Inqilab Logo

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২ আশ্বিন ১৪২৬, ১৭ মুহাররম ১৪৪১ হিজরী।

নির্বাচনোত্তর চার মাস সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন বেড়েছে

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১০ মে, ২০১৯, ৭:২৫ পিএম

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার পরের চার মাসে সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন-নিপীড়ন ব্যাপক হারে বেড়ে গেছে বলে অভিযোগ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের। এতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন পরিষয়ের নেতৃবৃন্দ।
শুক্রবার রাজধানীর পল্টনে মণি-সিংহ ফরহাদ স্ট্রাস্ট ভবনের শহীদ তাজুল মিলনায়তনে প্রায় চার ঘণ্টাব্যাপী চলা এক বর্ধিত সভায় এ অভিযোগ করা হয়। সভায় বলা হয়, সরকারি দলের নাম ভাঙিয়ে একশ্রেণির নেতা ও কর্মী আবারও এসব অপকর্মে লিপ্ত থেকে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণেœর অপচেষ্টায় লিপ্ত। অবিলম্বে এদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণের জন্যে সরকারি দল ও আইনশৃঙ্খলা কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানিয়ে বলা হয়েছে, এহেন নির্যাতন-নিপীড়ন বন্ধ করা না গেলে সংখ্যালঘুদের অস্তিত্ব অধিকতর হুমকির মুখে পড়বে। এ ব্যাপারে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্যে ধর্মীয়-জাতিগত সব সংখ্যালঘু সংগঠনকে জাতীয় ও স্থানীয়ভাবে সমন্বিত করে আগামী ২৫ মে শনিবার সকাল ১০টায় সারাদেশে প্রতিবাদ সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিলের ডাক দেয়া হয়েছে।
সভায় সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রাণা দাশগুপ্ত একটি প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন। পরে এ প্রতিবেদনের ওপর ৬৪টি সাংগঠনিক জেলার নেতৃবৃন্দসহ কেন্দ্রীয় নেতারা বক্তব্য দেন।
রাণা দাশগুপ্ত বলেন, নির্বাচনোত্তর বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ভাঙা-গড়ার এ পর্যায়ে ধর্মীয়-জাতিগত সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা, নির্যাতন, জায়গা-জমি দখল, মন্দির উপাসনালয়ে ভাঙচুরের ঘটনা সারাদেশে আবার বাড়তে শুরু করেছে। পঞ্চগড় জেলে আটকাবস্থায় আগুনে ঝলসে দিয়ে আইনজীবী পলাশ কুমার রায়কে হত্যা করা হয়েছে। সংগঠনের অন্যতম সাংগঠনিক সম্পাদক প্রিয়া সাহার পৈতৃক বাড়ি জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছে। সাংবাদিক প্রবীর সিকদারের সন্ধানে তার ফরিদপুরের বাড়িতে দুর্বৃত্তরা হামলা চালিয়েছে। ধর্মান্তরকরণের মাত্রা বেড়েছে বেশ কয়েকগুণ।
সভায় গৃহীত এক প্রস্তাবে সাংগঠনিক কমিটিসহ ভুক্তভোগীদের রাজনৈতিক দলের পরিচয়ে যারা সাম্প্রদায়িক কর্মকা- চালিয়েছে বা চালাচ্ছে তাদের সম্পর্কে বিস্তারিত রিপোর্ট কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পাঠানোর জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। সভায় সভাপতিত্ব করেন ড. নিম চন্দ্র ভৌমিক। মানবাধিকারকর্মী অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল, শাহরিয়ার কবির ও অধ্যাপক মুনতাসীর মামুনের প্রাণনাশের হুমকির তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয় সভায়। এসব হুমকিদাতা ও তাদের মদদদাতাদের চিহ্নিত করে অনতিবিলম্বে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়।
সভায় আরও বক্তব্য রাখেন কাজল দেবনাথ, নির্মল রোজারিও, জে. এল. ভৌমিক, মঞ্জু ধর, মিলন কান্তি দত্ত, বাসুদেব ধর, মনীন্দ্র কুমার নাথ, অ্যাডভোকেট তাপস কুমার পাল, নির্মল কুমার চ্যাটার্জী, ড. কিশোর মন্ডল, পদ্মাবতী দেবী, অ্যাডভোকেট দিপংকর ঘোষ, অধ্যাপক অরুণ গোস্বামী, রাহুল বড়ুয়া, ব্যারিস্টার তাপস কুমার বল প্রমুখ।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: সংখ্যালঘু


আরও
আরও পড়ুন