Inqilab Logo

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৪ আশ্বিন ১৪২৬, ১৯ মুহাররম ১৪৪১ হিজরী।
শিরোনাম

নোয়াখালী শহরে আ.লীগ প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে ভাঙচুর

পুলিশের গুলি, আহত ১০

নোয়াখালী ব্যুরো | প্রকাশের সময় : ১২ মে, ২০১৯, ৮:৫০ পিএম

১৮জুন নোয়াখালী সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী বাছাইকে কেন্দ্র করে জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক ইমন ভট্টের সমর্থকরা হামলা চালিয়ে দোকানপাঠ ও গাড়ি ভাঙচুর করেছে। এসময় পুলিশ তাদের বাঁধা দিতে গেলে তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিচার্জ ও কয়েক রাউন্ড শর্টগানের গুলি ছুঁড়ে। এতে গুলিবিদ্ধসহ অন্তত ১০জন আহত হয়েছে।

রবিবার বিকেলে জেলা শহর মাইজদী টাউনহল মোড়ে এ ঘটনা ঘটে। আহতরা হলো, ছাত্রলীগ নেতা হানিফ সোহেল (গুলিবিদ্ধ), শাওন, জাহিদ, ও পিনকুসহ ১০জন।

জানা গেছে, ১০বছর পর আগামী ১৮ জুন নোয়াখালী সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ থেকে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থীরা হলো, সদর উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি ও বর্তমান উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এডভোকেট শিহাব উদ্দিন শাহিন, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সম্পাদক এ কে এম শামসুদ্দিন জেহান ও জেলা যুবলীগের আহবায়ক ইমন ভট্ট। রবিবার প্রার্থী বাছাই এর জন্য সদর উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে তৃণমূল নেতাকর্মীদের নিয়ে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সদর উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি এডভোকেট শিহাব উদ্দিন শাহিনের সভাপতিত্বে উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নের দলীয় কাউন্সিলরগন অংশগ্রহন করেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আওয়ামীলীগ ও যুবলীগের একাধিক নেতা কর্মী জানান, তৃণমূলের সভায় ইমন ভট্টের নাম বাদ দিয়ে এডভোকেট শিহাব উদ্দিন শাহিন এবং এ কে এম শামসুদ্দিন জেহানের নাম প্রস্তাব করে কেন্দ্রে পাঠানোর সিদ্বান্ত হয়। সে মোতাবেক বিকেলে জেলা আওয়ামীলীগ কার্যালয়ে প্রার্থী নির্ধারনী সভা অনুষ্ঠিত হয়। এসময় তালিকা থেকে ইমন ভট্টের নাম বাদ পড়েছে এমন সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে ইমন ভট্টের অনুসারীরা আওয়ামীলীগ কার্যালয়ের সামনে গিয়ে ইট পাটকেল নিক্ষেপ, যাত্রীবাহী গাড়ী ও বিভিন্ন স্ট্যান্ডে থাকা অন্তত ৩০টি গাড়ি ভাঙচুর করে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশ উত্তেজিত কর্মীদের বাধা দিতে গেলে তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এসময় পুলিশ লাঠিচার্জ ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করলে এক জন গুলিবিদ্ধসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়।
এ ব্যাপারে জেলা যুবলীগ আহবায়ক ইমন ভট্ট বলেন, তার কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়েছে। তবে এ বিষয়ে বেশি কিছু বলতে রাজি হননি তিনি।
সদর উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি শিহাব উদ্দিন শাহিন বলেন, সভা চলাকালীন সময় ইমন ভট্টের লোকজন অর্তকিতভাবে দলীয়ন কার্যালয়ে হামলা ও গাড়ি ভাঙচুর করেছে।
সুধারাম মডেল থানার ওসি আনোয়ার হোসেন জানান, ইমন ভট্টের লোকজন আওয়ামীলীগ কার্যালয়ে হামলা ও গাড়ি ভাঙচুর করলে পুলিশ বাধা দিলে তারা পুলিশের উপরও হামলা করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে লাঠিচার্জ ও ফাঁকা পাঁচ রাউন্ড রাভার বুলেট নিক্ষেপ করা হয়েছে। তবে এতে কেউ আহত হয়েছে কিনা তা তিনি জানেন না। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে বলেও জানান পুলিশের এ কর্মকর্তা।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: ভাঙচুর


আরও
আরও পড়ুন