Inqilab Logo

ঢাকা, সোমবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১ আশ্বিন ১৪২৬, ১৬ মুহাররম ১৪৪১ হিজরী।

দুর্গম ভাতা পেলেন সরকারি চাকরিজীবীরা

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১৩ মে, ২০১৯, ১২:০৫ এএম

ডিসিদের প্রস্তাবের ভিত্তিতে দেশের হাওরাঞ্চলের সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য দুর্গম ভাতা চালু করল সরকার। হাওর, দ্বীপ বা চর উপজেলা হিসেবে ঘোষিত দুর্গম অঞ্চলের ১৬টি উপজেলায় কর্মরত সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য মাসিক সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার এবং সর্বনিম্ন এক হাজার ৬৫০ টাকা বিশেষ ভাতা দিতে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়।
২০১৫ সালের জাতীয় বেতন কাঠামো অনুযায়ী এসব ভাতা নির্ধারণ করে গতকাল রোববার প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনটি এর আগে ৫ মে স্বাক্ষরিত হওয়ায় ৫ মে থেকে এসব ভাতা কার্যকর ধরা হয়েছে। বিশেষ এই ভাতার আওতায় ২০তম গ্রেডে বেতনপ্রাপ্তরা পাবেন মাসিক ১৬৫০ টাকা। অন্য দিকে ৭ ও তদূর্ধ্ব গ্রেডপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা পাবেন পাঁচ হাজার টাকা।
জানা গেছে, কয়েক বছর ধরেই জেলা প্রশাসক সম্মেলনে হাওরপ্রবণ জেলার ডিসিরা দুর্গম এলাকা হিসেবে হাওর খাতা চালুর প্রস্তাব করে আসছেন। সর্বশেষ গত বছরের ডিসি সম্মেলনে কিশোরগঞ্জের সাবেক জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. আজিমুদ্দিন বিশ্বাস হাওর ভাতা চালু করার জন্য একটি প্রস্তাব পাঠান মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে। ডিসিদের দীর্ঘ দিনের এ দাবির পরিপ্রেক্ষিতে হাওর এলাকায় কর্মরত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এ ভাতা প্রদানের উদ্যোগ নেয় সরকার।
বাংলাদেশের হাওর ও পাহাড়ি এলাকা অন্যান্য এলাকার চেয়ে অনেক বেশি অনুন্নত। দুর্গম এসব এলাকায় নাগরিক সুবিধা বলতে কিছুই নেই। তবে বিদেশি সংস্থাগুলোর কড়া নজরদারির ফলে পাহাড়ি এলাকায় এখন শিক্ষার আলোসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা কিছুটা বেড়েছে। শিক্ষা, চাকরি ও ভূমিসহ বিভিন্ন দাবি-দাওয়া পাহাড়িরা আদায় করে নিয়েছেন। কিন্তু হাওরাঞ্চলের মানুষ এখনো এসব সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত। ফলে এ সুযোগ হাওরেও স¤প্রসারণের দাবি দীর্ঘদিনের। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তার দাবি, হাওর ভাতা চালু হলে দেশের সাতটি জেলার সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এ ভাতা পাবেন। সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, সিলেট, মৌলভীবাজার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কিশোরগঞ্জ ও নেত্রকোনা জেলাকে হাওরাঞ্চল হিসেবে ধরা হয়। হাওর মূলত বিস্তৃত প্রান্তর, অনেকটা গামলা আকৃতির জলাভূমি, যা প্রতি বছর মৌসুমি বৃষ্টির সময় পানিপূর্ণ হয়ে ওঠে। বর্ষাকালজুড়ে হাওরের পানিকে সাগর বলে মনে হয় এবং এর মধ্যে অবস্থিত গ্রামগুলোকে দ্বীপ বলে প্রতীয়মান হয়। বাংলাদেশে প্রায় ৪০০ হাওর রয়েছে। হাওরগুলোকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়। পাহাড়ের পাদদেশে বা পাহাড়ের কাছাকাছি অবস্থিত হাওর, প্লাবিত এলাকার হাওর, গভীর পানিতে প্লাবিত এলাকার হাওর।
বিশেষে ভাতার আওতায় ১৬ উপজেলা হলো : কিশোরগঞ্জের ইটনা, মিঠামইন ও অষ্টগ্রাম। চট্টগ্রামের স›দ্বীপ, কক্সবাজারের কুতুবদিয়া, নোয়াখালীর হাতিয়া, সিরাজগঞ্জের চৌহালী, কুড়িগ্রামের রৌমারী ও চররাজিবপুর, পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী এবং ভোলার মনপুরাকে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি হাওর, দ্বীপ বা চর উপজেলা হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
এ ছাড়া সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা, শাল্লা ও দোয়ারাবাজার, হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ এবং নেত্রকোনার খালিয়াজুরী উপজেলাকে হাওর, দ্বীপ বা চর উপজেলা হিসেবে ঘোষণা করে সরকার। ১৬ উপজেলায় কর্মরত সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বিশেষ ভাতা চালুর জন্য গত ৭ মার্চ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এবং অর্থ বিভাগের সচিবকে চিঠি পাঠায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। বর্তমান নিয়মে পার্বত্য জেলা সদর ও সদর উপজেলায় নিযুক্ত সব সরকারি কর্মচারী মূল বেতনের ২০ শতাংশ হারে সর্বোচ্চ তিন হাজার টাকা এবং অন্যান্য উপজেলায় মূল বেতনের ২০ শতাংশ হারে সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার টাকা পাহাড়ি ভাতা দেয়া হয়।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ