Inqilab Logo

ঢাকা, বুধবার ২৪ জুলাই ২০১৯, ০৯ শ্রাবণ ১৪২৬, ২০ যিলক্বদ ১৪৪০ হিজরী।

দুর্ভোগে কর্মজীবী রোজাদাররা

চট্টগ্রামে হোটেল রেস্তোরাঁয় মানহীন ইফতার সামগ্রী

রফিকুল ইসলাম সেলিম | প্রকাশের সময় : ১০ মে, ২০১৯, ১২:০৫ এএম


আনিসুজ্জামান ব্যাংক কর্মকর্তা। তার স্ত্রী মুন্নি আক্তার সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক। দুই জনেই সকালে অফিসে ছুটেন। বিকেলে যখন বাসায় ফিরেন তখন আর ইফতার তৈরীর সময় থাকে না। বাধ্য হয়েই তারা হোটেলের ইফতার কিনে আনেন। তবে হোটেল রেস্তেঁরায় তৈরী এসব ইফতার সামগ্রী মুখরোচক হলেও স্বাস্থ্যসম্মত নয়। অধিকাংশ সামগ্রী বাসী অথবা পোড়া তেলে ভাজা। আর এসব খাবার তৈরী এবং বিক্রিও হচ্ছে অপরিচ্ছন্ন নোংরা পরিবেশে। ইফতারি নিয়ে তাদের প্রতিদিনই নানা বিড়ম্বনা আর দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
ওই দম্পতির মতো বন্দরনগরীতে চাকরিজীবীদের ইফতার নিয়ে দুর্ভোগের শেষ নেই। বিশেষ করে যে পরিবারের স্বামী-স্ত্রী দুইজনই কর্মজীবী তাদের ইফতার নিয়ে হরেক যন্ত্রণার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। নগরীর হোটেল রেস্তোঁরগুলোতে মানসম্পন্ন ইফতারি তৈরী হলে এমন সমস্যার মুখোমুখি হতে হতো না। কারণ বিশ্বের অনেক দেশের ছোট ছোট শহরের বাসিন্দারা বাসায় রান্নাই করেন না। হোটেল রেস্তোঁরার খাবার খেয়ে তারা দিন পার করেন। অথচ দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম এই মহানগরীতে ভাল মানের ইফতারও মিলে না।
দেশের বাণিজ্যিক রাজধানী খ্যাত এই মহানগরীতে এখন জনসংখ্যা প্রায় ৬০ লাখ। প্রধান সমুদ্র বন্দর, দেশের সর্ববৃৃহৎ সরকারি বেসরকারি ইপিজেড, বহুজাতিক কোম্পানিসহ এখানকার শিল্পকারখানা, ব্যাংক-বীমায় কাজ করেন কয়েক লাখ মানুষ। চাকরিতে এখন আর নারীরাও পিছিয়ে নেই। সরকারি, বেসরকারি, বহুজাতিক কোম্পানি, ব্যাংক-বীমা, হাসপাতাল, শিপিং লাইনসহ আর্থিক প্রতিষ্ঠানে নারীরা চাকরি করছেন। তারাও সকালে ছুটেন অফিসে। অন্যদিকে কালের বিবর্তনে যৌথ পরিবারের সংখ্যাও কমে গেছে। একক পরিবারের কর্মজীবী দম্পতির জন্য অফিস শেষে ইফতার তৈরী করার সুযোগ হয় না। অফিস সময় এগিয়ে আনায় সেহেরি শেষ করেই অফিস যাওয়ার প্রস্তুতি শুরু হয়। ছুটির পর যানজটের কারণে বাসায় ফিরতে ইফতারের সময় হয়ে যায়।
নগরীর মেসবাড়ির বাসিন্দা চাকরিজীবী এবং ছাত্রদের বিরাট অংশও হোটেল রেস্তোঁরার খাবারের উপর নির্ভরশীল। মিডিয়া, হাসপাতালসহ বিভিন্ন সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠানে কর্মরতদের অনেকেই অফিসে ইফতার সারেন। তাদেরও নির্ভর করতে হয় হোটেল রেস্তোঁরার উপর। চাকরিজীবীদের বিরাট অংশই মধ্যবিত্ত। সামর্থ বিবেচনা করেই তাদের জীবন পরিচালনা করতে হয়। তাদের পক্ষে প্রতিদিন ভাল মানের রেস্টুরেন্টে তৈরী ইফতার গ্রহণ করাও সম্ভব হয় না। আর তাই তাদের নির্ভর করতে হয় মাঝারি মানের হোটেল রেস্তোঁরার উপর। নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, বেশিরভাগ হোটেল রেস্তোঁরায় ইফতার সামগ্রী তৈরী ও বিক্রি হচ্ছে অপরিচ্ছন্ন ও নোংরা পরিবেশে। দুপুরের আগেই তৈরী ইফতার হোটেল রেস্তোঁরার সামনে টেবিলে খোলা আকাশের নীচে সাজিয়ে রাখা হচ্ছে। রাস্তার যানবাহনের গতির সাথে ধুলোবালি এসে পড়ছে খাবারে। ভোক্তাদের অভিযোগ বেশিরভাগ হোটেল রেস্তোঁরায় তৈরী ইফতার সামগ্রী খাওয়ার অযোগ্য।
ইফতার কিনতে আসা কয়েক জনের সাথে কথা হয়। তারা বলেন, এই শহরের অনেক উন্নয়ন হয়েছে। কিন্তু ভালমানের কোন হোটেল রেস্তোঁরা হয়নি। কয়েকটি তারকা হোটেল আর স্টেডিয়াম পাড়ায় কিছু রেস্তোঁরা থাকলেও সেখানে মধ্যবিত্তরা সব সময় যেতে পারেন না। তারা বলেন, প্রশাসনের একটু তদারকি থাকলেই মাঝারি মানের হোটেল রেস্তোঁরাতেও মানসম্পন্ন খাবার তৈরী হতে পারে। তদারকির অভাবে ভোক্তারা নিরাপদ খাদ্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এমনকি পবিত্র রমজান মাসেও মানসম্পন্ন খাবার মিলছে না হোটেল রেস্তোঁরায়।
নগরীতে বিভিন্ন সময়ে হোটেল রেস্তোঁরায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে দেখা গেছে এমন হোটেল রেস্তোঁরা নেই তাদের জরিমানা করা হয়নি। এবার রমজানে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বাজার মনিটরিং শুরু হলেও এখনও হোটেল রেস্তোঁরায় কোন অভিযান পরিচালনা করা হয়নি। তবে ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, হোটেল রেস্তোঁরায় নিয়মিত অভিযান পরিচালিত হয়। রমজান মাসের আগেও বিভিন্ন হোটেলে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উদ্যোগে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। মাহে রমজান উপলক্ষ্যে খুব শিগগির অভিযান শুরু হবে। ইতোমধ্যে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের নেতৃত্বে কমিটি করে দেওয়া হয়েছে। তারা বাজার মনিটরিংয়ের পাশাপাশি নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে অভিযান পরিচালনা করবে।
ক্যাবের সহ-সভাপতি এস এম নাজের হোসাইন বলেন, তদারকি সংস্থাগুলোর অবেহলা আর দায়িত্বহীনতার কারণে নগরীর হোটেল রেস্তোঁরায় মানহীন, পচাবাসী ও খাবার অযোগ্য ইফতার তৈরী হচ্ছে। শুধু মাত্র রোজা আসলেই কিছু হোটেল রেস্তোঁরাকে জরিমানা আর কিছু খাবার ধ্বংস করে দায়িত্ব শেষ করা হচ্ছে। অথচ নিয়মিত মনিটরিং করা হলে এসব হোটেল রেস্তোঁরার খাবারের মান নিশ্চিত করা যেত। এক্ষেত্রে সিটি কর্পোরেশন, বিএসটিআই এবং জেলা প্রশাসনেরও দায় রয়েছে।

 



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: চট্টগ্রাম


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ