৯, ০৬ শ্রাবণ ১৪২৬, ১৭ যিলক্বদ ১৪৪০ হিজরী।

রবি ও গ্রামীণফোনের কাছে রাজস্ব বকেয়া ১৩ হাজার কোটি টাকা

সংসদে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ২৯ এপ্রিল, ২০১৯, ১২:০৫ এএম | আপডেট : ১২:২৪ এএম, ২৯ এপ্রিল, ২০১৯

ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেছেন, দেশের মোবাইল কোম্পানির মধ্যে গ্রামীণফোনের কাছে সাড়ে ১২ হাজার কোটি এবং রবি অজিয়াটার কাছে সাড়ে ৮ হাজার কোটি টাকারও বেশি রাজস্ব বকেয়া রয়েছে। এ ছাড়া সিটিসেলের কাছে সরকারের রাজস্ব বকেয়া রয়েছে ১২৮ কোটি টাকা। বকেয়া রাজস্ব পরিশোধ না করায় সিটিসেল কোম্পানির সম্প্রচার বন্ধ রয়েছে। এ সংক্রান্ত জটিলতা কাটাতে হাইকোটে একাধিক মামলা রয়েছে।
গতকাল রোববার সংসদে ঢাকা-২০ থেকে নির্বাচিত এমপি বেনজীর আহমেদের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে সংসদকে মন্ত্রী এ তথ্য জানান। স্পিকার ড. শিরিন শারমীন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বিকালে এ অধিবেশন শুরু হয়।
টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী বলেন, বিটিআরসি সরকারি রাজস্ব নিশ্চিতে নিয়মিত সেলফোন কোম্পানিগুলোর অডিট করা হয়। ইতিমধ্যে গ্রামীণ ও রবির অডিট সম্পন্ন হয়েছে। অডিটে গ্রামীণফোনের কাছে বিটিআরসির ৮,৪৯৪ দশমিক ০১ কোটি এবং এনবিআরের ৪,০৮৫ দশমিক ৯৪ কোটিসহ মোট ১২,৫৭৯ দশমিক ৯৫ কোটি টাকা পাওনা হয়েছে। আর রবির কাছে বিটিআরসির ৬৭৭ দশমিক ৭৬ কোটি এবং এনবিআরের ১৮৯ দশমিক ৪৭ কোটিসহ মোট ৮৬৭ দশমিক ২৩ কোটি টাকা পাওনা হয়েছে। এসব বকেয়া পাওনা পরিশোধে গ্রামীণ ও রবির কাছে পত্র পাঠানো হয়েছে। এসব অর্থ আদায়ের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।
এছাড়া বাংলালিংক ও এয়ারটেল অপারেটরের অডিট করার জন্য অডিটর নিয়োগের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন আছে। সরকারি মোবাইল অপারেটর টেলিটকের কাছে ৩জি স্পেপট্রাম অ্যাসাইনমেন্ট ফি বাবদ ১,৫৮৫ দশমিক ১৩ কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে। এ বকেয়া পরিশোধের জন্য বিটিআরসির পক্ষ থেকে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
বেনজীর আহমেদের অপর এক প্রশ্নের জবাবে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে সর্বনিম্ন কলরেট অননেট ও অফনেট এ ভ্যাট ছাড়া দশমিক ৪৫ পয়সা এবং সর্বোচ্চ ২ টাকা। মোবাইল সেলফোন কোম্পানিগুলো উল্লেখিত সীমার মধ্যে বিভিন্ন অফার ও প্যাকেজ সেবা প্রদান করে থাকে।
চট্টগ্রাম-১১ আসনের এমপি এম. আবদুল লতিফের লিখিত প্রশ্নের জবাবে মোস্তাফা জব্বার বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী দ্বিতীয় স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের ঘোষণা রয়েছে। এ কাজ বাস্তবায়নে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ প্রধান সমন্বয়কারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রনকারী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেড ইতিমধ্যে একটি প্রাথমিক কর্ম-পরিকল্পনা প্রস্তুত করে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-২ নির্মাণ ও উৎক্ষেপের উপর কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
সংরক্ষিত মহিলা এমপি বেগম আদিবা আনজুম মিতার প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ইন্টারনেটের মূল্য হ্রাসকরণ বর্তমান সরকারের এক অন্যতম সাফল্য যা দেশের অর্থনীতিতে সূদুর প্রসারী ভূমিকা রাখছে। সাধারণ জনগণের জন্য ইন্টারনেটের ব্যয় হ্রাস করার লক্ষ্যে সরকারের নানামুখী পদক্ষেপের ফলশ্রুতিতে ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথ এর মূল্য জনগণের ক্রয়সীমার মধ্যে এসেছে। দেশে ইন্টারনেটের প্রসার ও গতি বৃদ্ধি, ডিজিটাল ডিভাইড হ্রাস এবং আইটিভিত্তিক সার্ভিসসমূহের বিকাশ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
লিয়াকত আলী খোকা এমপির এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষেল অধীনে দেশের সকল বিভাগ ও জেলায় হাই-টেক পার্ক/সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে ঢাকা জেলার কাওরান বাজারে জনতা টাওয়ারে, যশোরের সদর উপজেলায় শেখ হাসিনা সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক, রাজশাহী বিভাগে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব হাই-টেক পার্ক, রাজশাহী, সিলেট বিভাগে সিলেট ইলেক্ট্রনিক্স সিটি এবং গাজীপুরে কালিয়াকৈরে বঙ্গবন্ধু হাই- টেক পার্ক স্থাপনের কাজ চলমান রয়েছে। এছাড়াও অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দেশের সকল বিভাগে হাই-টেক পার্ক/আইটি ভিলেজ স্থাপনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। আগামীতে জমি ও বরাদ্দ প্রাপ্তি সাপেক্ষে নারায়নগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে আইটি ভিলেজ/হাই-টেক পার্ক/সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক স্থাপনের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।



 

Show all comments
  • Md Abdullah Al Adil ২৯ এপ্রিল, ২০১৯, ৫:৪০ এএম says : 0
    Automotion system এ Revenue collect করুন।
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ