Inqilab Logo

ঢাকা, শনিবার, ১৯ অক্টোবর ২০১৯, ০৩ কার্তিক ১৪২৬, ১৯ সফর ১৪৪১ হিজরী

তারেক রহমানের সিদ্ধান্তেই শপথ

সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ৩০ এপ্রিল, ২০১৯, ১২:০৩ এএম | আপডেট : ১২:১৬ এএম, ৩০ এপ্রিল, ২০১৯

দলীয়ভাবে এই সংসদে শপথ না নেয়ার সিদ্ধন্তের কথা জানানোর একদিন পরই উল্টো কথা বললেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। দলটির ৪জন নির্বাচিত এমপি শপথ গ্রহণ করার পর গতকাল (সোমবার) রাতে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানিয়েছেন, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশেই বিএনপির এমপিরা শপথ গ্রহণ করেছেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনের ফলাফল ছিল সম্পূর্ণ সাজানো। সকল দল মতের ভোটাররাই তাদের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। যা ক্ষমতাসীন মহলের কারো কারো মুখ থেকে স্বীকারোক্তি বের হয়ে এসেছে। নজিরবিহীন সন্ত্রাস, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ সর্বোপরি নির্বাচন কমিশনের পক্ষপাতিত্বের কারণে ভোটের আগের রাতেই সরকার ফলাফল তাদের পক্ষে নিয়ে যায়। আমরা সঙ্গত কারণেই ভোটাধিকার বঞ্চিত জনগণের পক্ষে এই নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করেছিলাম এবং জাতীয় সংসদে আমাদের নির্বাচিত এমপিদের শপথ গ্রহণ না করতে আহ্বান করেছিলাম।
তিনি বলেন, বিএনপি একটি উদারপন্থী গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল। আমরা মনে করি নির্বাচনই ক্ষমতা পরিবর্তনের একমাত্র পথ। কিন্তু ক্ষমতাসীন মহল নির্বাচন ব্যবস্থাকে এমনভাবে দলীয়করণ করেছে যে, গোটা নির্বাচনী প্রতিষ্ঠান ক্ষমতাসীনদের ক্ষমতা প্রলম্বিত করার হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। গণতন্ত্র চর্চার অন্য সকল পথও সংকীর্ণ হয়ে গেছে। এই সরকার তার গ্রহণযোগ্যতার জন্য ভোটারবিহীন এই সংসদকে সচল দেখাতে চায়। এটুকুই কেবল গণতান্ত্রিক অধিকার চর্চার ন্যূনতম সুযোগ হিসেবে বিরোধী জনমতের জন্য অবশিষ্ট আছে। আমরা বরাবরে মতোই দাবি করছি দল নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে পুনরায় নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের ভোটে সংসদ নির্বাচন করাই সকল সঙ্কটের সমাধানের একমাত্র পথ। তাই একদিকে নতুন নির্বাচনের দাবি, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াসহ সকল রাজবন্দিদের মুক্তি এবং মামলা প্রত্যাহারের অব্যাহত দাবি। অন্যদিকে দেশের চলমান অর্থনৈতিক, আইন-শৃংখলা ও সামাজিক চরম সঙ্কট, রাষ্ট্রীয় দুর্নীতি, শেয়ার মার্কেট কেলেঙ্কারি, ব্যাংক লুট, নারী নির্যাতন, গুম, খুন, গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের বিরুদ্ধে একটি কার্যকরী জোরালো গণআন্দোলন গড়ে তোলার জন্য আমাদের নতুনভাবে উদ্দীপ্ত হতে হবে। ভোটাধিকার ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, দেশনেত্রীর মুক্তির দাবিতে সংসদে কথা বলার সীমিত সুযোগকে কাজে লাগিয়ে সংসদ ও রাজপথের সংগ্রামকে যুগপৎভাবে চালিয়ে যাওয়াকে আমরা যুক্তিযুক্ত মনে করছি। জাতীয় রাজনীতির এই সঙ্কটময় মূহুর্তে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসা, মুক্তি ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামের অংশ হিসেবে আমাদের দল সংসদে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বিএনপি থেকে নির্বাচিত ৬ এমপির মধ্যে ৫জন শপথ নিলেও এখনো বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বাকী রয়েছে। তিনি কবে শপথ নিবেন এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সময় হলে জানতে পারবেন।
বৃহস্পতিবার ঠাকুরগাঁও-৩ আসন থেকে বিএনপির নির্বাচিত এমপি জাহিদুর রহমান জাহিদ শপথ গ্রহণ করেন। এজন্য গত শনিবার স্থায়ী কমিটির বৈঠক থেকে তাকে বহিষ্কার করা হয়। গতকাল বিকেলে দলটির আরও ৪জন এমপি শপথ গ্রহণ করেন। #



 

Show all comments
  • নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ৩০ এপ্রিল, ২০১৯, ১:১৭ এএম says : 0
    "হারুনুর রশীদ বলেন, ‘আগে শপথ নেওয়ায় তিনি আজ ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসনের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। এখন দল হয়তো তাঁর ব্যাপারে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে। জাহিদুর রহমান হয়তো লিখিতভাবে ক্ষমা চাইবেন। দল বিবেচনা করবে।’" ক্ষমা চাওয়ার কি আছে! বরং তারতকের এই দু'জনের প্রজ্ঞার প্রতি সম্মান জানিয়ে তাঁদের অভিনন্দন দেওয়া উচিৎ।
    Total Reply(0) Reply
  • Md Rizwan Ullah ৩০ এপ্রিল, ২০১৯, ১:১৭ এএম says : 0
    বিএনপির আর কোন অপশন ছিলনা। বিএনপি কি বোকামার্কার দল! ইলেকশনের আগে তারা চাইলে শর্ত দিয়ে এর চেয়ে অনেক সুবিধা সরকার থেকে আদায় করে নিতে পারতো। ইলেকশনের আগে যদি তারা খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে হবে এবং প্রধান বিরোধী দলের মর্যাদা দিয়ে ৫০/৬০ আসন দিতে হবে ইত্যাদি দাবীগুলো সহজে আদায় করে নিতে পারতো। ক্ষমতা না হয় পরের নির্বাচনে দেখা যেত। কিন্তু এই ৫ বছরে দলকে একটা শক্ত অবস্তানে নেয়া যেত। ফকরুল একজন ব্যার্থ মহাসচিব।
    Total Reply(0) Reply
  • SM Billah ৩০ এপ্রিল, ২০১৯, ১:১৭ এএম says : 0
    সেই তো মল খশালি তবে কেন লোক হাসালি!!
    Total Reply(0) Reply
  • abir ৩০ এপ্রিল, ২০১৯, ১:১৮ এএম says : 0
    বিএনপির কথা, গণতন্ত্রের মাকে কারাগারে রেখে - ১) নির্বাচনে যাবো না ২) সংসদে যাবো না বিএনপির কাজ - ঠিক উল্টো
    Total Reply(0) Reply
  • Md. Ruhul Amin ৩০ এপ্রিল, ২০১৯, ১:১৮ এএম says : 0
    কেউ আমারে এক কেজি গাজা দে খাইয়া মরি। তারেক রহমানের সিদ্ধান্তে শপথ! মির্জা ফখরুল সাহেব তাহলে আপনি কেন বাদ রইলেন। মেয়ে পালিয়ে বিয়ে করার আগেই অভিভাবকের উচিত বিয়েতে রাজি হওয়া। আপনারা যখন বুঝলেন যে, আপনাদের চার এমপিকে মানাতে পারবেন না তাহলে কেন আপনি সহ পাঁচজন এসে একসাথে শপথ নিলেন না। নিজ দলের পাঁচ জন এমপিকে চালাতে পারেন না তাহলে আপনারা সরকার চালাবেন কিভাবে?
    Total Reply(0) Reply
  • ফখরুদ্দিন ৩০ এপ্রিল, ২০১৯, ১:১৮ এএম says : 0
    নিজ দলেই তো গণতন্ত্র নাই। আছে তারেকতন্ত্র। গণতন্ত্রের চর্চা থাকলে স্থায়ী কমিটির সিদ্ধান্তই চূডান্ত হত।
    Total Reply(0) Reply
  • Rabbane Rajat ৩০ এপ্রিল, ২০১৯, ১:১৯ এএম says : 0
    খুবই ভাল কাজ এখন সরকারের উচিত বিএনপিকে নিয়ে সরকার চালানো। বিএনপি ফরমাললি মহাজোটে ঢুকতে পারে তাহলে এরা মন্ত্রীত্বও পাবে। কি দরকার লাফালাফি করে। মনে আছে এককালে জাসদ আওয়ামী লীগের কঠিন প্রতিপক্ষ ছিল তারা এখন সরকারের অংশ। বিএনপিও সে দিকেই যাচ্ছে। বিএনপির গল্পের শেষ লাইনটা হবে রূপকথার গল্পের মত "" অতঃপর তারা সুখে শান্তিতে একসাথে বসবাস করিতে লাগিল" আমার কথাটি ফুরালো নটে গাছটি মুড়ালো।
    Total Reply(0) Reply
  • নির্দোষ অপরাধী ৩০ এপ্রিল, ২০১৯, ১:১৯ এএম says : 0
    আমি হাঁসবো নাকি কাঁদবো তা একটু ভেবে জানাবো। তবে বিএনপি চাচাকেও আজ হার মানালো। এত বড় নাটক সাজানো কোন মানে হয়?
    Total Reply(0) Reply
  • নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ৩০ এপ্রিল, ২০১৯, ১:১৯ এএম says : 0
    তারেক রহমানের সিদ্ধান্তে বিএনপির তৃণমূল হতাশ। বিএনপির প্রতি মানুষের আস্থা বিশ্বাস আরো কমবে। তারেক রহমানের উচিত হয়নি এই ধরণের সিদ্ধান্ত দেওয়া। তার উচিত ছিল পাবলিক সেন্তিমেন্ট বোঝা।
    Total Reply(0) Reply
  • MD.ROJJOB ৩০ এপ্রিল, ২০১৯, ১:২০ এএম says : 0
    আচ্ছা মোকাব্বির খানসহ আরো যারা সেদিন শপথ নিলো বিএনপি তাদেরকে জাতির বেঈমান বলছে, আজ বিএনপির ৪ জন এবং কিছুদিনের মধ্যে ফখরুল সাহেবও শপথ নিবে এখন তারা কি বেঈমান হবে না? নাকি নিজেদের বেলায় দুধে ধোয়া একেবারে তুলসীপাতা নিষ্পাপ বিএনপি?
    Total Reply(0) Reply
  • Moazzma H ৩০ এপ্রিল, ২০১৯, ১:২০ এএম says : 0
    দলের সিদ্ধান্ত যদি শপথ নেওয়ারই হতো তাহলে তো মহাসচিব শপথ না নিয়ে দলের সিদ্ধান্ত ভঙ্গ করেছেন। সাংসদ মনসুর ও মুকাব্বিরের শপথ নিয়ে কতই না গলা বাজি করলেন এরা, গণফোরামও কম যায় নি, একজনকে বহিস্কার, অপরজনকে কারণ দর্শানো; এখনতো লেজ গোটানো ছাড়া ড কামাল গংদের আর কিছু করার নেই । নির্বাচনে যারা আমজনতা কতৃক প্রত্যাখ্যাত হয়েছেন সেই হারুর দলই জাতীয় আন্তর্জাতিক মহলের চায়ের কাপে ঝড় তুলেছিলেন । সে যাই হোক, সাংসদের দায়িত্ব হলো গণতন্ত্রের কেন্দ্রবিন্দু সংসদে গিয়ে নিজের নির্বাচনী এলাকার উন্নয়ন করা এবং জাতির জন্য আইন প্রণয়ন করা । জয়তু একাদশ সংসদ ।
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: মির্জা ফখরুল


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ