Inqilab Logo

ঢাকা, শনিবার ২০ জুলাই ২০১৯, ০৫ শ্রাবণ ১৪২৬, ১৬ যিলক্বদ ১৪৪০ হিজরী।

বড় স্বপ্ন নিয়েই শেষ বিশ্বকাপে মাশরাফি

স্পোর্টস রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ৩০ এপ্রিল, ২০১৯, ১২:০৪ এএম

একটি বার্তা মিরপুরের হোম অব ক্রিকেটের পরিবেশ চাঙ্গা করে রেখেছিল সকাল থেকেই। একে একে শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে যখন পা পড়ল বিশ্বকাপের সারথীদের, সেই আবহ আরো রঙিন হয়ে ধরা দিল বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে। ক্যাম্পে শেষ দিন বলেই অনুশীলনে নেই সেই প্রস্তুতির সাজ সাজ রব, তার বদলে ঠাঁই করে নিয়েছে বিদায় আর নতুন শুরুর এক আবহ। আর তাতে রঙ ঢাললেন দলপতি মাশরাফি বিন মুর্তজা। হালকা অনুশীলন শেষে যখন ডাক পড়ল সংবাদ সম্মেলন কক্ষে, সাংবাদিকরাও যেন তাতে বাজালেন বিদায়ের রাগিনী। শুরুর প্রশ্নেই প্রশ্নকর্তাকে শুধরে দিলেন মাশরাফি, ‘“সম্ভবত” নয়, এটাই আমার শেষ বিশ্বকাপ।’

২০১৯ বিশ্বকাপই যে তাঁর ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ- এটা মোটামুটি সবারই জানা। যেহেতু নিজে এখনও মুখ ফুটে বলেন নি, তাই প্রশ্নকর্তা হয়তো একটু ফাঁক রেখেছিলেন তাঁর প্রশ্নে। কিন্তু বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়ক ব্যাপারটা পুরোপুরি ‘নিশ্চিত’ই করে দিলেন। ২০২৩ সালের পরের বিশ্বকাপটা খেলার মতো শারীরিক সক্ষমতা, বয়স কোনোটিই থাকবে না তাঁর। তাই নিজের শেষ বিশ্বকাপটি মাশরাফি যে স্মরণীয় করে রাখতে চাইবেন, সেটি না বললেও চলছে। কিন্তু অধিনায়ক নিজেই জানিয়েছেন- শেষ বিশ্বকাপ নিয়ে আলাদা কোনো প্রস্তুতি নেই তাঁর!

বিশ্বকাপ তাঁর জন্য নতুন কিছু নয়। এটি অধিনায়ক হিসেবে তাঁর দ্বিতীয় বিশ্বকাপ। দলের সদস্য হিসেবে খেলেছেন ২০০৩ আর ২০০৭ বিশ্বকাপ। মাঝে দেশের মাটিতে ২০১১ বিশ্বকাপটা কেবল খেলা হয়নি চোটের দুর্ভাগ্যে পড়ে। বিশ্বকাপ খেলার অভিজ্ঞতা থেকেই জানালেন আলাদা করে এ উপলক্ষে প্রস্তুতিটা নিয়ে লাভ নেই কেন, ‘আলাদা করে তৈরি হওয়ার কিছু নেই। আলাদা করে নিজেকে তৈরি করাটাও একধরনের চাপ। আমার কাছে মনে হয় না আলাদা করে কিছু প্রস্তুতি নিয়েও আমি ওখানে কিছু করতে পারব! সেখানে খেলোয়াড় হিসেবেই পারফরম করার চেষ্টা করতে হবে। অবশ্যই অধিনায়কত্বটা সেখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হবে। আমার যে দায়িত্বগুলো আছে, সেগুলি ঠিকঠাক করার চেষ্টা করব।’

শেষ বিশ্বকাপ তো বটেই, বিশ্বকাপ দিয়ে তার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানানোর সম্ভাবনাও জোরালো। এমন উপলক্ষকে রাঙাতে সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ দেখছেন অধিনায়ক। নিজের শেষ বিশ্বকাপের শিরোপা জয়ের স্বপ্ন দেখেন মাশরাফি? এমন প্রশ্নের উত্তরটা তিনি দিলেন যুক্তি দিয়ে। লক্ষ্যটা কঠিন হলেও সেটি যে দূরতম কোনো বিষয় নয়, সেটি জানালেন। একই সঙ্গে এও জানালেন, বিশ্বকাপের মতো শিরোপা নিজেদের হাতের মুঠোয় নিয়ে আসার পথে বাংলাদেশ দল ঠিক কোন কোন জায়গায় পিছিয়ে, ‘দেখুন এই দল বিশ্বকাপ জয়ের সামর্থ্য রাখে। কিন্তু বড় কোনো ট্রফি জয় একটা অভ্যাসের ব্যাপার। এশিয়া কাপের শিরোপাটা জিতলে এই জায়গায় অনেকটা পথ এগিয়ে যেতাম। কিন্তু কেন যেন আমরা একটা জায়গায় আটকে আছি।’

১৯৯৯ থেকে বিশ্বকাপ খেলছে বাংলাদেশ। প্রথমবারই পাকিস্তানকে হারিয়ে চমকে দিয়েছিল। ২০০৩ বিশ্বকাপ ছিল ভুলে যাওয়ার মতো। ২০০৭ সালে বাংলাদেশ তখনকার হট ফেভারিট ভারতকে হারিয়ে সুপার সিক্সে উঠে হারায় দক্ষিণ আফ্রিকাকেও। ২০১১ সালে ঘরের মাঠে প্রত্যাশা মেটেনি। ২০১৫ সালে সর্বশেষ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে বাংলাদেশ।

আইসিসি ইভেন্টে ২০১৭ সালে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে সেমিফাইনাল খেলে বাংলাদেশ। এশিয়া মঞ্চে আরও বড় সাফল্য আছে বাংলাদেশের। তিনবার ফাইনালে উঠলেও অবশ্য কাপ জেতা হয়নি একবারও। এশিয়া কাপ ছাড়াও একটি দুটি ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে উঠেও কাপ জেতা হয়নি বাংলাদেশের।

সব দায়িত্ব ঠিকমতো পালন করলে কতদূর যেতে পারে বাংলাদেশ। অধিনায়ক মনে করছেন টুর্নামেন্টের সংস্করণ কঠিন হওয়ায় সেমিফাইনালে যাওয়াটাই হবে বড় চ্যালেঞ্জ। আপাতত সেই চ্যালেঞ্জ জিততে চাইছেন তারা, ‘এই মুহূর্তে মনে হচ্ছে আমাদের সেমিফাইনালে যাওয়া খুব বড় চ্যালেঞ্জ। এর আগে যেটা বলতাম যে, সেমিফাইনাল গেলে একটা একটা ম্যাচ। এখনো তাই বলতে হচ্ছে। সেমিফাইনালে যদি যেতে পারি, অনেক বড় অর্জন হবে। কারণ এবারের ফরম্যাট সেই ৯২’র মত, যেটা খুব কঠিন। সেমিফাইনালে যাওয়া অনেক বড় অর্জন। আমরা অনেকবার সেমিফাইনাল, কোয়ার্টার ফাইনালে গিয়ে হেরেছি। এবার সেমিফাইনালটা যদি যাই, তাহলে বড় অর্জন হবে। তারপর ঐ নির্দিষ্ট দিনে ভালো খেলা গুরুত্বপূর্ণ।’

দশ দলের বিশ্বকাপে সবাই সবার সঙ্গে খেলবে। ম্যাচ আছে তাই নয়টি। লম্বা টুর্নামেন্ট হওয়ায় আসবে উত্থান পতন। এসব পরিস্থিতি সামলাতে মানসিক দৃঢ়তার বিকল্প দেখছেন না অধিনায়ক, ‘আমার মনে হয় প্রতিটা দল খারাপ ভালো দিয়ে যাবে। এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ যে পরের ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ানো। এটা নিয়ে আমরা আলোচনাও করেছি। বিশ্বকাপে এক মাসে নয়টা ম্যাচ খেলতে হবে। এখানে প্রতিটা ম্যাচ আমাদের জন্য সমান যাবে না। যেটা ম্যাচ খারাপ যাবে পরের ম্যাচে যেন সেই রেশটা না থাকে। এই প্রস্তুতি নিয়ে কথা বলছি। এটা আসলে মানসিক ব্যাপার। আমাদের আরও কথা বলতে হবে।’



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: মাশরাফি


আরও
আরও পড়ুন