Inqilab Logo

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২০, ১৯ চৈত্র ১৪২৬, ০৭ শাবান ১৪৪১ হিজরী
শিরোনাম

জবাব খুঁজে ফিরছেন শ্রীলঙ্কার মুসলমানরা

ধনকুবেরের সন্তানরা বোমা হামলায় জড়িত হলো কেন?

নিউ ইয়র্ক টাইমস | প্রকাশের সময় : ২৯ এপ্রিল, ২০১৯, ১২:০৪ এএম

ইস্টার সানডেতে সকাল ৯টার সামান্য আগে ডেনমার্কের সেরা ধনী অ্যান্ডার্স হোলচ পভলসেন শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বোতে শাংরি-লা হোটেলের টেবিল ওয়ান রেস্তোরাঁয় পরিবারের সদস্যদের সাথে সকালের নাস্তা খাচ্ছিলেন। রেস্তোরাঁটি কমলা লেবু, আপেল ও না কাটা বড় আনারসের ক্রেট দিয়ে সাজানো ছিল। পভলসেনেরা অনতিদূরে একটি সমুদ্র প্রাচীরের মধ্যে আছড়ে পড়া ওশান রোলারগুলো দেখছিলেন।
একই সময়ে শ্রীলঙ্কার অন্যতম ধনী মসলা ব্যবসায়ী মোহাম্মদ ইউসুফ ইব্রাহিমের ছেলে ইলহাম ইব্রাহিম একটি এলিভেটরে টেবিল ওয়ানের দিকে নামছিলেন। মাথায় বেসবল ক্যাপ ও পিঠে এক বড় ব্যাকপ্যাক নিয়ে তিনি এক বন্ধুর সঙ্গে এলিভেটরে ঢুকেছিলেন। তারও মাথায় ছিল বেসবল ক্যাপ ও পিঠে ব্যাকপ্যাক। সিসিটিভিতে দেখা যায়, দরজা খোলার পূর্ব মুহূর্তে ইলহামের বন্ধু তাকে দীর্ঘ, সাদা হাসি উপহার দিচ্ছেন।
পভলসেন ও ইব্রাহিমের মধ্যে পার্থক্য ব্যাপক : একজন হচ্ছেন ডলারে বিলিওনেয়ার। আরেকজন রুপিতে বিলিওনেয়ার। একজন জিনস, টার্টল নেক ও সব ধরনের হিপ পোশাকের ব্যবসায়ে প্রভ‚ত সম্পদের অধিকারী হয়েছেন। আরেকজন সাদা গোলমরিচ, কালো গোল মরিচ ও ও সকল ধরনের মসলার ব্যবসায়ে বিপুল অর্থ সম্পদ অর্জন করেছেন। তাদের দু জনের বাস পৃথিবীর দুই প্রান্তে এবং মতাদর্শের দিক দিয়ে তারা দুই মেরুর অধিবাসী। তাদের মিল হচ্ছে তারা উভয়েই সুপরিচিত ও প্রশংসিত। তারা সৌভাগ্যবান, সাফল্য লাভকারী, দুজনই ব্যবসায়ী। যে ঘটনার তারা শিকার হয়েছেন তাতে তাদের ৫ সন্তান ইলহাম, ইনশাফ, আলমা, অ্যাগনেস ও আলফ্রেড বোমা বিস্ফোরণে টুকরো টুকরো হয়ে গেছে। এক পক্ষ আরেক পক্ষকে হত্যা করেছে।
২১ এপ্রিলে ভয়াবহ বোমা হামলা চালানো আত্মঘাতীদের মধ্যে রয়েছে মোহাম্মদ ইব্রাহিমের দুই ছেলে ইলাম ও তার বড় ভাই ইনশাফ। শ্রীলঙ্কার মুসলমানরা বেদনামথিত প্রশ্নের জবাব খুঁজছেন যে ধনকুবের মুসলিম ব্যবসায়ীর দুই সন্তান কেন এটা করল। শ্রীলঙ্কা মুসলিম পরিষদের ভাইস প্রেসিডেন্ট হিলমি আহমেদ বলেন, প্রত্যেকেই আমাকে এ প্রশ্ন করে যাচ্ছে। এর কোনো জবাব আমার জানা নেই।
কট্টর উগ্রপন্থী ওয়াহাবিদের বোমা হামলায় ২৫০ জন নিহত হওয়ার এক সপ্তাহ পর শ্রীলঙ্কা এখনো শোকাহত। বহু মানুুষের মুখেই ভয়ের ছাপ। কলম্বোর ওল্ড মুর স্ট্রিট, যেখানে ইশানা নামে ইব্রাহিমের মসলা ব্যবসার সাম্রাজ্য অবস্থিত ছিল, তা এখন নীরব। একই রকম অস্বাভাবিক নীরবতা বিরাজ করছে সেসব স্থানেও যেগুলো মানুষের ভিড়ে মুখর থাকার কথা।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ ৬টি দেশের তদন্তকারীরা হামলার শিকার হোটেল ও গির্জাগুলোতে সূত্র খুঁজে ফিরছেন যে অতীতে সহিংসতার কোনো রেকর্ড না থাকা একটি স্বল্প পরিচিত কট্টরপন্থী গ্রুপ কিভাবে সাম্প্রতিক সময়ের এই ভয়াবহতম হামলাগুলো চালাতে সক্ষম হল। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, বিপুল ধনসম্পদে ক্ষমতাশালী ইব্রাহিম ও পভলসেন-এর পথ কিভাবে চিরকালের মত আলাদা হয়ে গেল।
স্বপ্নদ্রষ্টা ব্যবসায়ী : শাংরি-লা কলম্বোর মনোরম গল ফেস ড্রাইভের পাশে অবস্থিত একটি ৩২ তলা হোটেল। হোটেলে বসেই ভারত মহাসাগর দেখা যায়। ছেলেমেয়েদের স্কুলে ইস্টার ছুটি উপলক্ষে শ্রীলংকা বেড়াতে এসে এ হোটেলে উঠেছিলেন পভলসেন পরিবার। ৪৬ বছর বয়স্ক পভলসেন বেস্টসেলার নামক তাদের পরিবার পরিচালিত বিশাল ফ্যাশন কোম্পানির প্রধান নির্বাহী। তার স্ত্রীর নাম অ্যানি। সাথে তাদের ৪ ছেলেমেয়ে, সবার বয়স ৫ থেকে ১৫-র মধ্যে।
সবার বড় আলমা। সে তার শ্রীলঙ্কা ভ্রমণের কিছু ছবি ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করেছিল। পভলসেনরা স্টাভট্রাপ শহরের একটি নির্জন স্থানে ৬শ’ বছরের পুরনো একটি ম্যানর হাউসে বাস করেন। তাদের আরো কয়েকটি ক্যাসল আছে। স্কটল্যান্ডে রয়েছে ২ লাখ ২০ হাজার একর জমি। ফোর্বস-এর হিসেব মতে, তিনি ৮শ’ কোটি ডলার সম্পদের মালিক। বেস্ট সেলার কর্মচারীদের মতে তিনি নিরহংকার ব্যক্তি, তারা তাকে ভয় পান না।
সোরেন জ্যাকবসেন নামক এক জীবনী লেখক পভলসেন পরিবারের ব্যাপারে লিখেছেন। তিনি বলেন, গত ২০ বছর ধরে নিরাপত্তার বিষয়টি এ পরিবারের কাছে অগ্রাধিকার লাভ করেছে। পভলসেন কেউ তার ছবি তুলুক তা পছন্দ করেন না। তিনি সামাজিক মাধ্যম পরিহার করে চলেন। জ্যাকবসেন বলেন, অ্যান্ডার্স হোলচ পভলসেন স্মার্ট ব্যক্তি নন। কিন্তু তিনি একজন খাঁটি, সৎ ও স্বপ্নদ্রষ্টা ব্যবসায়ী। সে কারণে আমরা তাকে সমর্থন করি। মোহাম্মদ ইব্রাহিম সম্পর্কেও বহু লোক প্রায় একই কথা বলেছে।
তিনি কখনো মুখ দেখাতেন না : মোহাম্মদ ইব্রাহিম তার আংটির কথা বলতে ভালোবাসতেন। ১৯৬০ দশকে তিনি ছিলেন শ্রীলঙ্কার ছোট শহর দেলথোটার এক অশিক্ষিত কিশোর। কলম্বো আসার বাস ভাড়াও ছিল না তার। শেষে তার আঙুলে থাকা প্রিয় আংটিটি বিক্রি করে সে টাকায় রাজধানীতে আসেন।
কলম্বোর মুসলিম এলাকায় তিনি রাঁধুনির কাজ করেন। তারপর ছিলেন পিঁয়াজ বিক্রেতা। তিনি তিল ও গোল মরিচ বিক্রি শুরু করেন। একটু একট করে তিনি মসলার ব্যবসা গড়ে তোলেন। শ্রীলঙ্কার আবহাওয়া ও উর্বর মাটিতে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি চাহিদার কিছু মসলা উৎপাদিত হয়। গত সপ্তাহ পর্যন্ত মোহাম্মদ ইব্রাহিম শ্রীলঙ্কার অন্যতম বৃহৎ মসলা রফতানিকারক ছিলেন। প্রতি বছর ভারতে ২ কোটি পাউন্ড মূল্যের গোলমরিচ রফতানি করতেন তিনি।
ব্যবসায়ীরা বলেন, তিনি বিপুল পরিমাণ জিনিস কিনতেন ও বিক্রি করতেন। তবে তিনি নিজেই সেগুলোর দরদাম ঠিক করতেন। তিনি কলম্বো ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ছিলেন। বাস করতেন কলম্বোর উপকন্ঠে দশ লাখ ডলার মূল্যের এক ম্যানশনে। তার গাড়িবহরে ছিল একটি বিএমডব্লিইউসহ ৬টি গাড়ি।
পরিবারের সদস্যরা বলেন, প্রায় ৭০ বছর বয়স্ক ইব্রাহিম একজন নিরলস কর্মী। ভোর ৪টায় ঘুম থেকে উঠে মসজিদে গিয়ে ফজরের নামাজ আদায় করতেন। তারপর বাড়িতে সাধারণ নাস্তা খেতেন। বাকি দিনটা কাটাতেন তার মসলা কারখানায়। গোলমরিচের গুঁড়ো দুই আঙুলের মাথায় ঘষে দেখতেন তার পণ্যের মান ঠিক আছে কিনা। ওল্ড মুর স্ট্রিটে দোকানপাটের মাঝে ইব্রাহিমের অফিসটি যেখানে বাতাসে মিশে থাকে জিরা, লংকা ও দারুচিনির গন্ধ।
খেজুর আমদানিকারক এ.বি. কালদিন বলেন, ইব্রাহিম সবাইকে ভাই বলে সম্বোধন করেন। তিনি রমজানের সময় তার উদারতার কথা স্মরণ করেন। তিনি যে একজন ভালো মানুষ সে কথা তদন্তকারীরাও স্বীকার করেছেন। প্রতিবেশিরা দেখেছেন, তিনি ওল্ড মুর স্ট্রিট দিয়ে মাথা নীচু করে হাঁটেন। তার দৃষ্টি থাকে মাটির দিকে।
তার বড় ছেলে ইনসাফ ছিল চটকদার স্বভাবের। সাধারণ শ্রীলঙ্কানদের চেয়ে দীর্ঘদেহী । সে পেশিবহুল ও প্রায় ৫ ফুট ১১ ইঞ্চি লম্বা। একটি নতুন ল্যান্ড ক্রুজার চালাত সে। তার ডাক নাম ছিল কুড্ডা বা পাউডার। কলম্বোর অন্যতম মর্যাদাজনক স্কুল ডি.এস. সেনানায়েক-এ তিনি পড়াশোনা করেন। সুশ্রী চেহারার এ যুবকের মুখে দাড়ি ছিল।
ইনশাফকে ব্যবসার দায়িত্ব নেয়ার জন্য গড়ে তোলা হচ্ছিল। তার বাবা তামার পাইপ কারখানার সাথে তাকে যুক্ত করেন। ২০১৬ সালের এক ছবিতে দেখা যায়, সে ও তার বাবা একজন মন্ত্রীর কাছ থেকে পুরস্কার গ্রহণ করছেন। শ্রীলঙ্কা সরকারের কাছ থেকে মোহাম্মদ ইব্রাহিম কয়েকবার পুরস্কার পেয়েছেন।
ইব্রাহিমের দ্বিতীয় ছেলে ছিলেন ইলহাম। তার বয়স ছিল ৩১। ওল্ড মুর স্ট্রিটের ব্যবসায়ীরা কমই দেখেছেন তাকে। মনে হয়, কলম্বো থেকে কয়েক ঘণ্টার দূরত্বে ম্যাটেলে গোল মরিচের খামার দেখাশোনা করতেন তিনি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক আত্মীয় বলেন, ইলহাম কখনোই মানুষকে তার মুখ দেখাতেন না। ইব্রাহিম পরিবারের পরিচিতদের সামনা সামনি হতে তিনি বিব্রত বোধ করতেন। তিনি স্বস্তিকর ছিলেন না।
‘শক্ত হও’ : এটা পরিষ্কার নয় যে কলম্বোতে পভলসেনরা কয়দিন কাটিয়েছিলেন। আলমার ইনস্টগ্রাম পোস্ট থেকে মনে হয় সে কমপক্ষে ৪দিন শ্রীলঙ্কা ছিল। ইস্টারের আগে বৃহস্পতিবার নেয়া এক ছবিতে লম্বা পামগাছ ঘেরা সুইমিংপুলে তার তিন ছোট ভাই-বোনকে দেখা যায়। ছবির ক্যাপশনে লেখা আছে- তিন ক্ষুদে প্রিয়জন।
সাংবাদিকদের সাথে কথা বলার সময় তার পরিবারের এক সদস্য জানান, ইস্টার হামলার আগের রাতে ইনশাফ জাম্বিয়া যাচ্ছে বলে তার স্ত্রীকে জানায়। বিদায় বলে গাড়িতে ওঠার আগে সামান্য একটু সময় ব্যয় করে স্ত্রীর উদ্দেশ্যে সে বলে ‘শক্ত হও।’ তারপর সে কলম্বোর সিনামন গ্র্যান্ড হোটেলে ওঠে। তার ভাই ইলহাম ওঠে শাংরি-লা হোটেলে। ইনশাফ ভুয়া পরিচয়পত্র ব্যবহার করে। কিন্তু ইলহাম আসল পরিচয়পত্রই দেখায়।
শাংরি-লার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ইলহাম এলিভেটরে প্রবেশ করছে। পরে আরেক ব্যক্তির সাথে সে টেবিল ওয়ান রেস্তোরাঁয় যায় যাকে এখন বোমা হামলার সন্দেহভাজন মূল ব্যক্তি জাহারান হাশিম বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। তারা কিভাবে মিলিত হল, এ তথ্য সন্ধান করতে গিয়ে অনেক কথা জানা গেছে ও আরো অনেক জানার রয়েছে।
কর্তৃপক্ষ বলেন, জাহারান একজন উগ্রপন্থী মুসলিম প্রচারক ছিল। পূর্ব শ্রীলঙ্কা থেকে সে ইসলামিক স্টেটে যোগদানেচ্ছু সদস্য সংগ্রহ করত। ইউটিউবে জ্বালাময়ী ভিডিও পোস্ট করে সে কিছু অনুসারী তৈরি করেছিল। ইলহাম যেখানে পারিবারিক গোলমরিচ খামার ব্যবস্থাপনায় নিয়োজিত ছিল তার ৩০ মাইল দূরবর্তী এক শহরে জাহারান অমুসলিমদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ মূূলক প্রচারণা চালাচ্ছিল। এ সময় একই এলাকায় শ্রীলঙ্কার বৌদ্ধ ও মুসলিমদের মধ্যে খারাপ সম্পর্ক বিরাজ করছিল। মুসলিমরা শ্রীলংকার জনসংখ্যার ১০ শতাংশ।
বৌদ্ধ ভিক্ষুরা দাঙ্গায় নেতৃত্ব দিয়েছিল। এতে বেশ কিছু মুসলিম নিহত হয়। পুলিশ কর্মকর্তারা বলেন, জাহারান এর মধ্যে জড়িয়ে পড়ে এবং তরুণদের বৌদ্ধ মূর্তি অবমাননা করতে উৎসাহিত করে। জাহারান ও ইলহামের মধ্যে কিভাবে সাক্ষাত ঘটে তা স্পষ্ট নয়। ইব্রাহিমের পরিবারের দূরবর্তী সদস্যরা বলেন, ইলহাম পরিবারের অন্যদের চেয়ে বেশি ধর্মপ্রাণ ছিল। তার তরুণী স্ত্রী ফাতিমা সারা মুখ ঢেকে রাখত যা শ্রীলঙ্কার নারীদের মধ্যে ছিল অস্বাভাবিক।
হতে পারে ইলহাম আধ্যাত্মিক দিক নির্দেশনা পেতে জাহারানের সাথে যোগাযোগ করেছিল। জাহারান তাকে সাহায্য করছিল। অন্যদিকে জাহারান তার প্রাণসংহারী পরিকল্পনার জন্য ইব্রাহিম পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে আর্থিক সহায়তা পেতে হয়ত তার সাথে সম্পর্ক গড়ে তুলেছিল।
মা সন্তানদের উড়িয়ে দিলেন : ইস্টার সানডের দিনটাতে কলম্বোর আকাশ ছিল পরিষ্কার। সূর্য আলো ছড়াচ্ছিল। সকল বড় হোটেল ও গির্জায় ছিল মানুষের ভিড়। শাংরি-লার টেবিল ওয়ান রেস্তোরাঁ অতিথিতে পূর্ণ ছিল। তারা বসেছিলেন দীর্ঘ সারিতে সবুজ কুশনের চেয়ারে। ঘরগুলো ছিল জানালা দিয়ে আসা আলোয় উজ্জ্বল। যেসব খাবার দেয়া হচ্ছিল তার মধ্যে ছিল ইংলিশ ব্রেকফাস্ট সসেজ, ফিশ কারি ও স্ট্রিং হপারস (শ্রীলঙ্কায় জনপ্রিয় স্পঞ্জি রাইস নুডলস)।
ইলহাম ও জাহারান দুই জন দুই দিক দিয়ে রেস্তোরাঁয় ঢোকে। সকাল ৮টা ৫০ মিনিটে বোমা বিস্ফোরণে নিজেদের উড়িয়ে দেয় তারা। শ্রীলঙ্কা প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পররাষ্ট্র নীতি বিশেষজ্ঞ আসাঙ্গা আবেয়াগুনাসেকারা তার পরিবারের সাথে নয় তলায় অবস্থান করছিলেন। তিনি বলেন, গোটা ভবনটি কেঁপে ওঠে। তিনি তার স্ত্রী ও কম বয়সী দুই ছেলেকে নিয়ে ফায়ার এস্কেপ দিয়ে নিচে নামেন। নিচে গুরুতর আহত মানুষদের আনা হচ্ছিল। মাটি ছিল রক্তাপ্লুত। তিনি দেখলেন, এক পশ্চিমা নারীকে বয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তার দেহে প্রাণ ছিল না।
আবেয়াগুনাসেকারা সে সময় পভলসেন বা তার পরিবারকে দেখেছেন কিনা মনে করতে পারেননি। শাংরি-লাতে পভলসেনের ৩ সন্তানসহ ৩৩ জন নিহত হন। এটা জানা যায়নি যে কিভাবে পরিবারের বাকি ৩ জন বেঁচে গেলেন। কয়েক ঘণ্টা পর কলম্বোতে শ্রীলঙ্কার ন্যাশনাল হাসপাতালে নেয়া ছবিতে দেখা যায়, পভলসেন কানে মোবাইল চেপে কথা বলছেন। তার শার্ট রক্তাক্ত ও বাম চোখ ফুলে চোখ ঢেকে ফেলেছে। যখন একজন শ্রীলঙ্কান সাংবাদিক তার সাথে কথা বলতে গেলে তিনি মাথা নেড়ে মানা করেন।
সিসিটিভির ফুটেজে দেখা যায়, বেসবল ক্যাপ মাথায় ও ব্যাকপ্যাক পিঠে নিয়ে ইনশাফ বুফে রুমে ঢুকছে। কিন্তু সে থেমে যায়। কয়েকবার তাকে এগোতে ও পিছোতে দেখা যায়। পরিবারের এক সদস্য বলেন, সে স্পষ্টই এতে আগ্রহী ছিল না। ইলহামের চেয়ে মানুষের সাথে তার বেশি যোগাযোগ ছিল। যাহোক, ইনশাফ দ্বিধা কাটিয়ে ওঠে। তারপর বিস্ফোরণ ঘটিয়ে নিজেকে ও আরো ২০ জনকে হত্যা করে।
কয়েক মিনিটের মধ্যে ৭ জন আত্মঘাতী বোমা হামলাকারী নিজেদের পিঠের ব্যাকপ্যাকে রাখা শক্তিশালী বিস্ফোরক দিয়ে বিভিন্ন স্থানে ৩টি গির্জা ও ৩টি হোটেলে বিস্ফোরণ ঘটায়। ইলহাম শাংরি-লায় তার প্রকৃত পরিচয়পত্র ব্যবহার করায় পুলিশ দ্রুত তাকে সনাক্ত করে। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পুলিশ ইব্রাহিম ম্যানশনে হানা দেয়।
এক মহিলা দরজায় তাদের অভ্যর্থনা জানায়। সে ছিল ইলহামের স্ত্রী ফাতিমা। সে তাদের দেখে ঘুরে দাঁড়ায় ও সিঁড়ি বেয়ে উপরে ওঠে। সেখানে তার ৩ সন্তান ছিল। সে বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে নিজেকে উড়িয়ে দেয়। তার ৩ সন্তান ও ৩ পুলিশ অফিসার নিহত হন। তার সন্তানরা ছিল ৫, ৪ বছর ও ৯ মাস বয়সী। পুলিশ কর্মকর্তারা বলেন, ফাতিমা সম্ভবত গর্ভবতী ছিলেন।
পুলিশ মোহাম্মদ ইব্রাহিমকে হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যায়। পরদিন পভলসেন, তার স্ত্রী ও বেঁচে যাওয়া শিশু সন্তান অ্যাসট্রিড একটি ব্যক্তিগত জেট বিমানে কলম্বো ত্যাগ করেন।
বৃহস্পতিবার এক হাজারেরও বেশি লোক পভলসেনের শহর স্টাভট্রাপে মশাল মিছিল করে তার বাড়ি পর্যন্ত যান। কিছু লোক তাদের চোখের পানি রোধ করতে পারেননি। সুপারমার্কেটে লোকজনকে কাঁদতে দেখা যায়। মোহাম্মদ ইব্রাহিম এখনো পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন। তার সহযোগীদের বেশিরভাগই বলেন, তাদের বিশ্বাস যে আত্মঘাতী বোমা হামলার ব্যাপারে তিনি কিছুই জানেন না।
হিলমি আহমেদ বলেন, মোহাম্মদ ইব্রাহিমের বয়স ৭০। তাকে নির্যাতন করা হতে পারে। তিনি বলেন, যদি দরকার হয় তারা তা করতে পারে। তবে আমি নিশ্চিত যে তিনি কিছু জানেন না।



 

Show all comments
  • Md Saiful Islam ২৯ এপ্রিল, ২০১৯, ১:২১ এএম says : 0
    আমরা এর নিন্দা জানাই
    Total Reply(0) Reply
  • Habib Rohman ২৯ এপ্রিল, ২০১৯, ১:২২ এএম says : 0
    আল্লাহ তুমি আমাদের মুসলিমদের রক্ষা কর
    Total Reply(0) Reply
  • MD Zamir Uddin ২৯ এপ্রিল, ২০১৯, ১:২২ এএম says : 0
    হামলা কারিরা মুসলমানের কেউনা তারা জাহান্নামী।
    Total Reply(0) Reply
  • Jashim Uddin ২৯ এপ্রিল, ২০১৯, ১:২২ এএম says : 0
    বিশ্ব সন্ত্রাসী কিট ইস্রায়েল আমেরিকা ও ইন্ডিয়ার পরিকল্পিত হামলা, মুসলমানদের সন্ত্রাসী অপবাদ দেয়ার জন্য, মুসলমানদের লেবাস পড়লেই সে মুসলমান নয়, তাছাড়া আইএস (ইস্রায়েল স্ট্যাট) এর পৃষ্ঠপোশকও তারা,বিশ্ব মুসলমানদের পক্ষে আমরা এই নারকীয় হামলায় ব্যথিত ও এই হামলার নিন্দা জানাচ্ছি,
    Total Reply(0) Reply
  • Duniar Musafir ২৯ এপ্রিল, ২০১৯, ১:২২ এএম says : 0
    ইসলাম এরকম নিরীহ জনসাধারণের উপর হামলা সমর্থন করে না।
    Total Reply(0) Reply
  • Mizan Rahman ২৯ এপ্রিল, ২০১৯, ১:২৩ এএম says : 0
    আল্লাহ তুমি সবাইকে হেদায়েত দাও।
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: শ্রীলঙ্কা

২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২০

আরও
আরও পড়ুন