Inqilab Logo

ঢাকা, শুক্রবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৫ আশ্বিন ১৪২৬, ২০ মুহাররম ১৪৪১ হিজরী

বাজেটের মজা পেতে অপেক্ষায় থাকতে বললেন অর্থমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ৯ মে, ২০১৯, ১২:০৪ এএম

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তুফা কামাল বলেছেন, আগামী বাজেটের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট করে বলার সময়ে এখনও আসেনি। অপেক্ষা করেন। বাজেটের মজা পেতে হলে অপেক্ষা করতে হবে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাশিয়া থেকে ১ লাখ টন গত এবং কৃষি খাতে ব্যবহারের জন্য সউদী আরব থেকে ৩ লাখ ৫০ হাজার টন গম আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এই দুটি প্রস্তাবসহ সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে মোট ১১টি ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
গতকাল বুধবার সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ কক্ষে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন।
আগামী বাজেট অর্থমন্ত্রী হিসেবে আপনার প্রথম বাজেট, এ বাজেটে কোন কোন খাতে অগ্রাধকার দিচ্ছেন। ওই সাংবাদিককে উদ্দেশ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, বাজেটের অগ্রাধিকার হচ্ছেন আপনি। আপনাকে অগ্রাধিকার দিয়েই বাজেট প্রণয়ন হবে। দেশের সকল মানুষের জন্য বাজেট। এবং দেশের মানুষকে প্রাধান্য দিয়েই বাজেট তৈরি করব। দেশের উন্নয়ন হয়, প্রত্যেকটি মানুষের যেন উপকারে আসে এবং প্রত্যেকটি সেক্টরকে আরও বিকশিত করার মতো করে বাজেট দেব। কোন কোন খাতকে অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, এখন বলব না, অপেক্ষা করেন। বাজেটের মজা পেতে হলে অপেক্ষা করতে হবে। বৈঠকে কমিটির সদস্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সিনিয়র সচিব, সংশ্লিস্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে সউদী আরব ও বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) এর মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তির আওতায় ৩ লাখ ৫০ হাজার টন ডিএপি সার আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফসলের মৌসুমে কৃষক যাতে নির্ভাবনায় ফসল উৎপাদন করতে পারেন, তা নিশ্চিত করতেই সার আমদানি করা হচ্ছে। এতে ব্যয় হবে এক হাজার ৩৪০ কোটি টাকা।
মুস্তফা কামাল বলেন, ২০২০ শিক্ষাবর্ষের মাধ্যমিক বাংলা ও ইংরেজি ভার্সন এবং এসএসসি ভোকেশনাল স্তরের বিনামূল্যেও বিতরণযোগ্য পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণের জন্য ১৮ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন মুদ্রণ কাগজ সংগ্রহের আহ্বানকৃত দরপত্রের বিপরীতে মুদ্রণ কাগজ ক্রয়ের প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে ব্যয় হবে ১০৫ কোটি ২৮ লাখ টাকা। মন্ত্রী বলেন, সদর দপ্তর ও জেলা কার্যালয় স্থাপনের মাধ্যমে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর শক্তিশালীকরণ (১ম সংশোধন)” শীর্ষ প্রকল্পের আওতায় আগারগাঁওয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের দুটি বেইজমেন্টসহ ১৩তলা ভিতবিশিষ্ট ১৩তলা প্রধান কার্যালয় ভবন, পয়ঃপ্রণালী, পানি সরবরাহ ও অভ্যন্তরীণ বৈদ্যুতিককরণসহ অন্যান্য নির্মাণ কাজের ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে ব্যয় হবে ১১৭ কোটি ৮৯ লাখ টাকা।
তিনি বলেন, ক্রয় কমিটি বাংলাদেশ পল্লী­ বিদ্যুতায়ন বোর্ডের পল্লী বিদ্যুতায়ন সম্প্রসারণের মাধ্যমে ১৫ লাখ গ্রাহক সংযোগ (১৯ দশমিক ৫ লাখ গ্রাহক সংযোগের সংস্থানসহ প্রথম সংশোধন) শীর্ষক প্রকল্পের বিভিন্ন লটের আওতায় টার্ন-কী ভিত্তিতে মোট ১৫টি সাব-স্টেশন নির্মাণের ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে। এ ছাড়াও চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে দুটি স্ক্যানার মেশিন ক্রয়ের একটি প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে ব্যয় হবে ৯০ কোটি টাকা।
দেশের ব্যাংকিং সেক্টর ও শেয়ারবাজারের জন্য কী থাকছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ব্যাংকি সেক্টরের জন্য উপযোগী যা দরকার সব থাকবে। শেয়ার মার্কেট নিয়েও বাজেটে কথা থাকবে। সকল সেক্টর নিয়ে কথা থাকবে। তবে নির্দিষ্ট করে এ মুহূর্তে কোনো কথা বলা যাবে না। কারণ বাজেট বিষয়ে কথা বলার নির্দিষ্ট সময় আছে সে সময় এখনও আসেনি।
অর্থমন্ত্রী বলেন, এখনই বাজেট নিয়ে খোলাখুলি কথা বলার কিছু নেই। কারণ বাজেটে সবারই চাহিদা আছে। সবার চাহিদা পুরণ করতে আমারা চেষ্টা করব। তারপারও শতভাগ পুরণ কারা সম্ভাব নয়, এটা আপনারা ভালো করেই জানেন। রাজস্ব আহরণ করতে হবে। তারপর প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করতে হবে। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, বাজেট প্রণয়নে কোনো চ্যালেঞ্জ নেই। বাস্তবায়নেই মূল চ্যালেঞ্জ। অর্থের কোনো অসুবিধা নয়। বাজেট ঘাটতি হবে ৫ শতাংশ। এটা গতবারও ছিল, তার আগেরবারও ছিল। এটা স্ট্যান্ডার্ড।
মন্ত্রীপরিষদ বিভাগের অভিমতে দুর্নীতি কমানো গেলে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা বেশি রাজস্ব আদায় করা সম্ভাব হবে? এমন প্রশ্নের উত্তরে অর্থমন্ত্রী বলেন, এদেশে ৪ কোটি মধ্য আয়ের মানুষ আছে। সেখানে ট্যাক্স দেয় ২৪ লাখ। মন্ত্রীপরিষদ বিভাগ যা বলেছে সত্য কথা বলেছে। চার কোটি মানুষ ট্যাক্স দিলে আমাদের ট্যাক্স জিডিপির অনুপাত অনেক বেড়ে যেত। এখন যেটা মাত্র ১০ শতাংশ। তবে আগামীতে ট্যাক্স না দিয়ে কেউ থাকতে পারবে না। যারা দিয়েছে তারা ট্যাক্স দেবে, যারা দেয়নি তারাও দেবে। এমন ব্যবস্থাই করা হবে। খেলাপি ঋণ পুনঃ তফসিলিকরণের বিষয়টি বাজেটে নয় বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমেই দেয়া হবে। কাছাকাছি সময়ের মধ্যেই প্রজ্ঞাপন হবে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: অর্থমন্ত্রী


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ