Inqilab Logo

ঢাকা, সোমবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১ আশ্বিন ১৪২৬, ১৬ মুহাররম ১৪৪১ হিজরী।

কুবি গেইট সংলগ্ন সড়কে নেই গতিরোধক: ঝুঁকিতে হাজারো শিক্ষার্থীর জীবন

বিশ্ববিদ্যালয় সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ১১ মে, ২০১৯, ৬:৩৪ পিএম

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়(কুবি) গেইট সংলগ্ন সড়কে নেই কোন গতি রোধক। দিন-রাত ২৪ ঘন্টা ব্যস্ততম এই সড়কটিতে চলাচল করে বাস, ট্রাক সহ মোটরসাইকেল। এই সুযোগে বেপরোয়া গতিতে যানবাহন চালাচ্ছে চালকরা। সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে হাজারো শিক্ষার্থী।

এতে করে প্রায় সময়ই দুর্ঘটনার মুখে পড়ছেন পথচারীরা। এ পরিস্থিতিতে প্রাণহানির ঝুঁকিতে আছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজারো শিক্ষার্থী। অন্যদিকে গতিরোধক না থাকায় মোটরসাইকেল আরোহী ইভটিজারদের হয়েছে পোয়াবারো। ছাত্রীদের উত্ত্যক্ত করতে আসা বহিরাগত এসব মোটরসাইকেল আরোহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক এবং ছাত্রী হলের সামনে এসে মোটরসাইকেলের গতি দেয় বাড়িয়ে। আর গতি বাড়িয়ে পালিয়ে যাওয়ায় প্রায় সময়ই তারা থাকে ধরাছোঁয়ার বাইরে।
সরেজমিনে দেখা যায়, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এক কিলোমিটার দূরে নির্মিত হয়েছে ‘ম্যাজিক প্যারাডাইস’ এবং ‘ডাইনোসর পার্ক’ নামে দুটি অত্যাধুনিক বিনোদন কেন্দ্র। এছাড়াও রয়েছে সিসিএন কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়। এ কারণে ক্যাম্পাস সংলগ্ন এলাকায় পর্যটক এবং তাদের বহনকারী গাড়ির ভিড় বেড়েছে কয়েকগুণ। এছাড়া বাঁশ ও আখসহ নির্মাণ সামগ্রী বহনের কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে ট্রাক, ট্রাক্টর ও কাভার্ডভ্যানসহ বিভিন্ন ভারী যানবাহন।

কিন্তু এসব যানবাহন চলাচলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেই নির্ধারিত কোনো গতিসীমা বা সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তি। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক, ভিসির বাসভবন এবং আবাসিক হলগুলোর সামনে সাতটি বিপজ্জনক মোড় থাকলেও এর মধ্যে শুধু দক্ষিণ মোড়ে রয়েছে একটি গতিরোধক। এর আগে কাজী নজরুল ইসলাম হল এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের সামনে স্থানীয়দের উদ্যোগে দুটি গতিরোধক স্থাপন করা হলেও তা অল্প কিছুদিনের মধ্যে ভেঙে যায়। আর এই সুযোগে বেপরোয়া গতিতে চলছে বিভিন্ন ভারী যানবাহনসহ সিএনজি, অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল। এ পরিস্থিতিতে নিজেদের প্রাণের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা। তারা জানান, ফটোকপি, হোটেল ও খাবারের দোকানগুলোসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর প্রায় সব দোকানই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের উল্টোদিকে সড়কের পাশে অবস্থিত। যে কারণে অধিকাংশ শিক্ষার্থীকেই সকাল-সন্ধ্যা বেশ কয়েকবার এই সড়কটি পারাপার করতে হয়।
বঙ্গবন্ধু হলের আবাসিক ছাত্র সাজিদ ইনকেলাবকে বলেন, ‘হল কিংবা আশপাশে অবস্থানরত শিক্ষার্থীরা প্রায় সারারাতই রাস্তায় চলাচল করে। সারাদিন এবং বিশেষ করে রাতে ট্রাক, ট্রাক্টর ও কাভার্ডভ্যানের চালকরা অতিরিক্ত গতি নিয়ে চলাচল করছে। আমরা বিভিন্ন সময়ে নিষেধ করলেও তারা মানছে না। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও এ বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। ’

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ইলিয়াস হোসেন সবুজ বলেন, ‘ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে আমরা বেলতলী বিশ্বরোডে জেব্রা ক্রসিং দিয়েছি। রোজার ঈদের পর ছাত্রলীগের পক্ষ থেকেই স্পিডব্রেকারের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করব। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষার্থীদের এসব প্রয়োজনীয় দাবির বিষয়ে উদাসীন। এটা দুঃখজনক। ’

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন সড়কে বহিরাগত মোটরসাইকেল আরোহীদের নিয়ে আতঙ্কে থাকতে হয় শিক্ষার্থীদের। এসব মোটরসাইকেল থেকে প্রায়ই ইভটিজিংয়ের ঘটনা ঘটে। কোনো গতিরোধক না থাকায় প্রধান ফটক এবং ছাত্রী হলের সামনে এসে বহিরাগত এসব বাইকাররা মোটরসাইকেলের গতি বাড়িয়ে দেয়। ইভটিজিং করে গতি বাড়িয়ে পালিয়ে যাওয়ায় অধিকাংশ সময়ই ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকে এসব বখাটেরা। এতে বিভিন্ন সময় দুর্ঘটনার শিকারও হয়েছেন অনেকে।

নওয়াব ফয়জুন্নেছা চৌধুরাণী হলের আবাসিক ছাত্রী সামিহা আজাদ বলেন ‘বহিরাগতরা বাইক নিয়ে ক্যাম্পাসের সামনে এবং ছাত্রী হলের সামনে এসে গতি বাড়িয়ে দেয়। স্পিডব্রেকার এবং গতিসীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হলে দুর্ঘটনার শঙ্কা কমতে পারে। ’

গতিরোধক নির্মাণের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কোনো পরিকল্পনা আছে কি না জানতে চাইলে রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক আবু তাহের বলেন, ‘এ বিষয়টি দেখার জন্য আমি একজন প্রকৌশলীকে দায়িত্ব দিয়েছি। কীভাবে কাজটি করা যায় সেটি তিনি আমাকে জানাবেন। আশা করছি খুব দ্রুতই বিষয়টা করতে পারব। ’



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: কুবি


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ