Inqilab Logo

ঢাকা, বৃহস্পতিবার ২৭ জুন ২০১৯, ১৩ আষাঢ় ১৪২৬, ২৩ শাওয়াল ১৪৪০ হিজরী।

দূষণ-দখল বাড়ছেই

ম্যাজিস্ট্রেট সঙ্কটে ব্যাহত পরিবেশ অধিদপ্তরের ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম

রফিক মুহাম্মদ | প্রকাশের সময় : ১২ মে, ২০১৯, ১২:০৪ এএম

পরিবেশ সূচকে ধারাবাহিক অবনতি হচ্ছে বাংলাদেশের। বায়ু, শব্দ, পানিসহ সব দূষণই মাত্রা ছাড়াচ্ছে। বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়ছে রাজধানী ঢাকা। দূষণ-দখলে বিলীন হচ্ছে দেশের অনেক নদী। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গবেষণায় এমনটিই বলা হচ্ছে।
পরিবেশ আইন অনুযায়ী দূষণ-দখল ও পরিবেশের বিভিন্ন ধরনের ক্ষতি রোধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার কথা থাকলেও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সঙ্কটে তা সম্ভব হচ্ছে না। ম্যাজিস্ট্রেট সঙ্কটে ব্যাহত হচ্ছে পরিবেশ অধিদপ্তরের ভ্রাম্যমাণ আদালত কার্যক্রম। এতে পরিবেশের দূষণ ঠেকাতে অধিদপ্তর কার্যত কোনো পদক্ষেপ নিতে পারছে না। আর এ কারণে পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকারক পলিথিন উৎপাদন ও বিপণন হচ্ছে, বন্ধ করা যাচ্ছে না বায়ুদূষণকারী অবৈধ ইটভাটা। এ ছাড়াও বায়ুদূষণসহ পরিবেশের জন্য ক্ষতিকারক আরো অনেক কার্যক্রম অবাধে চললেও ম্যাজিস্ট্রেটের অভাবে অধিদপ্তর এসবের কোনো প্রতিকার করতে পারছে না।
পরিবেশ অধিদপ্তরের ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার জন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের পদ রয়েছে সাতটি। এর মধ্যে দু’জন অধিদপ্তরের এনফোর্সমেন্ট উইং ও ঢাকা মহানগরের দায়িত্বে থাকবেন। বাকি পাঁচজনের থাকার কথা বিভাগীয় পর্যায়ে। এর বিপরীতে বর্তমানে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রয়েছেন মাত্র একজন। এতে ব্যাহত হচ্ছে অধিদপ্তরের ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) সাধারণ সম্পাদক ড. আব্দুল মতিন এ বিষয়ে বলেছেন, বাংলাদেশে পরিবেশ সংরক্ষণ জরুরি হয়ে উঠেছে। প্রতিনিয়ত বায়ুদূষণে রাজধানী বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়ছে। ঢাকার আশপাশে শত শত অবৈধ ইটভাটা রয়েছে। বিভিন্ন স্থানে খাল-জলাভূমি ভরাট করে অবাসস্থল করা হচ্ছে। অবাধে গাছ কেটে প্রকৃতিকে ধ্বংস করা হচ্ছে। অধিদপ্তর এসবের ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। যদি তাদের জনবল সঙ্কট থাকে তাহলে তা দ্রæত সমাধান করে বায়ুদূষণসহ অন্যান্য দূষণ থেকে দেশকে রক্ষা করা জরুরি। তা না হলে আমাদেরকে ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখোমুখি হতে হবে।
পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কাজী তামজীদ আহমেদ মনিটরিং অ্যান্ড এনফোর্সমেন্ট উইংয়ে দেড় বছর ধরে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তিনি ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ থেকে শুরু করে দিনাজপুর, নরসিংদী, পাবনাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অভিযান চালাচ্ছেন।
অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত চার মাসে দেশের বিভিন্ন স্থানে ইটভাটা, পলিথিন ও বায়ুদূষণের বিরুদ্ধে ১২০টি অভিযান চালিয়ে ৬ কোটি ৭৯ লাখ টাকা আদায় হয়েছে। মামলা হয়েছে ২৩৩টি। পলিথিন উদ্ধার হয়েছে ৬০ হাজার ৯০০ কেজি। অধিদপ্তরে আরো ছয়জন ম্যাজিস্ট্রেট থাকলে মামলার সংখ্যা ও জরিমানার পরিমাণ আরো বাড়ত বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। তবে তারা মনে করেন, সব সময় নজরদারিতে রাখতে পারলে পলিথিনের উৎপাদন ও বিপণন অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব হতো।
ক্রমাগত ঢাকার বাতাসের মান খারাপ হওয়ায় বায়ুদূষণ রোধে সপ্তাহে দু’দিন ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছেন উচ্চ আদালত। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় ম্যাজিস্ট্রেট নেই পরিবেশ অধিদপ্তরের। একজন ম্যাজিস্ট্রেটের পক্ষে দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে আবার সপ্তাহে দু’দিন শুধু বায়ুদূষণের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো অনেকটাই অসম্ভব। তারপরও আদালতের নির্দেশনা পালনের জন্য অনেক সময় সরকারি ছুটির দিনও অভিযান চালাতে হয়।
বায়ুদূষণের বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের পদক্ষেপ জানতে সম্প্রতি হাইকোর্টে তলব করা হয়েছিল বায়ুমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক জিয়াউল হককে। তিনি বলেন, বায়ুদূষণ রোধে সপ্তাহে দু’দিন অভিযান পরিচালনার নির্দেশনা রয়েছে আদালতের। কিন্তু এ জন্য পর্যাপ্তসংখ্যক ম্যাজিস্ট্রেট আমাদের নেই। ঢাকা শহরে বিভিন্ন ধরনের নির্মাণকাজ চলছে, ইটভাটার দূষণ রয়েছে। সেগুলো নিয়ম মেনে করা হচ্ছে কি না, পরিবেশ দূষিত হচ্ছে কি না, তা দেখার জন্য ম্যাজিস্ট্রেট নেই। সে কারণে বায়ুদূষণ রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া যাচ্ছে না।
শুধু বায়ুদূষণ নয়, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের অভাবে পলিথিন, জলাধার ভরাট রোধেও ভ্রাম্যমাণ আদালত চালাতে পারে না পরিবেশ অধিদপ্তর। ফলে দখল ও দূষণকারীরা নির্বিচারে অনিয়ম চালিয়ে যাচ্ছে।
এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. সুলতান আহমেদ বলেন, পরিবেশ রক্ষায় আমরা আন্তরিক ও সচেষ্ট। জনবল সঙ্কটের কারণে পরিবশ দূষণ রোধে যথাযথ পদক্ষেপ নেয়া সম্ভব হচ্ছে না। জনবল নিয়োগের বিষয়টি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অধীনে। আমরা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। একজন ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেয়া হয়েছে। শিগগিরই তিনি কাজে যোগ দেবেন। বাকি পাঁচ ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেয়ার জন্য চিঠি দেয়া হয়েছে। আশা করি, তাদের নিয়োগ দেয়া হলে এ সঙ্কট কেটে যাবে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: দূষণ

৩০ এপ্রিল, ২০১৯
২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯

আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ