Inqilab Logo

ঢাকা, বুধবার ২৪ জুলাই ২০১৯, ০৯ শ্রাবণ ১৪২৬, ২০ যিলক্বদ ১৪৪০ হিজরী।

আজ জাপানের নতুন সম্রাটের অভিষেক

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ১ মে, ২০১৯, ১২:০৪ এএম

জাপানের সম্রাট আকিহিতো আনুষ্ঠানিকভাবে গতকাল মঙ্গলবার সিংহাসন ত্যাগ করেছেন। আজ বুধবার থেকে নতুন সম্রাট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন তার পুত্র যুবরাজ নারুহিতো। যদিও পুরোপুরি দায়িত্ব বুঝে নিতে আগামী অক্টোবর মাস পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে তাকে। গত ২০০ বছরের মধ্যে দেশটির ইতিহাসে এবারই প্রথম কোনো সম্রাট তার মৃত্যুর আগে সিংহাসনের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নিলেন। এর আগে সর্বশেষ ১৮১৭ সালে সম্রাট কোকাকু তার সন্তান যুবরাজ নিনকোর হাতে ক্ষমতা তুলে দিয়েছিলেন।
আকিহিতো ২০১৬ সালের আগস্ট মাসে তার এই সিংহাসন ত্যাগের কথা ঘোষণা করেছিলেন। সে সময় তিনি বলেছিলেন, ‘আমার এখন ৮৫ বছর হয়ে গেছে। যে কারণে স্বাস্থ্য আর আগের মতো ভাল নেই, বয়সও বাড়ছে। তাই আমি আগেভাগেই এই সিংহাসন ছাড়ার পরিকল্পনা করছি।’ তার এই সিদ্ধান্তকে স্বাদরে গ্রহণ করে জাপানি জনগণ। পরবর্তীতে দেশটির পার্লামেন্টেও সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদিত হয়।
এর আগে ১৯৮৯ সালে তৎকালীন সম্রাট হিরোহিতোর মৃত্যুর পর তার স্থলাভিষিক্ত হন আকিহিতো। মূলত সে বছরই তাকে দেশটির সিংহাসনে বসানো হয়। জাপানে সম্রাটের এই পদটি আলংকারিক। কোনো রাজনৈতিক ক্ষমতা না তাকলেও তাকে জাতীয় প্রতীক হিসাবে দেখা হয়। তিনি রাজনীতি নিয়ে কখনোই কোনো ধরনের মন্তব্যও করতে পারেন না।
সূর্যোদয়ের দেশ খ্যাত জাপানে যখন সম্রাট বদল হয় তখন তার হাত ধরেই এক নতুন যুগের সূচনা হয়। প্রত্যেক সম্রাটের রাজত্ব আমলের একটি নাম রয়েছে। যেটিকে মূলত খ্রিস্টীয় বর্ষপঞ্জির পাশাপাশি ব্যবহার করা হয়। নতুন সম্রাট নারুহিতোর রাজত্বের নাম এরইমধ্যে ঘোষণা করা হয়েছে। যা নির্ধারণ করা হয়েছে ‘রেইওয়া’ নামে। বাংলায় অনুবাদ করলে এর অর্থ দাঁড়ায় ‘শৃঙ্খলা এবং শান্তি’। এবারই প্রথমবারের মতো দেশটির একটি প্রাচীন কবিতা থেকে এই নামটি নেওয়া হয়। এর আগে সম্রাট আকিহিতোর যুগের নাম রাখা হয়েছিল ‘হেইসেই’। আর যার বাংলা অর্থ হলো ‘শান্তি অর্জন’।
রাজকীয় প্যালেসের মাৎসু-নো-মা রাজ্য কক্ষে নতুন সম্রাটের অভিষেক হবে, তবে তার বেশিরভাগ আয়োজনই থাকবে লোকচক্ষুর আড়ালে। আজ স্থানীয় সময় বিকাল পাঁচটায় এই আয়োজন শুরু হবে, যখন সম্রাট আকিহিতো এবং সম্রাজ্ঞী মিচিকো কক্ষে প্রবেশ করবেন। ৩৩০ জনের বেশি অতিথি সেখানে থাকবেন।
জাপানের এনএইচকে সংবাদ মাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, অনুষ্ঠানটি ১০ মিনিট ধরে চলবে। সম্রাট হিসাবে আকিহিতোর শেষ বক্তব্যের মধ্যে দিয়ে অনুষ্ঠানটি শেষ হবে।
নতুন সম্রাট ৫৯ বছর বয়সী নারুহিতো অক্সফোর্ডে পড়াশোনা করেছেন এবং ২৮ বছর বয়সে যুবরাজ হন। ১৯৮৬ সালে একটি চায়ের আসরে যুবরাজ্ঞী মাসাকো ওয়াডার সঙ্গে তার পরিচয় হয়। ১৯৯৩ সালে তারা বিয়ে করেন। এই দম্পতির একমাত্র সন্তান প্রিন্সেস আইকোর জন্ম হয় ২০০১ সালে। যদিও জাপানের আইন অনুযায়ী কোন নারী সিংহাসনে বসতে পারেন না। যে কারণে প্রিন্সেস আইকো সিংহাসনের পরবর্তী উত্তরাধিকারী নন। তারপর উত্তরাধিকারী তালিকায় রয়েছেন তার ভাই প্রিন্স ফুমিহিতো। এরপরে রয়েছে ফুমিহিতোর সন্তান ১২ বছরের হিসাহিতো।
এটি বিশ্বের সবচেয়ে পুরনো রাজকীয় পরিবার। পৌরাণিক কাহিনীতে বলা হয়, ৬০০ খৃষ্ট পূর্বাব্দ থেকে এই রাজতন্ত্র চলছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানের আত্মসমর্পণের পর সম্রাট আকিহিতোর পিতা সম্রাট হিরোহিতোর আমলে সম্রাটের ক্ষমতা খর্ব হয়। তবে যুদ্ধের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে বিশেষ ভ‚মিকা রাখেন সম্রাট আকিহিতো। রাজপরিবার ও জনগণের মাঝের ব্যবধান ঘুচিয়ে ফেরার জন্য তার অবদান রয়েছে। সূত্র : বিবিসি।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: জাপান

২১ মে, ২০১৯

আরও
আরও পড়ুন
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ