Inqilab Logo

ঢাকা, মঙ্গলবার ১৮ জুন ২০১৯, ৪ আষাঢ় ১৪২৬, ১৪ শাওয়াল ১৪৪০ হিজরী।

সরকার গণমাধ্যম মালিকানা নিয়ন্ত্রণ করছে--- মির্জা ফখরুল

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ২৯ এপ্রিল, ২০১৯, ১২:০৪ এএম

সরকার সাংবাদিকদের বিভক্ত করে গণমাধ্যমের মালিকানা নিয়ন্ত্রণ করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, এই ফ্যাসিবাদী সরকার রাষ্ট্রযন্ত্রগুলোকে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে সব ব্যবস্থা করছে। বিচার ব্যবস্থাকে পুরোপুরিভাবে দখল করে নিয়েছে, তারা প্রশাসনকে দখল করে নিয়েছে। এখন গণমাধ্যমে যারা কাজ করছে তার মালিকানা পুরোপুরিভাবে তারা (সরকার) নিয়ন্ত্রণ করছে। এমনকি আপনাদের (সাংবাদিকদের) যে সংগঠন সেখানেও বিভক্তি করে দিয়ে তারা সেখানেও পুরোপুরিভাবে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে। গতকাল (রোববার) জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) বার্ষিক সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। 

সাংবাদিকরা চাকুরিচ্যুত হচ্ছেন অভিযোগ করে মির্জা ফখরুল বলেন, আমি খুব ব্যক্তিগতভাবে ভালো করে জানি, বহু সংবাদ কর্মীর কাজ নেই, তারা বেকার হয়ে গেছেন। বহু সংবাদকর্মী সম্পর্কে জানি, তারা অত্যন্ত আর্থিক কষ্টে আছেন। এটাই হচ্ছে এখনকার এই রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার এই রাজনীতির পরিণতি। নিজ দলের নেতাকর্মীদের অবস্থা তুলে ধরে তিনি বলেন, আমাদের বহু ছেলে যারা ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল বা বিএনপি করে, তারা নিজ নিজ এলাকা ছেড়ে ঢাকায় রিকসা চালাচ্ছে, হকারের কাজ করছে। অনেকে কাজ না পেয়ে আত্মহত্যা করছে। এটাই বাস্তবতা।
এই সঙ্কটের জন্য আওয়ামী লীগকে দায়ী করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আজকের এই সংকট আওয়ামী লীগ সৃষ্টি করেছে। এটা নতুন নয়। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ছিলো তখন এই অবস্থা তৈরি করেছিলো। ওই সময়ে ক্ষমতাসীন দল থেকে একটি বড় অংশ বেরিয়ে গিয়ে জাসদ তৈরি করেছিলো, তারা সরকারের বিরোধিতা করেছিলো। ওই সময়ে জাসদের অসংখ্য নেতাকর্মীকে হত্যা করা হয়েছিলো, যারা ওই সময়ে বাম রাজনীতি করেছে স্বাধীনতার সংগ্রামের অংশ নিয়েছিলেন তাদের অনেককেই হত্যা করা হয়েছিলো। তখন যারা সত্য কথা বলতেন তাদেরকেও কারাগারে নেয়া হতো এবং বিভিন্নভাবে নির্যাতন-নিপীড়ন করা হতো। এমনই সমস্যা হয়েছিলো স্বাধীনতা পরে পরেই যে, প্রায় সবাই কলাবোরেটর বানিয়ে দিচ্ছিল। তখন হলিডে‘র প্রখ্যাত বরণ্যে সম্পাদক এনায়েতুল্লাহ খান নিজের পত্রিকায় লেখেছিলেন যে, তাহলে কী সাড়ে ৬ কোটি মানুষই কলাবোরেটর? আমরা আওয়ামী লীগকে ভালোভাবে আমরা চিনি, আমরা সমস্ত অভিজ্ঞতা নিয়ে চিনেছি, আমরা জীবন দিয়ে চিনেছি-আমরা জানি আওয়ামী লীগ কি?
মির্জা ফখরুল বলেন, গণতন্ত্র কখনো সুষ্ঠু ও অবাধ হতে পারে না, যদি একটি শক্তিশালী, মুক্ত ও স্বাধীন গণমাধ্যম না থাকে। দুর্ভাগ্য, স্বাধীনতার ৪৮ বছর পার হলেও বাংলাদেশে গণতন্ত্র স্বাধীন করতে পারিনি এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতাও আমরা অর্জন করতে পারিনি। এটা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। কারণ, দেশে গণতন্ত্র না থাকলে সংবাদমাধ্যমেও স্বাধীনতা থাকবে না।
বিএনপির এই নেতা বলেন, রাজনীতিবিদেরা সব সময় খারাপ নন। রাজনীতিবিদেরা সবসময় শুধু স্বার্থের জন্য কাজ করেন না। রাজনীতিবিদেরা ত্যাগ স্বীকার করেন। আর ত্যাগ স্বীকার করেন বলেই বড় জিনিস অর্জন করা সম্ভব হয়। সাংবাদিকদের উদ্দেশে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমরা যেমন আপনাদের সমস্যা বুঝি। ঠিক একইভাবে আমাদের সমস্যাগুলো আপনারা অনুধাবন করার চেষ্টা করবেন। সাংবাদিকেরা পত্রিকায় এক কলাম লিখে দিলেই আমার সারা জীবনের ক্যারিয়ার শেষ হয়ে যেতে পারে। তার আগে আপনি আমার সঙ্গে কথা বলবেন। কিন্তু অনেকে কষ্ট করে সেটুকুও করেন না। বোঝার চেষ্টা করেন না। নিজের একটা ধারণা থেকে সেটা বলে দেন। এটা দল, রাজনীতি এবং দেশের যে অবস্থা, সে অবস্থার ক্ষতি করছে।
কারাবন্দি থালেদা জিয়া প্রসঙ্গ টেনে মির্জা ফখরুল বলেন, যিনি আমাদের গণতন্ত্র হাতে নিয়ে চলেছেন সেই দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আজকে কারাগারে ১৪ মাস ধরে। সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাকে জোর করে আটক করে রাখা হয়েছে। আমরা বার বার কথা বলছি, আন্দোলন করছি, চেষ্টা করছি, কাজ করছি।
নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ন্যায়ের জয় অবশ্যই হবে। অন্যায় পরাজিত হবে। সত্যের জয় হবেই। আর বাংলাদেশের যে রাজনৈতিক ইতিহাস এবং জনগণের সংগ্রামের যে ইতিহাস, সেটা কখনো ব্যর্থ হয়নি। জয়ী আমরা হবোই। অনুষ্ঠানে মরহুম সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেন তিনি।
শফিউল আলম দোলন, আহমেদ মতিউর রহমান ও জিএম আশেকুল্লাহর পরিচালনায় কাউন্সিলে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর মজিবুর রহমান, বিএফইউজের সভাপতি রুহুল আমিন গাজী, মহাসচিব এম আবদুল্লাহ, বিএফইউজের সাবেক মহাসচিব এমএ আজিজ, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি কামালউদ্দিন সবুজ, ইউনিয়নসমূহের মধ্যে ঢাকার কাদের গনি চৌধুরী, চট্টগ্রামের শাহ নেওয়াজ, কুমিল্লার রমিজ খান, কক্সবাজারের মুহাম্মদ নুরুল ইসলাম, দিনাজপুরের জিএম মঈনুদ্দিন হিরু, কুষ্টিয়ার আবুল বাশার বাচ্চু, ময়মনসিংহের এম আইয়ুব আলী, খুলনার রাশেদুল ইসলাম, গাজীপুরের এইচএম দেলওয়ার, বগুড়ার মির্জা সেলিম রেজা, কাফী কামাল, তরিকুল ইসলাম তারেক প্রমূখ বক্তব্য রাখেন।#



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: মির্জা ফখরুল


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ