Inqilab Logo

ঢাকা, শনিবার, ১৯ অক্টোবর ২০১৯, ০৩ কার্তিক ১৪২৬, ১৯ সফর ১৪৪১ হিজরী

তৃণমূলে সম্মেলনের চাপ আ.লীগে

ইয়াছিন রানা | প্রকাশের সময় : ১৪ মে, ২০১৯, ১২:০৪ এএম

সারাদেশে তৃণমূল সংগঠনকে শক্তিশালী করতে সাংগঠনিক সফরে নামে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। এ বছরের মধ্যে সংগঠনকে ঢেলে সাজিয়ে আগামী বছরের মুজিব বর্ষ জাঁকজমকপূর্ণভাবে পালন করতে চায় দলটি। এ নিয়ে বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ে বর্ধিত সভা করা হচ্ছে।
বর্ধিত সভাগুলোতে তৃণমূল সংগঠনের নেতাদের তরফ থেকে সম্মেলন দেয়ার জন্য চাপ দেয়া হচ্ছে। সম্মেলন না হলে দলের নেতারা নিষ্ক্রিয় হয়ে যাবে এবং তৃণমূলের অবস্থা বিএনপির মতো হবে। অপর দিকে বর্তমান দায়িত্বপ্রাপ্ত সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক সম্মেলন না হবার বিষয়ে নানা টালবাহানা করছে বলেও অভিযোগ করছে তৃণমূলের নেতারা। অনেক জায়গায় সাধারণ সম্পাদক সম্মেলন চাইলেও সভাপতি চাচ্ছেন না। শীর্ষ নেতাদের দ্ব›েদ্বর সুযোগে এসব নেতার মাধ্যমে বিএনপি-জামায়াতের কর্মীরা আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশ করছে।
এদিকে সম্মেলন না চাওয়া নেতারা বর্ধিত সভায় বলছেন, দলকে শক্তিশালী করতে হলে রাজপথে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে এবং বিএনপি-জামায়াতের ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করতে হবে। এই দুই ধরনের প্রতিক্রিয়ার মধ্যে সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে কেন্দ্রীয় সংগঠনকে। তবে এ নিয়ে কোনো ধরনের বেগ পেতে হবে না বলে মন্তব্য কেন্দ্রীয় নেতাদের। কারণ হিসেবে নেতারা বলেন, বাংলাদেশের কোন জেলায় সংগঠনের কি অবস্থা, কি ধরনের সমস্যা রয়েছে তা কেন্দ্র জানে এবং ইতোমধ্যে সাংগঠনিক সম্পাদকরা সমস্যা সমাধানে পরিকল্পনাও গ্রহণ করেছেন। এ বিষয়ে উপ-প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন ইনকিলাবকে বলেন, তৃণমূলে যেখানে যে সমস্যা সেখানে তার আলোকে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। যেখানে সম্মেলন দেয়ার প্রয়োজন সেখানে সম্মেলন দেয়া হবে। কারো কথায় কেন্দ্র প্রভাবিত হবে না। সম্প্রতি ৫ মে সিলেট বিভাগীয় আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি সভায় তৃণমূল নেতাদের নানা বক্তব্য, অভিযোগ শোনেন কেন্দ্রীয় নেতারা। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন দলের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ। তৃণমূল নেতারা জানান, বর্তমান পদ-পদবী বহন করছেন এসব নেতারা চান না দলের সম্মেলন হোক। কারণ তারা জানেন বিগত সময়ে বিতর্কিত কর্মকান্ডের কারণে তারা আর পদ পাবেন না। যেকোনোভাবে তারা পদে থাকতে পারলেই বাঁচেন। এছাড়া উপজেলা নির্বাচনে দলের প্রার্থীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়া এমপিদের ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান তারা। নেতৃবৃন্দ বলেন, যদি আমাদের কথা ঢাকায় আওয়ামী লীগ সভাপতির কাছে না পৌঁছানো হয় তাহলে অচিরেই বিএনপির মতো আমাদের অবস্থা হবে।
১১ মে চুয়াডাঙ্গায় খুলনা বিভাগ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সফরের অংশ হিসেবে চুয়াডাঙ্গা জেলায় বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ সময় দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান দ্রæত সম্মেলনের আয়োজন করতে বলেন। তিনি বলেন, এই রমজান মাসের মধ্যেই চুয়াডাঙ্গা জেলার নতুন ইউনিয়নগুলোর সম্মেলন সম্পন্ন করতে হবে। জুলাই মাসের মধ্যে ইউনিয়ন পর্যায়ের সম্মেলন শেষ করে ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সব উপজেলার সম্মেলন সম্পন্ন হতে হবে। আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর আমাদের নেত্রীর জন্মদিন। নেত্রীর জন্মদিনের আগেই জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন আমরা করতে চাই। এ জন্য সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
এদিকে দলের ত্যাগীদের মূল্যায়ন করতে নির্দেশনা দেয়া হচ্ছে কেন্দ্র থেকে। খুলনা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন বলেন, সংগঠনকে শক্তিশালীকরণের পাশাপাশি দলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের খোঁজখবর নিতে হবে। দলের দুঃসময়ে ত্যাগী নেতাকর্মীদের অন্তর্বেদনা আমাদের বুঝতে হবে। তাদের সঠিক মূল্যায়ন না করতে পারলে বঙ্গবন্ধুর আত্মা কষ্ট পাবে।
এছাড়া অনুপ্রবেশকারীদের ব্যাপারেও যথেষ্ট সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হচ্ছে। চট্টগ্রাম বিভাগীয় বর্ধিত সভায় যোগ দিয়ে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব-উল-আলম হানিফ বলেছেন, সাংগঠনিক ও সরকারি কাজে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের দেশের বিভিন্ন এলাকায় যেতে হয়। ওই সময় অনেক নেতাকর্মী ছবি তোলার জন্য তাদের আশপাশ ঘিরে ধরেন। এর মধ্যে অনুপ্রবেশকারীরাও থাকে। পরে তারা এসব ছবি দেখিয়ে সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতা বনে যায়। ছবি তোলার এই অসুস্থ প্রতিযোগিতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।
এছাড়া দলের মধ্যে যারা বিশৃঙ্খলা তৈরী করছেন তাদেরকেও সতর্ক করেন হানিফ। তিনি বলেন, যে সকল সংসদ সদস্য স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর বিরোধীতা করেছেন তারা জাতীয় নির্বাচনে আর কোন দিন দলীয় মনোনয়ন পাবেন না।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: আ.লীগ


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ