Inqilab Logo

ঢাকা, শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২০, ৩১ শ্রাবণ ১৪২৭, ২৪ যিলহজ ১৪৪১ হিজরী
শিরোনাম

মেসিময় ম্যাচ বার্সার

স্পোর্টস ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ৩ মে, ২০১৯, ১:৪৯ এএম

গেল মৌসুমের ফাইনালে রিয়াল মাদ্রিদের কাছে হেরে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শিরোপাস্বপ্ন ভেঙে যায় লিভারপুলের। এবার আরেক স্প্যানিশ জায়ন্ট বার্সেলোনার কাছে হেরে তার আগেই বিদায়ের দ্বারপ্রান্তে ইয়ুর্গুন ক্লপের দল। পরশু রাতে ন্যু ক্যাম্পের ম্যাচে সেমিফাইনালের প্রথম লেগে সফরকারী দলকে ৩-০ গোলে হারায় আর্নেস্তো ভালভার্দের শিষ্যরা। জোড়া গোলের মাধ্যমে ক্লাব ক্যারিয়ারে এদিন ৬০০ গোলের মাইলফলক স্পর্শ করেন লিওনেল মেসি।

শিষ্যদের কানে দারুণ পরিকল্পনা জপে দিয়েছিলেন ক্লপ- মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখা। ম্যাচের শুরু থেকে দুই দলের লড়াইটা ছিল তাই মিডফিল্ডে। নিচ থেকে স্বাগতিকদের গুছিয়ে আক্রমণে উঠতে না দেওয়ার এই পরিকল্পনা কাজেও দেয় ‘অল রোড’ খ্যাত দলটির। বার্সাও ছন্দ হারিয়ে খেলতে থাকে ভুল পাসের ফুটবল। মেসিকে তাই অনেক নিচে নেমে খেলতে দেখা যায়। কিন্তু প্রতিপক্ষ দলে একজন মেসি থাকায় সফরকারীদের পরিকল্পনার ফাঁদ ছিড়তে সময় লাগেনি।

২৬তম মিনিটে প্রথম ন্যু ক্যাম্পে প্রথম আনন্দের উপলক্ষ্য এনে দেন সুয়ারেজ। ডান প্রান্ত থেকে জর্ডি আলবার বাড়ানো বলে প্লেসিং শটে গোলরক্ষক আলিসনকে ফাঁকি দেন উরুগুইয়ান তারকা। সাবেক ক্লাবের ম্যাচ দিয়েই ৩৯২ দিন পর চ্যাম্পিয়ন্স লিগে গোলের দেখা পেলেন ৩২ বছর বয়সী স্ট্রাইকার। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে এটি ছিল বার্সার ৫০০তম গোল। এই মাইলফলকে পা রাখা অপর দল ইউরোপিয়ান জায়ান্ট রিয়াল মাদ্রিদ (৫৫১)।

৭৫তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন বার্সার প্রাণভোমরা। বল নিয়ে ক্ষিপ্র গতিতে ডি বক্সে ঢুকে বাম প্রান্তে সুয়ারেজকে বল বাড়ান মেসি। সুয়ারেজের শট ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। ফিরতি বল বুকে নিয়ে ফাঁকা পোস্টে ঠেলে দেন আর্জেন্টাইন তারকা। দুই গোলে এগিয়ে আত্মবিশ^াসী ফুটবল খেলতে থাকে পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নরা। ৮২ তম মিনিটে আসে ম্যাচের জাদুকরী মুহূর্ত। ২৭ গজ দূর থেকে অবিশ^াস্য ফ্রি-কিক থেকে আসে মেসির সেই মাইলফলকে পৌঁছানো গোল। বাঁ পায়ের বাঁকানো শট আলিসনকে কোনো সুযোগ না দিয়ে দূরহ কোন দিয়ে জালে জড়ায়। চলতি আসরে সর্বোচ্চ গোলদাতা মেসির এটি ১২তম গোল। শেষ আটে তার জোড়া গোলে আরেক ইংলিশ দল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে হারিয়েছিল বার্সা।

শেষ বাঁশি বাজার আগ মুহূর্তে ব্যবধান বাড়ানোর সুবর্ণ সুযোগ নষ্ট করেন খানিক আগেই সুয়ারেজের বদলি নামা ওউসমান দেম্বেলে। মেসির বাড়ানো বল ফাঁকায় পেয়েও গোলরক্ষক সোজা শট নেন ফরাসি ফরোয়ার্ড।

লিভারপুলও গোলের সুযোগ পেয়েছে বটে কিন্তু তা কাজে লাগাতে পারেননি মোহাম্মেদ সালাহ-সাদিও মানেরা। প্রথমার্ধে ডি বক্সে বল পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে পেয়েও পোস্টের উপর দিয়ে উড়িয়ে মারেন মানে। দ্বিতীয় গোল খাওয়ার আগ পর্যন্ত ম্যাচে ভালোমতই ছিল তারা। কিন্তু প্রতিপক্ষের মাঠে মূল্যবান অ্যাওয়ে গোল পাওয়ার সব প্রচেষ্টা তাদের ব্যর্থ হয়। দ্বিতীয়ার্ধের দ্বিতীয় মিনিটেই মিলনারের শট বামে ঝাঁপিয়ে ও খানিক পর ডি বক্সের বাইরে থেকে সালাহর নেয়া আচমকা গড়ানো কোনাকুনি শট ডানে ঝাঁপিয়ে কর্নারের বিনিময়ে রক্ষা করেন গোলরক্ষক মার্ক আন্দ্রে টের স্টেগেন। শেষ দিকে বদলি খেলোয়াড় ফিরমিনোর শট গোল লাইন থেকে ফেরায় বার্সা ডিফেন্স। ফিরতি বলে নেওয়া সালাহর শট বারে লেগে প্রতিহত হয়।

ম্যাচ শেষে পরাজিত কোচ ক্লপের কণ্ঠে আক্ষেপের সুর, ‘আমরা যা পেলাম, এর চেয়ে আরও অনেক বেশি আমাদের প্রাপ্য ছিল কিনা আমি নিশ্চিত নই।’ জার্মান কোচ বলেন, ‘আমি মনে করি, এটা ছিল চ্যাম্পিয়ন্স লিগে আমাদের খেলা সেরা ম্যাচ।’ মেসিকে বিশ্বসেরার তকমা দিয়ে বলেন, ‘অন্যদের মত আমিও তার খেলার ভক্ত। তার কাছ থেকে এমন পারফম্যান্সে তাই আমি বিষ্মিত নই। এমন কিছুর জন্য আমরা প্রস্তুত ছিলাম। কিন্তু কোন পরিকল্পনাই কাজে লাগল না।’

ক্লপ জানেন ঘরের মাঠে ৭ মে ফিরতি পর্বের ম্যাচ কঠিন হবে, ‘এটা কঠিন হবে কারণ প্রতিপক্ষ বার্সেলোনা। তারা প্রতি-আক্রমণ নির্ভর ফুটবল খেলতে পারে যা আমাদের খুব বেশি সাহায্য করবে না।’ অবশ্য আশা হারাচ্ছেন না তিনি, ‘এটা ফুটবল আর সে কারণেই আমাদের এখনও চেষ্টা করা উচিত।’

মেসিরাও জানেন লড়াই এখনো শেষ হয়নি। দলীয় অধিনায়ক বলেন, ‘আমরা একটা সুবিধাজনক অবস্থায় আছি। কিন্তু আমরা জানি যে লড়াই শেষ হয়ে যায়নি। আনফিল্ড সত্যি খুব কঠিন জায়গা।’

মঙ্গলবার রাতে সেমিফাইনালের আরেক ম্যাচে টটেনহাম হটস্পারকে তাদেরই মাঠে ১-০ গোলে হারিয়ে ফাইনালের পথে এগিয়ে গেছে ডাচ ক্লাব আয়াক্স। দুদলের মধ্যকার দ্বিতীয় লেগের ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে আগামী বুধবার, আমস্টার্ডামে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: বার্সার

২২ জানুয়ারি, ২০১৯

আরও
আরও পড়ুন