Inqilab Logo

ঢাকা, শনিবার, ১৯ অক্টোবর ২০১৯, ০৩ কার্তিক ১৪২৬, ১৯ সফর ১৪৪১ হিজরী

রাজধানীতে পানি সঙ্কট রোজাদারদের হাহাকার

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১৪ মে, ২০১৯, ১২:০৪ এএম


ইফতারের আর মাত্র ১৫ মিনিট বাকি। সামনে এখনও অন্তত ৫০ জন লাইনে আছে। কখন পানি পাবো আর কখন বাসায় নিয়ে যাবো। এই পানি নিয়ে গেলেই বাসার সকলের ইফতার হবে। আর কত দিন আমাদেরকে এই অসহনীয় পানির কষ্ট সহ্য করতে হবে। আর সহ্য হয় না পানির এমন যন্ত্রণা। প্রতিদিন সকাল-বিকাল এইভাবে ঘণ্টার পার ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে পানি নিয়ে কতদিন জীবন ধারন করা যায়! রাজধানীর দনিয়া-কদমতলি এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ জাফর আহমেদ সারাদিন রোজা রেখে গতকাল বিকেলে ওয়াসার পাম্পে পানির জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে অনেকটা ক্লান্ত-শ্রান্ত কণ্ঠে এ কথাগুলো বললেন। গেল টানা ১০ দিন ধরে ওই এলাকায় ওয়াসার পানি নেই। প্রতিদিন এইভাবেই ওই এলাকার বাসিন্দারা স্থানীয় পাম্প ও এলাকার মসজিদেরে ডিপটিউবয়েল থেকে পানি নিয়ে ইফতার আর সেহরীর আয়োজন করে।
এমন চিত্র শুধু দনিয়া-কদমতলিরই নয়। রাজধানীর বাড্ডা, রামপুরা, হাতিরঝিল, মুগদা, মানিকনগর, বাসাবো, যাত্রাবাড়ি, জুরাইন, মোহাম্মদপুর মগবাজার, ফারমগেট, গুলশান, বনানী, উত্তরা, মিরপুর ও পুরান ঢাকার বিভিন্ন এলাকসহ সারা ঢাকা শহরজুড়েই এমন পানির হাহাকার চলছে। রমজানের শুরু থেকেই রাজধানীতে চলছে তিব্র পানির সংকট। এই রমজানে রাজধানীতে ওয়াসার পানি সংকট হবে না বলে ওয়াসা থেকে জানানো হলেও এখন তার উল্টো চিত্রই চোখে পড়ছে। মুসলমানদের ইবাদতের শ্রেষ্ঠ মাস এই রমজান মাস। এই শহরে প্রতিদিন লাখ লাখ রোজাদার সারা দিন রোজা রেখে সন্ধ্যায় ইফতার করতে যেতে হচ্ছে সুপেয় পানির সমস্যা নিয়েই। কিন্তু ওয়াসার অবহেলা ও দুর্নীতির কারণে লাখ লাখ রোজাদারকে পানির অভাবে দুর্বিষহ জীবন যাপন করতে হচ্ছে পবিত্র রমজানের এ মাসে। ইফতার ও সেহরির পানির জন্য পড়তে হচ্ছে অবর্ণনীয় দুর্দশায়। প্রকৃতিতে চলছে প্রচন্ড দাবদাহ। এ দাবদাহের মধ্যে রোজাদারেরা প্রয়োজন মতো পানি না পেয়ে অজু-গোসলসহ পারিবারিক কাজ কর্মে পড়েছে চরম দুর্ভোগে। পানির সংকটে নাগরিক জীবনে হাঁসফাঁস উঠেছে।
পূর্ব দোলাইরপাড় এলাকায় দীর্ঘদিন থেকেই পানি সঙ্কট চলছে। বাসা বাড়িতে ওয়াসার সরবরাহ করা পানি খাওয়ার উপযুক্ত নয়। এ জন্য দীর্ঘ লাইন দিয়ে ওয়াসার পাম্প থেকে পানি নিয়ে যান এলাকাবাসী। গভীর রাতেও তাদের পানির জন্য লাইন দিতে হয়। গতকাল রোরবার রাত ৩টায় ওয়াসার পাম্পে মানুষের ভিড় দেখা যায়। পানি আগে পরে নেয়া নিয়ে বাসিন্দাদের মধ্যে ঝগড়া শুরু হলে পাম্প অপারেটর পানি বন্ধ করে দেন। পরে অনেক অনুরোধ করেও পাম্প চালু করা সম্ভব হয়নি বলে ভুক্তভোগীরা জানান। ফলে পানি না নিয়েই অনেককে ঘরে ফিরে যেতে হয়। এ ছাড়া পুরান ঢাকার বেশির ভাগ এলাকা, বাসাবো, মানিকনগর, যাত্রাবাড়ী, রামপুরা, মিরপুরসহ অনেক এলাকায় ওয়াসার সরবরাহ করা পানি ফুটিয়েও দুর্গন্ধ দূর করা যাচ্ছে না।
ওয়াসার মডস জোন-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী আল আমিন বলেন, তীব্র গরম ও রোজার কারণে পানির চাহিদা বেড়েছে। এ জন্য কিছু কিছু এলাকায় পানির সঙ্কট দেখা দিয়েছে। মানুষ পানি বেশি ব্যবহার করার কারণে সঙ্কট হচ্ছে। দু-এক দিন বৃষ্টি হলেই এ সঙ্কট কেটে যাবে বলে তিনি মনে করেন।

 



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: রাজধানী


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ