Inqilab Logo

ঢাকা, রোববার ১৬ জুন ২০১৯, ২ আষাঢ় ১৪২৬, ১২ শাওয়াল ১৪৪০ হিজরী।

গণতন্ত্রের জয় হবেই, হতাশ হবেন না

আলোচনা সভায় মির্জা ফখরুল

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১১ মে, ২০১৯, ১২:০১ এএম

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া গণতন্ত্রের প্রতীক। তিনি কারাগার থেকে বেরিয়ে এলে জনগণের উত্তাল তরঙ্গ বইবে। জনগণই গণতন্ত্রের মাতাকে বের করে আনবে।
গতকাল জাতীয় প্রেসক্লাবে ন্যাশনালিস্ট রিসার্চ সেন্টার আয়োজিত এক আলোকচিত্র প্রর্দশনী ও আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। ‘সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রাজনীতিতে আগমন, বিএনপি চেয়ারপার্সন হিসেবে দায়িত্ব পালনের ৩ যুগ্ম পূর্তি’ উপলক্ষে এ আলোকচিত্র প্রর্দশনী অনুষ্ঠিত হয়।
মির্জা ফখরুল নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা হতাশ হবেন না। লক্ষ্যে অবিচল থাকুন, গণতন্ত্রের জয় হবেই। সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার খালেদা জিয়াই আমাদের অনুপ্রেরণা। তার ত্যাগ তরুণ প্রজন্মের কাছে ছড়িয়ে দিতে হবে। সময়ের সঙ্গে বাস্তবতার পরিপ্রেক্ষিতে সিদ্ধান্ত নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। পৃথিবী বদলেছে, সেই বাস্তবতা মাথায় রেখে সমস্যা চিহ্নিত করে এগোতে হবে।
নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমি সুস্থ নই। তারপর আমার মাঝে মাঝে মনে হয়, আমাদের সময় তো শেষ হয়ে আসছে। আমরা প্রতিনিয়ত মৃত্যুর দিকে ধাবিত হচ্ছি, তাই এদেশকে রক্ষায় তরুণদের এগিয়ে আসতে হবে। এদেশের নির্বাচন ব্যবস্থা ধ্বংস করা হয়েছে। বিচারব্যবস্থাও একই, এখন আর কেউ ন্যায়বিচার পায় না।
তিনি বলেন, আইনশৃংখলা বাহিনী একটি দলের কাছে নির্দেশ মোতাবেক কাজ করে। তাই এ অবস্থা থেকে দেশকে উত্তরণ করতে তরুণদের এগিয়ে আসতে হবে। এখন যারা সামনে আসবেন। এই বাংলাদেশের শুধু রাজনীতি নয়, এই বাংলাদেশকে বাঁচাতে তাদেরকে কাজ করতে হবে। বাংলাদেশের অস্তিত্ব বিপন্ন হয়ে পড়েছে। বাংলাদেশে স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব থাকবে কি থাকবে না, বাংলাদেশ নিজস্ব মর্যাদায় দাঁড়িয়ে থাকতে পারবে কি পারবে না এবং বাংলাদেশ নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে থাকতে পারবে কি পারবে না- আজকে সেই প্রশ্ন এসে দাঁড়িয়েছে।
তিনি বলেন, তরুণ ও যুবকদের প্রতি আমার অনুরোধ, আপনারা বেগম জিয়া ও শহীদ জিয়ার যে আর্দশ, চিন্তা এবং রাজনীতির ধারা- তা ছড়িয়ে দেন। আমাদের তো বয়স হয়ে গেছে। এখানে যারা আছি, আমরা দীর্ঘকাল ধরে কাজ করছি। তাই আমাদের বয়স হয়েছে এবং আমরা বৃদ্ধ হয়েছি। আর এখন আপনাদের সময়। আপনারা এগুলো সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, আমাদেরকে লড়তে হবে, সংগ্রাম করতে হবে। হতাশ হলে চলবে না। আমাদেরকে প্রতিটি সুযোগ নিতে হবে। আমাদেরকে পথ বের করতে হবে। কিন্তু এটা সহজ কাজ নয়। কঠিন কাজ। কারণ বিভিন্নভাবে বিএনপি ও দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হচ্ছে। তবে আপনারা বিভ্রান্ত হবেন না। কারণ বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান লন্ডন থেকে দল পরিচালনায় করছেন। আর তার নির্দেশে আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে সঠিক রাজনীতির দিকে নিয়ে যাবো।
উদ্বোধকের বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ বলেন, একজন গৃহবধূ থেকে হাল ধরলেন জাতীয়তাবাদী রাজনীতির। তিনি মহীয়সী নারী খালেদা জিয়া। বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থায় তিনি স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের প্রতীক।
এমাজউদ্দীন আহমদ আরও বলেন, এতো দু:সময়েও বিএনপি ঐক্যবদ্ধ, এটা বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বের কারণে সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, বিএনপির গতিশীলতা বৃদ্ধির প্রয়োজন, নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানো দরকার। এছাড়াও ২০ দলের সাথেও মাসে একবার হলেও বসা উচিত।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, খালেদা জিয়ার দুর্লভ ছবি প্রমাণ করে, তিনি ছিলেন আপসহীন। আমরা এখন লড়াইয়ের ময়দানে পেছনে, বয়স হয়েছে, লড়াইয়ে সৈনিকদের সঙ্গে আছি। তিনি বলেন, এতো নির্যাতনের পরও বিএনপি বড় দল হিসেবে টিকে আছে। দলের সাহসী যুবকেরা আন্দোলনে নামলে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার হবে। খালেদা জিয়া মুক্তি পাবেন।
এনআরসি›র পরিচালক বাবুল তালুকদারের সভাপতিত্বে ও ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক আবদুস সাত্তার পাটোয়ারীর সঞ্চালনায় সভায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সাংগঠনিক সম্পাদক এমরান সালেহ প্রিন্স, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শহীদুল ইসলাম বাবুল প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। #



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: মির্জা ফখরুল


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ