Inqilab Logo

ঢাকা, শুক্রবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৯, ০২ কার্তিক ১৪২৬, ১৮ সফর ১৪৪১ হিজরী

‘শতকরা ৯০ ভাগ লুপাস রোগী কমবয়সী মহিলা’

বিএসএমএমইউতে বিশ্ব লুপাস দিবস পালন

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ৯ মে, ২০১৯, ৬:২৮ পিএম

লুপাস বা এসএলই মানে সিস্টেমিক লুপাস ইরাথেমেটোসাস রোগে রোগীর রোগ প্রতিরোধকারী সিস্টেম নিজের শরীরে বিরুদ্ধে কাজ শুরু করে। এই রোগটি শরীরের বিভিন্ন সিস্টেম (যেমন- চর্ম এমএসকে সিস্টেম, ¯œায়ুতন্ত্র, রক্ত সঞ্চালন তন্ত্র, কিডনি ইত্যাদিকে) আক্রমণ করে। যাতে ত্বকের কিছু অংশ লাল হয়ে যায়। লুপাস একটি গ্রীক শব্দ যার অর্থ ‘নেকড়ে’। এই রোগের আক্রমণ অনেকটা নেকড়ের আক্রমণের মত আকস্মিক, তাই একে ‘লুপাস’ বলা হয়। লুপাস রোগে শরীরের চর্ম, ¯œায়ুতন্ত্র, রক্তসঞ্চালন তন্ত্র, কিডনী ইত্যাদি আক্রমণ করে। বর্তমান পর্যন্ত এই রোগের সঠিক কোনো কারণ জানা যায়নি। প্রতি এক লাখ মানুষের মধ্যে ২০ থেকে ১৫০ জনের এই রোগ হতে পারে। শতকরা ৯০ ভাগ লুপাস রোগী কমবয়সী মহিলা যাদের শতকরা ৬৫ ভাগ রোগীর বয়স ১৬ থেকে ৫৫ এর মধ্যে, শতকরা ২০ ভাগ ১৬ বছরে নীচে এবং শতকরা ১৫ ভাগ ৫৫ বছরের বেশী মহিলা। ছেলেদের এই রোগের প্রকোপ মেয়েদের চেয়ে অনেক কম। বৃহষ্পতিবার (৯ মে) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশ্ব লুপাস বা এসএলই দিবস উপলক্ষে শহীদ ডা. মিলন হলে আয়োজিত সেমিনারে বিশেষজ্ঞরা এসব কথা বলেন। এছাড়াও দিবসটি উপলক্ষে ‘এসো হাতে হাত ধরি, রুখতে লুপাস ঐক্য গড়ি’ স্লোগানে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়।

সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য সচিব মো. আসাদুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএসএমএমইউ’র ভিসি প্রফেসর ডা. কনক কান্তি বড়–য়া। অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যারয়ের প্রো-ভিসি ডা. মো. শহীদুল্লাহ সিকদার, ডা. সাহানা আখতার রহমান, ডা. মুহাম্মদ রফিকুল আলম, কোষাধ্যক্ষ ডা. মোহাম্মদ আতিকুর রহমান।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, লুপাস রোগের লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছেÑ অনেক দিন ধরে জ্বর, কিন্তু সঠিক কারণ না পাওয়া, নাকের দুই পাশে লাল চাড়া হওয়া, যা দেখতে প্রজাপতির পাখার মত, শরীরের বিভিন্ন স্থানে লাল রংয়ের অথবা গোল গোল চাকা হওয়া, অতিরিক্ত চুল পড়া, গিড়ায় ব্যথা, রক্ত শূন্যতা, মুখের তালুতে ঘা হওয়া, কিছু ক্ষেত্রে ঠান্ডা পানিতে হাত রাখলে হাতের রংয়ের পরিবর্তন হওয়া (প্রথমে সাদা, তারপর নীল, তারপর লাল), ক্লান্তি বা অবসাদ লাগা ইত্যাদি। এই রোগের উপসর্গের মধ্যে রয়েছেÑ শ্বাসকষ্ট হওয়া, মুখে, শরীরে বা পেটে পানি আসা, ডায়রিয়া, বমি অথবা পেট ব্যথা হওয়া, বার বার বাচ্চা নষ্ট হওয়া, কোনো একটি পা ফুলে গিয়ে ব্যথা হওয়া, অস্বাভাবিক আচরণ, অজ্ঞান হয়ে হওয়া ইত্যাদি। লুপাস রোগটি সম্পূর্ণ নির্মূলের কোনো ওষুধ না থাকলেও যথাযথ চিকিৎসায় এই রোগ খুব ভালভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। অনেকে কোনো উপসর্গবিহীন অবস্থায় দীর্ঘদিন ভাল থাকতে পারেন।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকবৃন্দের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারনাল মেডিসিন বিভাগের প্রফেসর ডা. মো. আবদুর রহিম, রিউমাটোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ডা. মো. নজরুল ইসলাম, রিউমাটোলজি বিভাগের প্রফেসর ও বিআরএস এবং আপলার-এর সভাপতি প্রফেসর ডা. সৈয়দ আতিকুল হক, রিউমাটোলজি বিভাগের প্রফেসর ও বিআরএস-এর মহাসচিব প্রফেসর ডা. মিনহাজ রহিম চৌধুরী, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের প্রফেসর ডা. মো. মুজিবুর রহমান, এলএফবি-এর সভাপতি প্রফেসর ডা. এম এন আলম, এলএফবি-এর মহাসচিব ফারহানা ফেরদৌস।

মো. আসাদুল ইসলাম লুপাস রোগের বিষয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টির উপর গুরুত্বারোপ করেন। ডা. কনক কান্তি বড়–য়া এই রোগের বিষয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টিতে গণমাধ্যম কর্মীদের এগিয়ে আসার পাশাপাশি লুপাস নিয়ে বৈজ্ঞানিক গবেষণা এগিয়ে আসার জন্য সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের প্রতি আহ্বান জানান।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: চিকিৎসা

২৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ