Inqilab Logo

ঢাকা বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২০, ৫ কার্তিক ১৪২৭, ০৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪২ হিজরী
শিরোনাম

ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী সিংহাসনে আরোহণ রাজার

থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে রাজা মাহা ভিজারালংকর্নের অভিষেক অনুষ্ঠিত

ইনকিলাব ডেস্ক : | প্রকাশের সময় : ৫ মে, ২০১৯, ১২:০৮ এএম

প্রায় তিন বছর ধরে অনানুষ্ঠানিকভাবে রাজার দায়িত্ব পালন করছেন। এবার বৌদ্ধ ধর্ম ও ব্রাহ্মণ রীতি অনুযায়ী আনুষ্ঠানিকভাবে সিংহাসনে আরোহণ করলেন। শনিবার থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে হয় রাজা মাহা ভিজারালংকর্ন-এর অভিষেক অনুষ্ঠান। দায়িত্ব গ্রহণের তিন দিন আগেই নিজের দেহরক্ষি বাহিনীর উপ-প্রধান সুথিদাকে বিয়ে করে রানীর মর্যাদা দেন। এর আগে তিনটি বিয়ে করলেও তাদের তালাক দেন। তাই সুথিদাই সেই সৌভাগ্যবান নারী যিনি প্রথার বাইরে স্ত্রী হিসেবে রাজপরিবারে অন্তর্ভূক্ত হয়েছেন। আর তাকে সঙ্গে নিয়েই হলো রাজার আনুষ্ঠানিক অভিষেক। প্রায় সাত দশকের নিয়মতান্ত্রিক রাজতন্ত্র থাইল্যান্ডে বিদ্যমান। সেই প্রথা অনুযায়ী শনিবার ভিজারালংকর্ন আনুষ্ঠানিকভাবে সিংহাসনে আরোহন করলেন। খবরে বলা হয়, থাইল্যান্ডের নতুন রাজা ভাজিরালংকর্নের (৬৬) সিংহাসন আরোহণ ও মুকুট পরানোর আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে। স্থানীয় সময় শনিবার ১০টা ৯ মিনিটে এ আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে। চলবে সোমবার পর্যন্ত। রাজাকে পিওর বা প্রকৃত নির্ভেজাল মানুষ হিসেবে পরিণত করতে পবিত্র পানি ছিটানো হবে। দেশের ১০০টি স্থান থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে এই পানি। প্রায় ৭০ বছর সিংহাসনে থাকার পর তার পিতা সাবেক রাজা ভূমিবল আদুল্যাদেজ মারা যান ২০১৬ সালে। তারপর থেকেই উত্তরাধিকার সূত্রে রাজা হন ভাজিরালংকর্ন। কয়েকদিন আগে রাজপ্রাসাদ থেকে তার নতুন বিয়ের আকস্মিক ঘোষণা দেয়া হয়। বলা হয়, তার দীর্ঘদিনের পার্টনার, তার দেহরক্ষী সুথিদাকে বিয়ে করেছেন রাজা। এর ফলে সুথিদার নতুন পরিচয় রানী সুথিদা। থাইল্যান্ডের সব টেলিভিশন চ্যানেলে এ খবর প্রচার করা হয়। থাইল্যান্ডে সাংবিধানিক রাজতন্ত্র প্রচলিত। জনগণ ভীষণভাবে শ্রদ্ধা করে রাজ পরিবারকে। এ পরিবারের কাছে সংরক্ষিত থাকে বিশাল ক্ষমতা। এ ছাড়া সেখানে একটি কড়া আইন আছে। এটি লেসে ম্যাজেস্টে নামে পরিচিত। এই আইনের অধীনে রাজপরিবারের সমালোচনা নিষিদ্ধ। এই আইনের অধীনে রাজপরিবার জনসাধারণের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে মুক্ত রাখে। সিংহাসনে আরোহণ এমন একটি সময়ে ঘটছে যখন দেশে রাজনীতি অনিশ্চিত। গত ২৪ মার্চ দেশে একটি জাতীয় নির্বাচন হয়েছে। ২০১৪ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের পর সেনাবাহিনী ক্ষমতা দখল করে। তারপর প্রথম নির্বাচন ছিল এটি। কিন্তু এখনও নতুন সরকার ঘোষণা হয় নি। তারপরও থাই নাগরিকরা আজ ইতিহাসের সাক্ষী হওয়ার জন্য উন্মুখ হয়ে বসে আছেন। কারণ, ৭০ বছর আগে এমন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে রাজা হিসেবে ক্ষমতায় এসেছিলেন ভূমিবল আদুল্যাদেজ। এত দীর্ঘ সময় পরে সেই আনুষ্ঠানিকতা হচ্ছে আবার। ফলে বেশ উৎসাহ থাইবাসীর মধ্যে। নতুন রাজা ভাজিরালংকর্ন হলেন সাবেক ও প্রয়াত রাজা ভূমিবল ও রানী সিরিকিটের দ্বিতীয় সন্তান এবং প্রথম পুত্র। তিনি পড়াশোনা করেছেন বৃটেনে ও অস্ট্রেলিয়া। প্রশিক্ষণ নিয়েছেন ক্যানবেরায় রয়েল মিলিটারি কলেজে। থাইল্যান্ডের সশস্ত্র বাহিনীতে অফিসার হিসেবে কাজ করতে গিয়েছিলেন। একজন বেসামরিক ও যোদ্ধা পাইলট হিসেবে যোগ্যতা অর্জন করেছেন। ১৯৭২ সালে তিনি ক্রাউন প্রিন্স হন এবং একই সঙ্গে সিংহাসনের আনুষ্ঠানিক উত্তরাধিকারীতে পরিণত হন। রানী সুথিদা হলেন তার চতুর্থ স্ত্রী। সুথিদা ছিলেন তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ইউনিটের ডেপুটি কমান্ডার। ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে তাকে সেনাবাহিনীর একজন পূর্ণাঙ্গ জেনারেল হিসেবে পদোন্নতি দেয়া হয়। বিবিসি, রয়টার্স।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: সিংহাসনে আরোহণ রাজার
আরও পড়ুন