Inqilab Logo

ঢাকা, শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২০, ৩১ শ্রাবণ ১৪২৭, ২৪ যিলহজ ১৪৪১ হিজরী
শিরোনাম

দোয়া কবুলের মাসে ৪০টি দোয়া

মুফতি হানিফ আল হাদী | প্রকাশের সময় : ৭ মে, ২০১৯, ১২:০৫ এএম

দোয়া হচ্ছে ইবাদতের সার। ঈমানদারের অস্ত্র। আল্লাহ তায়ালার সাথে চুপি চুপি কথা বলা, যা সবচেয়ে উন্নত, স্বাধীন, শক্তিশালী এবং পরিশুদ্ধ কথোপকথন। দোয়া আল্লাহ তায়ালার প্রতি আনুগত্যের প্রতীক। এর মাধ্যমেই মানুষ তাঁর সাথে সবচেয়ে বেশি নির্ভরতা, স্বাধীনতা, সক্ষমতা এবং সহজতর ভঙ্গিমায় কথা বলতে পারে। আমরা তাঁর কাছেই আশ্রয় চাই, কারণ তিনিই একমাত্র সত্তা যিনি আমাদের কষ্ট লাঘব করেন এবং আমাদের যাবতীয় সমস্যা দূর করেন।
আমরা তাঁর কাছে দোয়া করি। কারণ তিনিই একমাত্র সত্তা যিনি দান করেন। তিনি কারও মুখাপেক্ষী নন, সবাই তাঁর মুখাপেক্ষী। সবকিছুর উপর তিনি ক্ষমতাবান, তার উপর কারও কোন ক্ষমতা নেই। তাঁর জ্ঞান অসীম; আমাদের সীমায়িত জ্ঞান তাঁর সাথে তুলনার কোন যোগ্যতা রাখে না। তিনি আমাদের প্রভু, আমরা তাঁর গোলাম। তিনি এ দুনিয়াতেই আমাদের দোয়া কবুল করতে পারেন; অথবা আখেরাতে এর বদলা দিতে পারেন; অথবা আমরা যা চেয়েছি, তা থেকে তিনি আরও উত্তম জিনিস আমাদেরকে দান করতে পারেন।
পবিত্র রমজানুল মোবারক যেহেতু পুরোটাই দোয়া কবুলের বিশেষ মুহূর্ত। অন্য আমলের সাথে সাথে দোয়ার প্রতিও আমাদের যত্মবান হতে হবে। আর দোয়া করার ক্ষেত্রে মহান রব্বুল আলামিন পবিত্র কুরআনুল কারীমে যে দোয়া শিখিয়েছেন তা সর্বোত্তম দোয়া। তাই কুরআনে বর্ণিত দোয়াসমূহের অনুবাদ প্রদত্ত হল। প্রতিটি দোয়ার সাথে সুরার নাম ও আয়াত নাম্বারও উল্লেখ করা হয়েছে যেন আমরা চাইলে কুরআনুল কারীম দেখে মূল আরবি দোয়াটিও করতে পারি এবং সেটা উত্তম।
১. হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে দান কর দুনিয়াতেও কল্যাণ এবং আখেরাতেও কল্যাণ এবং আমাদেরকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করুন। [সুরা বাকারা, ২:২০১]
২. হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের ওপর সবরের গুণ ঢেলে দিন এবং আমাদেরকে অবিচল-পদ রাখুন আর কাফের সম্প্রদায়ের ওপর আমাদেরকে সাহায্য ও বিজয় দান করুন। [সুরা বাকারা, ২:২৫০]
৩. হে আমাদের পালনকর্তা! যদি আমরা ভুলে যাই কিংবা ভুল করি, তবে আমাদেরকে অপরাধী করবেন না, হে আমাদের পালনকর্তা! আমাদের ওপর এমন দায়িত্ব অর্পণ করবেন না, যেমন আমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর অর্পণ করেছেন। হে আমাদের প্রভু! এবং আমাদের দ্বারা ঐ বোঝা বহন করাবেন না, যা বহন করার শক্তি আমাদের নেই। আমাদের পাপ মোচন করুন, আমাদেরকে ক্ষমা করুন এবং আমাদের প্রতি দয়া করুন। আপনিই আমাদের প্রভু! সুতরাং কাফের সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আমাদেরকে সাহায্য করুন। [সুরা বাকারা, ২:২৮৬]
৪. হে আমাদের পালনকর্তা সরল পথ প্রদর্শনের পর আপনি আমাদের অন্তরকে সত্য লঙ্ঘনে প্রবৃত্ত করবেন না এবং আপনার নিকট থেকে আমাদিগকে অনুগ্রহ দান করুন। আপনিই সব কিছুর দাতা। [সুরা আলইমরান, ৩:৮]
৫. হে আমাদের পালনকর্তা! আমরা ঈমান এনেছি, কাজেই আমাদের গুনাহ ক্ষমা করে দিন আর আমাদেরকে দোজখের আজাব থেকে রক্ষা করুন। [সুরা আলইমরান, ৩:১৬]
৬. হে আমাদের পালনকর্তা! এসব আপনি অনর্থক সৃষ্টি করেননি। সকল পবিত্রতা আপনারই, আমাদেরকে আপনি দোজখের শাস্তি থেকে রক্ষা করুন। [সুরা আলইমরান, ৩:১৯১]
৭. হে আমাদের পালনকর্তা! নিশ্চয়ই আপনি যাকে দোজখে নিক্ষেপ করলেন তাকে সব সময় অপমানিত করলেন; আর জালেমদের জন্য তো কোন সাহায্যকারী নেই। [সুরা আলইমরান, ৩:১৯২]
৮. হে আমাদের পালনকর্তা! আমরা নিশ্চিতরূপে শুনেছি, একজন আহ্বানকারীকে ঈমানের প্রতি আহ্বান করতে যে, তোমাদের পালনকর্তার প্রতি ঈমান আন; তাই আমরা ঈমান এনেছি। হে আমাদের পালনকর্তা! অতঃপর আমাদের সকল গুনাহ মাফ করুন এবং আমাদের সকল দোষত্রুটি মাফ করে দিন, আর আমাদের মৃত্যু দিন নেক লোকদের সাথে। [সুরা আলইমরান, ৩:১৯৩]
৯. হে আমাদের পালনকর্তা! আমাদেরকে দিন যা আপনি ওয়াদা করেছেন আপনার রসুলগণের মাধ্যমে এবং কেয়ামতের দিন আমাদেরকে আপনি অপমানিত করবেন না। নিশ্চয়ই আপনি ওয়াদা ভঙ্গ করেন না। [সুরা আলইমরান, ৩:১৯৪]
১০. হে আমাদের পালনকর্তা! আমরা নিজেদের প্রতি জুলুম করেছি। যদি আপনি আমাদেরকে ক্ষমা না করেন এবং আমাদের প্রতি অনুগ্রহ না করেন, তবে আমরা অবশ্যই ধ্বংস হয়ে যাব। [সুরা আলআরাফ, ৭:২৩]
১১. হে আমাদের পালনকর্তা! আমাদের জন্য ধৈর্যের দ্বার খুলে দিন এবং আমাদেরকে মুসলমান হিসেবে মৃত্যু দান করুন। [সুরা আলআরাফ, ৭:১২৬]
১২. আপনি যে আমাদের রক্ষক- সুতরাং আমাদেরকে ক্ষমা করে দিন এবং আমাদের ওপর করুণা করুন। তাছাড়া আপনিই তো সর্বাধিক ক্ষমাকারী। [সুরা আলআরাফ, ৭:১৫৫]
১৩. হে আমাদের পালনকর্তা! আমাদের ওপর এ জালিম কওমের শক্তি পরীক্ষা করবেন না। আর আমাদেরকে অনুগ্রহ করে ছাড়িয়ে দিন এই কাফেরদের দল থেকে। [সুরা ইউনুস, ১০:৮৫-৮৬]
১৪. হে নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের স্রষ্টা! আপনি আমার কার্যনির্বাহী ইহকাল ও পরকালে। আমাকে ইসলামের ওপর মৃত্যু দান করুন এবং আমাকে নেককারদের সাথে মিলিত করুন। [সুরা ইউসুফ, ১২:১০১]
১৫. হে পালনকর্তা! আমাকে নামাজ কায়েমকারী করুন এবং আমার সন্তানদের মধ্য থেকেও। হে আমাদের পালনকর্তা! আমাদের দোয়া কবুল করুন। [সুরা ইবরাহিম, ১৪:৪০]
১৬. হে আমাদের পালনকর্তা! আমাকে, আমার পিতা-মাতাকে এবং সব মুমিনকে ক্ষমা করুন, যেদিন হিসাব কায়েম হবে। [সুরা ইবরাহিম, ১৪:৪১]
১৭. হে পালনকর্তা! তাদের উভয়ের প্রতি রহম কর, যেমন তারা আমাকে শৈশবকালে লালনপালন করেছে। [সুরা বনি ইসরাইল, ১৭:২৪]
১৮. হে পালনকর্তা! আমাকে দাখিল করুন সত্যরূপে এবং আমাকে বের করুন সত্যরূপে এবং দান করুন আমাকে নিজের কাছ থেকে রাষ্ট্রীয় সাহায্য। [সুরা বনি ইসরাইল, ১৭:৮০]
১৯. হে আমাদের পালনকর্তা! আমাদেরকে নিজের কাছ থেকে রহমত দান করুন এবং আমাদের জন্য আমাদের কাজ সঠিকভাবে পূর্ণ করুন। [সুরা কাহাফ, ১৮:১০]
২০. হে আমার পালনকর্তা! আমার বক্ষ প্রশস্ত করে দিন। এবং আমার কাজকে সহজ করে দিন। এবং আমার জিহ্বা থেকে জড়তা দূর করে দিন যাতে তারা আমার কথা বুঝতে পারে। [সুরা তহা, ২০:২৫-২৮]
২১. হে আমার পালনকর্তা আমার জ্ঞান বৃদ্ধি করুন। [সুরা তহা, ২০:১১৪]
২২. আমি দুঃখ-কষ্টে পতিত হয়েছি এবং আপনি দয়াবানের চেয়েও সর্বশ্রেষ্ঠ দয়াবান। [সুরা আম্বিয়া, ২১:৮৩]
২৩. হে আমার পালনকর্তা! আমাকে একা রাখবেন না। আপনি তো উত্তম ওয়ারিশ। [সুরা আম্বিয়া, ২১:৮৯]
২৪. হে আমার পালনকর্তা! আমাকে কল্যাণকরভাবে নামিয়ে দিন, আপনি শ্রেষ্ঠ অবতারণকারী। [সুরা আলমুমিনুন, ২৩:২৯]
২৫. হে আমার পালনকর্তা! আমি শয়তানের প্ররোচনা থেকে আপনার আশ্রয় প্রার্থনা করি। এবং হে আমার পালনকর্তা! আমার নিকট তাদের উপস্থিতি থেকে আপনার আশ্রয় প্রার্থনা করি। [সুরা আলমুমিনুন, ২৩:৯৭]
২৬. হে আমাদের পালনকর্তা! আমরা বিশ্বাস স্থাপন করেছি অতএব আপনি আমাদের ক্ষমা করুন ও আমাদের প্রতি রহম করুন। আপনি তো দয়ালুদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ দয়ালু। [সুরা আলমুমিনুন, ২৩:৯৮]
২৭. হে আমার পালনকর্তা! আমাদের কাছ থেকে জাহান্নামের শাস্তি হটিয়ে দিন। নিশ্চয় এর শাস্তি নিশ্চিত বিনাশ। [সুরা ফুরকান, ২৫:৬৫]
২৮. হে আমাদের পালনকর্তা! আমাদের স্ত্রীদের পক্ষ থেকে এবং আমাদের সন্তানদের পক্ষ থেকে আমাদের জন্যে চোখের শীতলতা দান করুন এবং আমাদেরকে মুত্তাকীদের জন্যে আদর্শস্বরূপ করুন। [সুরা আলফুরকান, ২৫:৭৪]
২৯. হে আমার পালনকর্তা! আপনি আমাকে সামর্থ্য দিন যাতে আমি আপনার সেই নেয়ামতের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে পারি, যা আপনি আমাকে ও আমার পিতা-মাতাকে দান করেছেন এবং যাতে আমি আপনার পছন্দনীয় সৎকর্ম করতে পারি এবং আমাকে নিজ অনুগ্রহে আপনার সৎকর্মপরায়ণ বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত করুন। [সুরা আননামল, ২৭:১৯]
৩০. হে আমার পালনকর্ত! আপনি আমার প্রতি যে অনুগ্রহ নাজিল করবেন, আমি তার মুখাপেক্ষী। [সুরা আলকাসাস, ২৮:২৪]
৩১. হে আমার পালনকর্তা! দুস্কৃতকারীদের বিরুদ্ধে আমাকে সাহায্য করুন। [সুরা আলআনকাবুত, ২৯:৩০]
৩২. হে আমাদের প্রতিপালক! আপনার রহমত ও জ্ঞান সবকিছু জুড়ে ব্যপ্ত। সুতরাং যারা তাওবা করেছে ও আপনার পথের অনুসারী হয়েছে তাদেরকে ক্ষমা করে দিন এবং তাদেরকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করুন। [সুরা গাফির, ৪০:০৭]
৩৩. হে আমাদের প্রতিপালক! তাদেরকে দাখিল করুন স্থায়ী জান্নাতে, যার ওয়াদা আপনি তাদের সাথে করেছেন এবং তাদের পিতা-মাতা, স্ত্রী ও সন্তানদের মধ্যে যারা নেক লোক তাদেরকেও। নিশ্চয়ই কেবল আপনার সত্তা পরিপূর্ণ ক্ষমতার মালিক, পরিপূর্ণ হেকমতেরও মালিক। এবং তাদেরকে সব রকম মন্দ বিষয় থেকে রক্ষা করুন। সেদিন আপনি যাকে অকল্যাণ থেকে রক্ষা করলেন, তার প্রতি আপনি প্রভ‚ত দয়া করলেন। আর এট্ইা মহাসাফল্য। [সুরা গাফির, ৪০:০৮-০৯]
৩৪. আমার জন্যে আমার সন্তানদেরকে সৎকর্মপরায়ণ করুন। আমি আপনার কাছে তাওবা করছি এবং আমি আনুগত্য প্রকাশকারীদের অন্তর্ভুক্ত। [সুরা আলআহকাফ, ৪৬:১৫]
৩৫. আমি অক্ষম, অতএব, আপনি প্রতিবিধান করুন। [সুরা আলকমার, ৫৪:১০]
৩৬. হে আমাদের প্রতিপালক! ক্ষমা করুন আমাদেরকে এবং আমাদের সে ভাইদেরকেও, যারা আমাদের আগে ঈমান এনেছে এবং আমাদের অন্তরে ঈমানদারদের প্রতি কোন হিংসা-বিদ্বেষ রাখবেন না। হে আমাদের প্রতিপালক! আপনি অতি মমতাবান, পরম দয়ালু। [সুরা আলহাশর, ৫৯:১০]
৩৭. হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা আপনারই ওপর নির্ভর করছি, আপনার দিকেই রুজু হয়েছি এবং আপনারই কাছে আমাদেরকে ফিরে যেতে হবে। [সুরা আলমুমতাহিনা, ৬০:০৪]
৩৮. হে আমাদের প্রতিপালক! আপনি আমাদেরকে কাফেরদের পরীক্ষার পাত্র বানাবেন না এবং হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে ক্ষমা করুন। নিশ্চয়ই কেবল আপনিই এমন, যার ক্ষমতা পরিপূর্ণ, হেকমতও পরিপূর্ণ। [সুরা আলমুমতাহিনা,৬০:০৫]
৩৯. হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের জন্যে এ আলোকে পরিপূর্ণ করে দিন এবং আমাদেরকে ক্ষমা করুন। নিশ্চয়ই আপনি সকল বিষয়ে শক্তিমান। [সুরা আততাহরিম, ৬৬:০৮]
৪০. হে আমাদের প্রতিপালক! আমাকে ক্ষমা করে দিন এবং আমার পিতা-মাতাকেও এবং প্রত্যেক এমন ব্যক্তিকেও, যে ঈমানের অবস্থায় আমার ঘরে প্রবেশ করেছে আর সব মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীকেও। আর যারা জালেম তাদের শুধু ধ্বংসই বৃদ্ধি করুন। [সুরা নূহ, ৭১:২৮]
দুরুদ শরিফ: দুরুদ শরিফ দোয়া কবুল হওয়ার মাধ্যম। হজরত ওমর ইবনুল খাত্তাব রাদি. থেকে বর্ণিত, “রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন- নিশ্চয়ই দোয়া আসমান ও জমিনের মাঝে ঝুলন্ত থাকে; কোন অংশই উপরে ওঠে না, যতক্ষণ না তুমি তোমার নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর দুরুদ পাঠ করবে।” [তিরমিজি শরিফ, হাদিস নং ৪৮৬]
দুরুদ শরিফ পাঠে মুনাফেকী ও দোজখ থেকে মুক্তি লাভ হয়। হজরত আনাস ইবনে মালেক রাদি. থেকে বর্ণিত, “রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন- যে ব্যক্তি আমার ওপর একবার দুরুদ পাঠ করবে, আল্লাহ তায়ালা তার প্রতি দশবার রহমত নাযিল করবেন। যে ব্যক্তি দশবার দুরুদ পাঠ করবে, আল্লাহ তায়ালা তার প্রতি একশতবার রহমত নাযিল করবেন। যে ব্যক্তি একশতবার দুরুদ পাঠ করবে, আল্লাহ তায়ালা তার কপালে মুনাফেকী ও জাহান্নাম থেকে মুক্তির ফয়সালা লিখে দিবেন। কেয়ামতের দিন তাকে শহীদগণের সাথে জায়গা দিবেন।” [আল মু‘জামুল আওসাত, হাদিস নং ৭২৩৫]
দুরুদ শরিফ পাঠে রহমত ও ক্ষমা লাভ হয় এবং মর্যাদা বৃদ্ধি পায়। হজরত আনাস ইবনে মালেক রাদি. থেকে বর্ণিত, “রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন- “যে ব্যক্তি আমার প্রতি একবার দুরুদ পাঠ করবে আল্লাহ তায়ালা তার ওপর দশবার রহমত নাযিল করবেন। এমনকি দশটি পাপ ক্ষমা করে দেওয়া হবে এবং দশটি মর্যাদাও বৃদ্ধি করে দেওয়া হবে। [নাসায়ী শরিফ, হাদিস নং ১২৯৬]
পবিত্র এই মাস মুমিন মুসলমানদের জন্যে রাব্বুল আলামিনের অশেষ করুণা ও রহমতের বারি বর্ষণের মাস। এ মাসে অতীতের কৃত গুনাহ ক্ষমা না করাতে পারলে হজরত জিবরীল আ.-এর বদদোয়ার ভাগী হতে হবে; যার ওপর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ‘আমিন’ বলেছেন। তাই রমজান আমাদের সাধনার মাস; কীভাবে গুনাহগুলো ক্ষমা করাতে পারি। গুনাহের ক্ষমা, আখেরাতে মুক্তির পরোয়ানা, মর্যাদাবৃদ্ধিসহ দুনিয়াতে মান-সম্মানের অন্যতম মাধ্যম দুরুদ শরিফ। তাই অন্যান্য আমলের পাশাপাশি অধিক দুরুদ শরিফ পাঠ সকলেরই কর্তব্য। সহজে পাঠের জন্য ছোট ছোট কয়েকটি দুরুদ শরিফ নিচে উল্লেখ করা হল। আল্লাহ তায়ালাই সকল নেক কাজের তাওফিকদাতা।
১. সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।
২. সাল্লাল্লাহু আলা মুহাম্মাদিন ওয়া জাজাহু আন্না মা হুয়া আহলুহু।
৩. জাজাল্লাহু আন্না মুহাম্মাদাম মা হুয়া আহলুহু।
৪. আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদিও ওয়া সাল্লিম আলাইহি।
৫. আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদিও ওয়া আলা আলি মুহাম্মাদ।
৬. আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদিও ওয়া আনযিলহুল মাক‘আদাল মুর্কারবা ‘ইনদাকা ইয়াওমাল কিয়ামাহ।
৭. আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদিও ওয়া আলা আলি মুহাম্মাদিন সালাতান দাইমাতান বিদাওয়ামিক।
৮. আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদিও ওয়া আলা আবিনা ইবরাহিম।
৯. আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদিও ওয়া আলিহি কামা লা নিহায়াতা লিকামালিহি ওয়া আদাদি কামালিহি।
১০. আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদিও ওয়া বাল্লিগহু দারাজাতাল ওয়াসিলাতি ইনদাকা ওয়াজআলনা ফি শাফাআতিহি ইয়াওমাল কিয়ামাহ।
১১. আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদিও ওয়া আলা আলি মুহাম্মাদিও ওয়া বারিক আলা মুহাম্মাদিও ওয়া আলা আলি মুহাম্মাদিন ওযারহাম মুহাম্মাদান ওয়া আলি মুহাম্মাদিন কামা সাল্লাইতা ওয়া বারকতা ওয়া রহিমতা আলা ইবরাহিমা ওয়া আলা আলি ইবরাহিমা ইন্নাকা হামিদুম মাজিদ।
১২. আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদিনিন নাবিয়্যিল উম্মিয়্যি ওয়া আলা আলি মুহাম্মাদ।
১৩. আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদিনিন নাবিয়্যিল উম্মিয়্যি ওয়া আলা আলিহি ওয়া সাল্লিম তাসলিমা।
১৪. আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদিনিন নাবিয়্যি ওয়া আযওয়াজিহি উম্মাহাতিল মু’মিনিনা ওয়া যুররিয়্যাতিহি ওয়া আহলি বাইতিহি কামা সাল্লাইতা আলা ইবরাহিমা ইন্নাকা হামিদুম মাজিদ।
১৫. আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদিন আবদিকা ওয়া রসুলিকা ওয়া সাল্লি আলাল মু’মিনিনা ওয়াল মু’মিনাতি ওয়াল মুসলিমিনা ওয়াল মুসলিমাত।
১৬. আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা রুহি মুহাম্মাদিন ফিল আরওয়াহ ওয়া সাল্লি আলা জাসাদি মুহাম্মাদিন ফিল আজসাদ ওয়া সাল্লি আলা কবরি মুহাম্মাদিন ফিল কুবুর।
১৭. আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদিন কুল্লামা যাকারহুয যাকিরুন ওয়া কুল্লামা গফালা আন যিকরিহিল গাফিলুন।
১৮. আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদিন কামা তুহিব্বু ওয়া তারদা লাহু।
১৯. আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদিন বিআদাদি কুল্লি দা’ইন ওয়া দাওয়াইন ওয়া বারিক ওয়া সাল্লিম।
২০. আল্লাহুম্মা সাল্লি ওয়া সাল্লিম আলান নাবিয়্যিত তাহিরি।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: রমজান
আরও পড়ুন