Inqilab Logo

বুধবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২২, ১২ মাঘ ১৪২৮, ২২ জামাদিউস সানি ১৪৪৩ হিজরী
শিরোনাম

বিদ্রোহীদের পদচারণায় নৌকার প্রার্থীরা দিশেহারা ভাঙ্গার ১২ ইউনিয়ন

প্রকাশের সময় : ২৭ মে, ২০১৬, ১২:০০ এএম

নাজিম বকাউল, ফরিদপুর জেলা সংবাদদাতা
ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় আগামীকাল ১২টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। শেষ সময়ে এলাকার ভোটার সমর্থক ও প্রার্থীদের রাতের ঘুম হারাম হয়ে যাচ্ছে। রাত-দিন প্রার্থী ও সমর্থকরা ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি। উৎসবমুখর পরিবেশে চায়ের দোকান, পাড়া-মহল্লা সর্বত্র নির্বাচনী আলোচনা। প্রার্থীদের যোগ্যতা, প্রতিশ্রুতি, সম্ভাবনা এই নিয়ে সাধারণ ভোটাররা চায়ের টেবিলে ঝড় তুলছেন। নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন জায়গায় রশিতে ঝুলানো প্রার্থীদের পোস্টার বাতাসে দোল খাচ্ছে আর ভোটাররা জেনে নিচ্ছেন কোন প্রতীক কার? কার সম্ভাবনা কতটুকু, কার যোগ্যতা কেমন? কোন প্রার্থী এলাকার বেশি উন্নয়ন করবেন? এবারের নির্বাচনে ভাঙ্গা উপজেলায় ১২টি ইউনিয়নে মোট ৮৬ জন চেয়ারম্যান প্রার্থী, ৩২২ জন সাধারণ সদস্য এবং ১১৮ জন সংরক্ষিত মহিলা সদস্য নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নির্বাচনে ৩টি ইউনিয়নে ৩ প্রার্থী ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ভাঙ্গা উপজেলার রাজনীতি অন্যান্য এলাকার চেয়ে ভিন্ন। এখানে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফরউল্লাহ সমর্থিত নৌকা প্রতীকের প্রার্র্থী এবং স্থানীয় ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী নিক্সন সমর্থিত স্বতন্ত্রপ্রার্থীদের মধ্যেই মূলত লড়াই হবে বলে অভিজ্ঞ মহলের ধারণা। আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট নেতা কাজী জাফরউল্লাহ এবং নিক্সন চৌধুরীর প্রেস্ট্রিজ ইস্যু হওয়ায় দুই নেতার সমর্থীত প্রার্থীদের মধ্যে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও সর্বত্র নির্বাচনী উত্তেজনা চলছে। প্রার্থী নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বিভিন্ন অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও মনোনয়ন বাণিজ্যের মাধ্যমে সম্পন্ন হওয়ার অভিযোগ উঠায় অনেক জায়গায়ই কোন্দল সৃষ্টি হওয়ায় বিদ্রোহী প্রার্থীদের কাছে নৌকার মাঝিরা দিশেহারা। তবে প্রতিটি ইউনিয়নেই মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা আওয়ামী লীগের নৌকা ও স্বতন্ত্রপ্রার্থীদের মধ্যে হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ১২টি ইউনিয়নের মধ্যে আজিমনগর ইউনিয়নে রয়েছে সর্বাধিক ১৩ জন প্রার্থী। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে একই পরিবারের মধ্যে একাধিক এবং স্বামী-স্ত্রীর মধ্যেও নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে। ১২টি ইউনিয়নে প্রার্থীদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দিতা করছেন তারা হলেনÑ ঘারুয়া ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান অধ্যাপক শফিউদ্দিন মোল্লা (নৌকা), এসএম হাবিবুর রহমান আল হাবিব (ঘোড়া), নজরুল মাতুব্বর (মোটরসাইকেল), আবুল বাশার মিয়া (আনারস), মো. জুয়েল মাতুব্বর (টেলিফোন), আঃ সামাদ মুন্সী (চশমা), আঃ ছালাম মাতুব্বর (হাতপাখা), আঃ ছালাম মিয়া (রজনীগন্ধা) এবং শাখাওয়াত হোসেন (টেবিলফ্যান)। চান্দ্রা ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যার আঃ খালেক মোল্যা (আনারস), এসএ মিলন মাতুব্বর (টেলিফোন), খন্দকার ওবায়দুর রহমান (ঘোড়া), গিয়াসউদ্দিন আহমেদ (মোটরসাইকেল), বাবুল মাতুব্বর (কাস্তে), মাস্টার মো. আপ্তাব উদ্দিন মাতুব্বর (চশমা), আব্দুল আলী মাতুব্বর (অটোরিকশা), কুদ্দুস মাতুব্বর (নৌকা) এবং মো. ফকর মৃধা (টেবিলফ্যান)। আলগী ইউনিয়নে তৌহিদুর রহমান বুলবুল (নৌকা), ম ম সিদ্দিক মিয়া (আনারস) এবং মো. কাওসার ভূঁইয়া (ঘোড়া)। তুজারপুর ইউনিয়নে ওলীউর রহমান (আনারস), জামাল আহমদ শেখ (মোটরসাইকেল), পরিমল চন্দ্র দাস (চশমা), আবুল কালাম তালুকদার (হাতপাখা), জিয়াউল হাওলাদার  (ঘোড়া) এবং মো. সোহরাব ভূঁইয়া (নৌকা)। নুুরুল্লাগঞ্জ ইউনিয়নে সৈয়দ শাহীন আলম (নৌকা), অলীউল্লাহ হায়দার (গোলাপফুল), মীর আশরাফ আলী (ঘোড়া), আশরাফ আলী মজুমদার (মোটরসাইকেল), জাহিদ হোসেন (ধানের শীষ), তরিকুল ইসলাম তারেক (আনারস), দেলোয়ার হোসেন (হাতপাখা), রাসেল মাতুব্বর (দু’টি পাতা) এবং লুৎফর রহমান মিয়া (চশমা)। মানিকদহ ইউনিয়নে মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম (নৌকা), আবু সাঈদ মিয়া (টেলিফোন), আলমগীর হোসাইন (ঘোড়া), বেগম পারুল আক্তারী (আনারস), মো. আইয়ূব বেপারী (হাতপাখা) এবং মো. মোমরেজ তালুকদার (মোটরসাইকেল)। চুমুরদী ইউনিয়নে শাখাওয়াত হোসেন জালাল (নৌকা), নাসিম শিকদার মিলন (আনারস), মো. জিন্নাত আলী ভূঁইয়া (ঘোড়া), রফিকুল ইসলাম সোহাগ (চশমা), জাহিদ শিকদার (মটরসাইকেল) এবং হাবিবুর রহমান (হাতপাখা)। হামিরদী ইউনিয়নে মোল্লা মো. ফারুক হোসেন (নৌকা), দেলোয়ার হোসেন (ধানের শীষ), আক্কাছ ফকির (আনারস), মো. মহিউদ্দিন (হাতপাখা), মো. রেজাউল হক তালুকদার (ঘোড়া), সামসুল আলম রাসেল (মোটরসাইকেল) এবং হাবিবুর রহমান (চশমা)। আজিমনগর ইউনিয়নে মোতালেব মাতুব্বর (নৌকা), মোশাররফ হোসেন (দুটি পাতা), মো. হাবিবুর রহমান (রজনীগন্ধা), মো. হারুন অর রশিদ (কাপ-পিরিচ), আলমগীর হোসেন (মোটরসাইকেল), আঃ খালেক শিকদার (ঘোড়া), এডঃ সরোয়ার মিয়া (চশমা), ফিরোজ হাওলাদার পিরু মিয়া (অটোরিকশা), বাদশা শরিফ (টেলিফোন), মেহেদী হাসান জামাল (ঢোল), রোকন মুন্সী (আনারস), সাইদুর রহমান (দোয়াত-কলম) এবং সিদ্দিক মাতুব্বর (টেবিলফ্যান)। কালামৃধা ইউনিয়নে এসকেন্দার আলী খলিফা (নৌকা), রেজাউল মাতুব্বর (ঘোড়া) এবং লিটন মাতুব্বর (আনারস)। কাউলীবেড়া ইউনিয়নে রেজাউল হাসনাত দুদু মিয়া (নৌকা), আশরাফুল আলম লিটু মোল্লা (চশমা), কাজী রওশন কবির (টেলিফোন) এবং মিজানুর রহমান  (ঢোল)। নাছিরাবাদ ইউনিয়নে শাজাহান খান (নৌকা), মো. শামছুল আলম (আনারস), রতœা বেগম (টেবিলফ্যান), মিরাজ খান (চশমা), মিজানুর রহমান খালাসী (অটোরিকশা), নুরে আলম সিদ্দিকি (মোটরসাইকেল), মো. ছবুর খান (ধানের শীষ), আমজাদ হোসেন (ঘোড়া) এবং আকবর খান (রজনীগন্ধা)। এ ব্যাপারে ভাঙ্গা উপজেলা নির্বাচন অফিসার মো. নুরু আমিন বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার জন্য যাবতীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যেই প্রিজাডিং অফিসারদের স্থান, বণ্টন, নির্দেশনা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে আচরণবিধি লঙ্ঘন প্রতিরোধে যাবতীয় ব্যবস্থা গ্রহণসহ যা যা করণীয় সমস্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: বিদ্রোহীদের পদচারণায় নৌকার প্রার্থীরা দিশেহারা ভাঙ্গার ১২ ইউনিয়ন
আরও পড়ুন