Inqilab Logo

ঢাকা, মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২০, ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭, ০৯ শাওয়াল ১৪৪১ হিজরী

টেকসই উন্নয়ন প্রশ্নবৃদ্ধ

ড. খলীকুজ্জমান আহমদ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তারা

অর্থনৈতিক রিপোর্টার : | প্রকাশের সময় : ৫ মে, ২০১৯, ১২:০৮ এএম

দেশে মোট দেশজ উৎপাদন-জিডিপি দফায় দফায় বাড়লেও তা টেকসই উন্নয়নে কার্যত ভূমিকা রাখছে কি না তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। কেননা, একই সময়ে সমাজে বৈষম্য বাড়ছে। গতকাল শনিবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ারিং ইনিস্টিউটে বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি আয়োজিত ড.কাজী খলিকুজ্জমান আহমেদকে দেয়া এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এমনটা জানান বক্তারা।

এসময়, অর্থনীতিবিদরা বলেন, জিডিপির এই প্রবৃদ্ধি বাড়াতে সরকার যতো কার্যক্রম বা উদ্যোগ হাতে নিচ্ছে, বৈষম্য কমাতে এ উদ্যোগ কাজে লাগছে না ফলে। দেশের এক শ্রেণীর মানুষের হাতে সম্পদের সিংহভাগ চলে যাচ্ছে। অনুষ্ঠানে কর্মসংস্থানবিহীন প্রবৃদ্ধি নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গর্ভনর বলেন, প্রবৃদ্ধিতে শিল্প খাতের অবদান ৩২ থেকে ৩৪ শতাংশ হলে সেখানে কর্মসংস্থান যে হচ্ছে না এমন দাবি অযৌক্তিক কেননা, এসময়ে এ শিল্প খাতকে এগিয়ে নিতে কোন উচ্চ মাপের প্রযুক্তির বিকাশ কলকারখানাগুলোতে দেখা যায়নি।

সমাজসেবা ও জনসেবায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এ বছর স্বাধীনতা পুরস্কার পেয়েছেন বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সাবেক সভাপতি ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ। দেশের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা পাওয়ায় তাকে সংবর্ধনা দিয়েছে এ সমিতি। বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. আবুল বারকাতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন কাজী খলীকুজ্জমানের সহধর্মীনি ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. জাহেদা আহমদ। এসময় দর্শক সারিতে উপস্থিত ছিলেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর, সাবেক ডাক ও টেলিযোগযোগমনী রাশেদ খান মেনন, ব্যারিস্টার আমিরুল ইসলামসহ বিশিষ্টজনেরা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির বলেন, সম্পূর্ণ ভিন্নধর্মী একজন অর্থনীতিবিদ ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ। দেশের অর্থনীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমান প্রবৃদ্ধিকে অনেকে কর্মসংস্থানহীন প্রবৃদ্ধি বলেন, যা বিষ্ময়কর। এরকম হলে জিডিপিতে শিল্প খাতের অবদান বেড়ে ৩৪ শতাংশ হতো না। অবশ্য এটা ঠিক যে হারে বেকার বাড়ছে সেভাবে হয়তো নতুন কর্মসংস্থান হচ্ছে না।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ড. কাজী খলীকুজ্জামান আহমদ বলেন, যে কোনো সম্মাননা উৎসাহব্যঞ্জক। জাতীয় সর্বোচ্চ সম্মাননা পাওয়া নিঃসন্দেহে আনন্দের। সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সভাপতি ড. আবুল বারকাত বলেন, কাজী খলীকুজ্জমান বঞ্চিত, পিছিয়ে পড়া ও অবহেলিত মানুষদের নিয়ে কাজ করেন। তিনি সব সময় জোর দেন নৈতিকতা ও মানুষের সেবার ওপর। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার মূল বিষয় ছিল বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠা। এ লক্ষ্যে যারা কাজ করছেন তাদের একজন খলীকুজ্জমান।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: টেকসই উন্নয়ন


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ