Inqilab Logo

ঢাকা, রোববার, ১৮ আগস্ট ২০১৯, ০৩ ভাদ্র ১৪২৬, ১৬ যিলহজ ১৪৪০ হিজরী।

শিক্ষক সংগঠনগুলোর চার দিনের কর্মসূচি ঘোষণা

বেতন ১০ শতাংশ কর্তনের আদেশ প্রত্যাহার দাবি

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ৩০ এপ্রিল, ২০১৯, ১২:০৩ এএম

বেসরকারি স্কুল-কলেজের এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন থেকে অবসর সুবিধা বোর্ড ও কল্যাণ ট্রাস্টের ফান্ডে ১০ শতাংশ হারে অর্থ কেটে আদেশ দিয়েছে সরকার। এর আগে একই আদেশ দিয়ে স্থগিত করার ২ বছর পর পুনরায় গত ১৫ এপ্রিল জারি করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এর ফলে চলতি মাস থেকে শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতনের মোট ১০ শতাংশ অর্থ কেটে রাখা হবে। এই অর্থ চলে যাবে বেসরকারি শিক্ষক ও কর্মচারী অবসর সুবিধা বোর্ড এবং কল্যাণ ট্রাস্টের তহবিলে। যে তহবিলের অর্থ পেতে শিক্ষক-কর্মচারীদের দিনের পর দিন অপেক্ষা, হয়রানির শিকার, নাজেহাল ও ঘুষের আশ্রয় নিতে হয়।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে এই নির্দেশনা জারির পর থেকেই ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেছে শিক্ষক-কর্মচারীরা। শিক্ষক সংগঠনগুলো অবিলম্বে অতিরিক্ত ৪ শতাংশ কর্তনের আদেশ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে আসছেন। এবার এই দাবি আদায়ে ৪ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও আদর্শে বিশ্বাসী জাতীয় পর্যায়ের ১০টি শিক্ষক-কর্মচারী সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত ফেডারেশন। গতকাল (সোমবার) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এই কর্মসূচির ঘোষণা করেন বাংলাদেশ শিক্ষক-কর্মচারী সমিতি ফেডারেশনের আহ্বায়ক ও সমন্বয়কারী প্রিন্সিপাল আসাদুল হক। ঘোষিত কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- আগামী ২ মে সকল উপজেলায় মানববন্ধন ও দাবির সমর্থনে বিক্ষোভ মিছিল। ৪ মে ঢাকাসহ সকল জেলায় শিক্ষক-কর্মচারী সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল। ৯ মে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের একটি প্রতিনিধি দল প্রধানমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি প্রদান করবে এবং ২৩ মে ঢাকায় প্রতিনিধি সভা ও সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে পরবর্তী কর্মসূচি গ্রহণ করবে।
আসাদুল হক বলেন, আমরা আশা করেছিলাম শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি শিক্ষক-কর্মচারীদের সম্পর্কে কোন সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে নেতৃবৃন্দের সাথে আলোচনা করবেন। কিন্তু কোন প্রকার আলোচনা-কথা-বার্তা ছাড়াই গত ১৫ তারিখ অতিরিক্ত ৪ শতাংশ বেতন কর্তনের যে আদেশ জারি করা হয়েছে তা শিক্ষক সমাজকে আশাহত করেছে। তিনি বলেন, এর আগেও একই রকম সিদ্ধান্ত নেয়া হলে তা আন্দোলনের মুখে স্থগিত করা হয়। কিন্তু হঠাৎ করে কিছু স্বার্থান্বেসী মহলের প্ররোচনায় শিক্ষক-কর্মচারীদের মতামতের তোয়াক্কা না করে শিক্ষাঙ্গনে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করার লক্ষ্যে আবারও প্রজ্ঞাপনটি জারি করা হয়েছে।
শিক্ষক নেতা আসাদুল অবিলম্বে শিক্ষক-কর্মচারীদের স্বার্থের পরিপন্থী প্রজ্ঞাপনটি প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয় শিক্ষক-কর্মচারীদের সাথে একটি অদৃশ্য দূরত্ব সৃষ্টি করে নিজেদের ইচ্ছামত বিধিবিধান পরিবর্তন করছেন। অথচ ইউনেস্কো ও আইএলও’র সুপারিশ মালায় স্পষ্ট উল্লেখ আছে যে, শিক্ষকদের সম্পর্কে কোন সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে তাদের প্রতিনিধিদের সাথে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়ার। শিক্ষামন্ত্রী, সচিব ও শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা অনেকই ইউনেস্কো ও আইএলও’র বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যোগদানের জন্য বিদেশে যান অথচ এসব সংগঠনের নীতিমালা প্রয়োগের ক্ষেত্রে তারা কোন ভূমিকাই রাখেন না।
সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি ড. নূর মোহাম্মদ তালুকদার বলেন, আমরা কিছুদিন আগে আন্দোলন করে ৫ শতাংশ বৈশাখী ভাতা আদায় করেছি। কিন্তু আমাদের সাথে কোন ধরণের আলোচনা না করেই হঠাৎ করে বেতনের অতিরিক্ত ৪ শতাংশ কেটে নেয়ার আদেশ দেয়া হয়েছে। এই আদেশ আমাদের বুকে ছুরিকাঘাতের মতো।
৫ দফা দাবি: ১০টি শিক্ষক সংগঠন গতকাল সংবাদ সংম্মেলনে ৫ দফা দাবি তুলে ধরেন। এসব দাবির মধ্যে- বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী অবসর সুবিধা বোর্ড এবং শিক্ষক-কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্টের শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন হতে অতিরিক্ত ৪ শতাংশ কর্তনের প্রজ্ঞাপন অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে। বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসর সুবিধা বোর্ড এবং শিক্ষক-কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্টের মাধ্যমে বেতন ভাতা প্রদানের পরিবর্তে পূর্ণাঙ্গ পেনশন সুবিধা চালু করতে হবে। বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রিন্সিপাল, ভাইস-প্রিন্সিপাল, প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষক নিয়োগের নতুন নীতিমালা বাতিল করে পূর্বের নীতিমালা বহাল রাখতে হবে। অনার্স-মাস্টার্স পাঠদানকারী শিক্ষক ও নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের এমপিওভুক্ত করতে হবে। সম্মানজনক বাড়িভাড়া, পূর্ণাঙ্গ উৎসবভাতা ও মেডিকেল ভাতা প্রদান করতে হবে।
এসময় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- বাংলাদেশ শিক্ষক-কর্মচারী সমিতি ফেডারেশনের আহ্বায়ক এম এ আউয়াল সিদ্দিকী, হোসনে আরা বেগম, সৈয়দ জুলফিকার আলম চৌধুরী, যুগ্ম আহ্বায়ক মোঃ ফয়েজ হোসেন, বিলকিস জাহান, মোঃ মহসীন রেজা, সদস্য মোঃ আবু বকর চৌধুরীসহ শতাধিক শিক্ষক নেতা। এদিকে শিক্ষক কর্মচারী অবসর ও কল্যাণ ট্রাস্টের অতিরিক্ত ৪ শতাংশ কর্তন বিষয়ে আদেশ প্রত্যাহারের জন্য ইতোমধ্যে বিবৃতি দিয়েছে মাদরাসা শিক্ষকদের একক ও সর্ববৃহৎ সংগঠন বাংলাদেশ জমিয়াতুল মোদার্রেছীন। অন্যান্য শিক্ষক সংগঠনের সাথে সমন্বয় করে এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের লক্ষ্যে আগামী ১ মে বুধবার বাদ মাগরিব জমিয়াতুল মোদার্রেছীনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংগঠনের সভাপতি আলহাজ্ব এ এম এম বাহাউদ্দীনের সভাপতিত্বে স্ট্যান্ডিং কমিটির এক সভা অনুঠিত হবে। উক্ত সভায় স্ট্যান্ডিং কমিটির সকল সদস্য, ঢাকা মহানগরীর ফাযিল-কামিল মাদরাসা প্রধান এবং ঢাকায় অবস্থানরত কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দকে উপস্থিত থাকার জন্য জমিয়াতুল মোদার্রেছীনের মহাসচিব অধ্যক্ষ মাওলানা শাব্বীর আহমদ মোমতাজী অনুরোধ করেছেন।#



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: শিক্ষক


আরও
আরও পড়ুন