Inqilab Logo

ঢাকা, সোমবার ১৭ জুন ২০১৯, ৩ আষাঢ় ১৪২৬, ১৩ শাওয়াল ১৪৪০ হিজরী।
শিরোনাম

দূষণের শঙ্কায় হালদা

হাটহাজারীতে তেলবাহী ট্রেন লাইনচ্যুত

আসলাম পারভেজ, হাটহাজারী (চট্টগ্রাম) থেকে | প্রকাশের সময় : ৩০ এপ্রিল, ২০১৯, ১২:০৪ এএম

হাটহাজারী পৌরসভার মধ্যম দেওয়াননগর আজিজিয়া মাবুদিয়া হোসাইন মাদরাসার সামনে মরা ছড়া নামক ব্রিজে চট্টগ্রাম থেকে হাটহাজারী ১১ মাইল ১০০ মেগাওয়াড বিদ্যুৎ পিকিং কেন্দ্রের তেলবাহী ট্রেনের তিনটি ওয়াগন লাইনচ্যুত হয়েছে।
এর মধ্যে একটি ওয়াগন মরা ছড়া ব্রিজ ভেঙে খালে পড়ে। এতে প্রচুর পরিমাণে তেল পড়ে যায়। এ ঘটনায় কোন হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। গতকাল সোমবার বিকেল ৩টার দিকে পৌরসভার দেওয়ান নগর এলাকায় মরা ছড়া ব্রিজ রেল লাইনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
সরেজমিনে দেখা যায়, চট্টগ্রাম থেকে আসা তেলবাহী ট্রেনটি ৭টি বগির প্রতিটি বগিতে ২৪ হাজার লিটার তেল রয়েছে বলে জানা যায়। এ সময় ট্রেনটি উক্ত স্থানে আসলে হঠাৎ বিকট শব্দ হয়। এতে তিনটি ওয়াগন লাইনচ্যুত হয়ে পড়ার পর সেতুর গার্ডার ভেঙে একটি ওয়াগন খালে পড়ে গেছে। এতে তেল ছড়িয়ে পড়ে। এরপর থেকে চট্টগ্রাম-নাজিরহাট রেললাইনে রেল চলাচল বন্ধ রয়েছে। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে তাৎক্ষনিকভাবে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ মডেল থানার পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিসের একটি টিম। পড়ে যাওয়া তেল গুলো মরা ছড়া দিয়ে হালদা নদীতে প্রবেশ করতে না পারার জন্য মরা ছড়ার বিভিন্নস্থানে বাধ দিয়ে পানি আটকে রাখা হয়।
এসময় ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন হালদা নদীর গবেষক ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক মনজুরুল কিবরিয়া, রেলওয়ের চট্টগ্রাম বিভাগের কর্মকর্তারা, হাটহাজারী মডেল থানার ওসি বেলাল উদ্দীন জাহাংগীর, চট্টগ্রাম রেলওয়ে থানার ওসি মোস্তাফিজ ভুইয়া, ১১মাইল পিডিবির ম্যানেজার শফিউদ্দীন আহমেদ, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নিয়াজ মোর্শেদসহ অনেকেই ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়এবং অধ্যাপক মনজুরুল কিবরিয়া, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নিয়াজ মোশেদ এর সহযোগীতায় পৌরসভার ৩০/৩৫ জন শ্রমিক দিয়ে দুর্ঘটনাস্থল থেকে আনুমানিক ২ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ছড়ার বিভিন্ন স্থানে বাঁধ নির্মাণ করা হচ্ছে, যাতে হালদা নদীতে ডিম ছাড়ার এ মৌসুমে তেল প্রবেশ করতে না পারে।
তেলবাহী ট্রেনের চালক লোকো মাস্টার নাছির উদ্দীন বলেন, তেলবাহী ট্রেনটি চালিয়ে আসার সময় ব্রিজের সেখানে একটি আওয়াজ হলে দেখি মাঝখানের তিনটি বগি লাইনচ্যুত হয়ে একটি মরা ছড়ার মধ্য পড়ে যায়।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক মনজুরুল কিবরিয়া বলেন, যদি এ তেল সমুহ হালদায় প্রবেশ করে তাহলেই ডিম ছাড়ার শেষ সময় বড় ক্ষতি হয়ে যাবে। কোনভাবে এ তেল হালদায় প্রবেশ করতে না পারে সে ব্যবস্থায় করতে হবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মাদ রুহুল আমীন বলেন, তেলবাহী একটি ট্রেন পৌরসভার মধ্যম দেওয়াননগর এলাকায় মরা ছড়ার ব্রিজ ভেঙে পড়ার খবর পেয়ে ছুটে আসি, দেখি প্রচুর পরিমাণের তেল পানিতে পড়ে প্রায় এক কিলোমিটার পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। তা হালদা নদীতে প্রবেশ করতে না পারার জন্য পৌরসভার শ্রমিক দিয়ে মরা ছড়ায় বাধ দিয়ে পানি আটকে রেখে পাম্প মেশিন দিয়ে তা সরিয়ে ফেলানো হচ্ছে। যাতে তা হালদায় কোনভাবেই যেন প্রবেশ করতে না পারে।
এরপর চট্টগ্রাম-নাজিরহাট রেললাইনটি সচল করতে চট্টগ্রাম থেকে একটি রিলিফ ট্রেন রওনা দিয়েছে। লাকসাম থেকে আরেকটি রিলিফ ট্রেনকে দুর্ঘটনাস্থলে আসতে বলা হয়েছে। এছাড়া রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: দূষণ

২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯

আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ