Inqilab Logo

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৯, ০২ কার্তিক ১৪২৬, ১৭ সফর ১৪৪১ হিজরী

অস্তিত্ব সঙ্কটে বগুড়ার নদ-নদী

দখল-দূষণে হারিয়ে যাচ্ছে মানাস ও ইছামতি

বগুড়া থেকে মহসিন রাজু | প্রকাশের সময় : ৮ মে, ২০১৯, ১২:০৪ এএম

বগুড়ায় একসময় নৌযোগে যাতায়াত ও মালামাল পরিবহন ছিল খুবই স্বাভাবিক। বগুড়ার পূর্বপ্রান্তের করতোয়া বাঙালি ও যমুনা নদীতে বড় বড় সওদাগরী নৌকায় এক সময় ধান চাল পাট বগুড়া হয়ে বিভিন্ন রুট ঘুরে সিরাজগঞ্জ, জামালপুর, নারায়নগঞ্জ ও খুলনার মোকামে পাঠানো হতো। বগুড়ায় আসতো নারকেল ও বিভিন্ন মেশিনারিজ দ্রব্যসামগ্রী। কিন্তু ৭৪ সালে ফারাক্কা বাঁধ প্রকল্প আনুষ্ঠানিকভাবে চালু ও পরবর্তিকালে তিস্তার উজানে গজলডোবায় ব্যারাজ বসিয়ে এবং অন্যান্য স্থানে ছোট ছোট স্পার ও সুইসগেট বসিয়ে ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রবেশের মুখে পানি আটকে বা প্রত্যাহার করে নেওয়ায় অন্যান্য জেলারমত বগুড়ার নদ-নদীগুলোও পানি সঙ্কটে ভুগতে থাকে। এর পাশাপাশি নদী দখল করার ঘৃণ্য মানষিকতার কারণে পানি কমতে কমতে অস্তিত্ব সঙ্কটে পড়েছে বগুড়ার নদ-নদীগুলো।
বগুড়ার পশ্চিম প্রান্তের নাগর নদটি ছিল বগুড়ার সাথে নওগাঁসহ বরেন্দ্র এলাকায় যোগাযোগের বড় মাধ্যম। বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এই নাগর নদ দিয়েই তার বজরা ভাসিয়ে জমিদারি এলাকায় ঘোরাঘুরি করতেন। ‘তালগাছ এক পায়ে দাড়িয়ে, সব গাছ ছাড়িয়ে, কিংবা ‘আমাদের ছোট নদী চলে বাঁকে বাঁেক বৈশাখ মাসে তার হাঁটু জল থাকে, অথব ‘আঁচলে ছাঁকিয়া তারা ছোট মাছ ধরে’ জাতীয় কবিতার পংক্তিমালা রবীন্দ্রনাথ সৃষ্টি করেন এই নাগর নদকে ঘিরেই। অথচ আজ বগুড়ার সেই বিখ্যাত নদ ও নদীগুলো গ্রীষ্মকালে হাঁটু পানিতো দূরে থাক শুকনো মওশুমের পুরোটা সময় জুড়েই বিরাজ করে ধুধু মরুময়তা।
বগুড়ার নাগর নদ ও করতোয়া, বাঙালি এবং গাংনৈ নদীতে এখন শুকনো মওশুমে বোরোধানের চাষাবাদ হয়। আর দখলের কারনে পুর্ববগুড়ার মানাস ও ইছামতি নামের দুটি ঐতিহাসিক নদী মানচিত্র থেকে মুছেই যেতে বসেছে।
এক সময়ের চলাচলের জনপ্রিয় মাধ্যম নৌকার ব্যবহার এখন নেই বললেই চলে। যে অল্প সংখ্যক নৌকা এখনও বর্ষাকালে ব্যবহার করা হয় সেগুলো পুরো শুকনো মওশুম জুড়ে নদীর পাড়ে পড়ে থাকে অযত্মে অবহেলায়।
দখল ও দূষন বগুড়ার নদ নদীকে মুমুর্ষদশায় উপনীত হওয়ার অন্যতম একটি কারন বলে মনে করেন বগুড়ার পরিবেশবাদীরা। তাদের উত্থাপিত দাবি সেইসাথে লাগাতার আন্দোলন এবং সরকারের উচ্চ পর্যাযের সবুজ সংকেতে এবং হাইকোর্টের একটি নির্দেশনার আলোকে চলতি এপ্রিল মাসের প্রথম সপ্তাহে বগুড়া জেলা প্রশাসন ঢাকঢোল পিটিয়ে করতোয়াকে দখল উচ্ছেদের কাজ শুরু করলে সর্বমহলে তা’ বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়। তবে এই নদীর বৃহত্তম অংশের দখলদার একটি এনজিও সংস্থা ও একজন নদীখেকো আইনজীবীর মামলার অজুহাতে হঠাৎ থেমে গেছে করতোয়ার অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ কার্যক্রম।
ইনকিলাবের পক্ষ থেকে জানতে চাইলে জেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কোর্টের স্টে অর্ডারের কারণে উচ্ছেদ কার্যক্রমে সাময়িক ছেদ পড়েছে। স্টে অর্ডার ভ্যাকেট করে চুড়ান্ত উচ্ছেদের ব্যাপারে জেলা প্রশাসন অনঢ় অবস্থানে আছে এবং থাকবে, কোনো দখলদারই ছাড় পাবেনা।
বগুড়ায় পরিবেশ আন্দোলনের সাথে জড়িত একাধিক সূত্র বলেছে, বৈরী প্রকৃতির কারণে এমনিতেই বগুড়া সহ বরেন্দ্র অঞ্চলে ভুগর্ভস্ত পানির স্তর বিপজ্জনক স্তরে নেমে গেছে। বগুড়ার অনেক এলাকায় এখন সাবমার্সিবল পাম্প বসিয়েও খাবার মতো সুপেয় পানি মিলছেনা। তারা বলছেন, পরিস্থিতি এরকম থাকলে ভবিষ্যতে খাবার উপযোগি সুপেয় পানির অভাব ও মরুময়তা প্রকট হয়ে উঠবে বগুড়ায়।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: নদী

৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯
২৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯
২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

আরও
আরও পড়ুন