Inqilab Logo

ঢাকা, সোমবার ২৪ জুন ২০১৯, ১০ আষাঢ় ১৪২৬, ২০ শাওয়াল ১৪৪০ হিজরী।
শিরোনাম

কোটালিপাড়ায় অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ

কোটালিপাড়া (গোপালগঞ্জ) উপজেলা সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ১৪ মে, ২০১৯, ৮:৩৪ পিএম

গোপালগঞ্জের কোটালিপাড়ায় শেখ রাসেল ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ রবীন্দ্রনাথ বাড়ৈর বিরুদ্ধে নিয়োগ বানিজ্যের অভিযোগ পাওয়া গেছে। কলেজের শিক্ষক কর্মচারীগন তারা প্রধান মন্ত্রীর কার্যালয় সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তর সমূহে একাধিক অভিযোগও করেছেন। অধ্যক্ষ নিয়ম কানুনের কোন তোয়াক্কা না করে নিজের প্রভাব বিস্তার করে একক কর্তৃত্বে এসব কাজ করে চলেছেন। তার বিরুদ্ধে কোন শিক্ষক কথা বলল্লেই কোন কারন ছাড়া চাকুরী চলে যাচ্ছে, কর্মরতদের স্থানে সরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষককে কোন নিয়োগ ছাড়াই অবৈধ ভাবে অধিক অর্থের বিনিময়ে হাজিরা খাতায় নাম উঠিয়ে শিক্ষক বানাচ্ছেন, আর যারা নিয়োগ প্রাপ্ত হয়ে দীর্ঘদিন কর্মরত রয়েছেন, তারা চাকুরি হারাচ্ছেন। ইতোমধ্যেই সরকারের পক্ষ থেকে কলেজটি জাতীয় করণের উদ্যোগ নেয়া হলে অধ্যক্ষ আরো বেপরোয়া হয়ে রেজুলেশন বই ও হাজিরা খাতা জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে কাটা ছেড়া শুরু করেন। ভ্ক্তুভোগীদের অভিযোগ থেকে জানা যায়, গত ১৩/০৯/২০১৪ইং তারিখে সরকারি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি মোতাবেক কলেজের কয়েকটি বিভাগে শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়, ওই বিজ্ঞপ্তির আলোকে সমাজ বিজ্ঞান বিভাগে মনিস মল্লিক ও নিত্যানন্দ ওঝা, বাংলা বিষয়ে মিসেস হেলালী বাকচী, ভূগোল বিষয়ে বিমল জয়ধর আবেদন করে নির্বাচনী পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে নিয়োগ পত্র পেয়ে যোগদান করেন। ২০১৫ সালে কলেজের ডিগ্রী পর্যায়ের প্রভাষকদের নাম ও নিয়োগ সংক্রান্ত সমস্ত কাগজ পত্র জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএ এবং বিএসএস শাখায় পাঠিয়ে অধ্যক্ষ রবীন্দ্রনাথ বিশ্বাস এদের কাছে মোটা অংকের টাকা দাবী করে, তারা চাহিদামত টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক মনিস মল্লিক ও নিত্যান্দ ওঝা কে কলেজে রাখা হবে না বলে তাদের নামের স্থানে ফ্লুড দিয়ে মুছে জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে অবৈধ অন্যায় ভাবে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে কবিতা মন্ডল ও ৫২নং টুপরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক, চায়না বিশ্বাসের নাম লিখে শিক্ষক বানায়। চায়না বিশ্বাস বর্তমানে ৫২নং টুপরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসাবে কর্মরত রয়েছেন, অপর দিকে উৎপাদন ব্যবস্থাপনা ও বিপণন বিভাগের শিক্ষক সঞ্জয় কুমার বাড়ৈ বরিশালের বাকেরগঞ্জ এমএ মালেক ডিগ্রী কলেজে, ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক প্রশান্তকুমার বিশ্বাস, সিতাই কুন্ড নেছার উদ্দিন তালুকদার স্কুল এন্ড কলেজে, বাংলা বিভাগের শিক্ষক সুকান্ত বিশ্বাস, মান্দ্রা ইউনাইটেড উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক, দিপালী বাড়ৈ ইংরেজি শিক্ষক গোপালগঞ্জ সদরের শিকায়াব প্রকল্প ইনন্সট্রাক্টর পদে, সংস্কৃত বিভাগের শিখা গাইন ঢাকা আজিমপুর অগ্রনী গালর্স স্কুল ও কলেজে, রাষ্ট্র বিজ্ঞানের শ্যামল বালা শরিয়াতপুর জেলার ভেধরগঞ্জের জহুরকাদির উচ্চ বিদ্যালয়, ইতি বাড়ৈ, জয়ন্তি রানী মিস্ত্রী ও সমিরন বাড়ৈ রামশীল ইউনিয়ন মহা বিদ্যালয়, চিন্ময় অধিকারী মাদুরীপুরে পিটিআই, ডাটা এন্ট্রি কম্পিউটার সেকশনে বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন।
অভিযোগের সত্যতা জানতে কলেজে গিয়ে এ পর্যন্ত যে সমস্ত শিক্ষকদের অবৈধ পন্থায় নিযোগ দেয়া হয়েছে তাদেরকে এবং কোন শিক্ষার্থীকে উপস্থিত পাওয়া যায়নি এ বিষয়ে সংস্কৃত বিভাগের শিক্ষক সুব্রত হাজরা বলেন- শিক্ষকদের হাজিরা খাতা অধ্যক্ষ স্যারের কাছে, সে যেন কোথায় রেখেছে তিনি আরো বলেন- উচ্চ মাধ্যমিক ১৭৪ ডিগ্রীতে ৫৫জন শিক্ষার্থী রয়েছে তবে আবাসিক কোন শিক্ষার্থী নেই।
এ ব্যাপারে অধ্যক্ষ রবীন্দ্রনাথ বাড়ৈর কাছে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে তিনি কিছু না বলে অনেক তালবাহানা করে বিষয়গুলো এরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে প্রতারণার আশ্রয় গ্রহন করেন।

এ পর্যন্ত নিয়োগ প্রাপ্ত প্রভাষকদের নাম এমপিও ভুক্ত ও জাতীয়করণের জন্য পাঠায় নি। এসকল পদগুলোর শিক্ষকদের নিয়োগ গত ১৩/০৯/২০১৪ সালের বিজ্ঞপ্তি দ্বারা প্রদান করা সত্যেও নিয়োগ প্রাপ্ত পদগুলোর জন্য আবার ৬/০৯/২০১৬ইং তারিখে একটি ভুয়া বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে।
এর আগে অধ্যক্ষ রবীন্দ্রনাথ বাড়ৈ বিরুদ্ধে দূর্ণীতির অভিযোগে তার অপসারনের দাবিতে বিক্ষোভ করে অফিস কক্ষে তালা দেয় স্থানীয় বিক্ষোভকারীরা। এরপর তার বিরুদ্ধে দূর্ণীতির প্রমান পাওয়ায় গভনির্ং বডির সিদ্ধান্তে তাকে সাময়িক ভাবে বরখাস্ত করে এবং পরবর্তীতে স্থায়ী ভাবে বরখাস্ত করা হয়। অধ্যক্ষের অর্থ বানিজ্য, জাল-জালিয়াতি, দূর্ণীতি ও অনিয়মের অভিযোগে ভুক্তভোগীরা প্রধান মন্ত্রীর কার্যালয়সহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করেও কোন প্রতিকার না পাওয়ায় হতাশাগ্রস্থ হয়ে পড়েছেন। তারা বলেন- এ কলেজটিকে অধ্যক্ষ দূর্ণীতির আতুর ঘর করে তুলেছেন, এতে প্রধানমন্ত্রীর ভাবমুর্তী নষ্ট করে কলেজটিকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে এনে পৌছেছেন। এলাকাবাসী জানায় কলেজে এখন ছাত্র-ছাত্রী নেই, শিক্ষক নেই, শুধু অধ্যক্ষের পছন্দের কিছু লোক নিয়ে সারাক্ষন মিটিং করেন। নিয়োগ প্রাপ্ত প্রভাষক মনিস মল্লিক নিত্যানন্দ ওঝা, বিমল জয়ধর অভিযোগ করে বলেন, আমাদের কথা কে শুনবে। আমরা যথাযথ নিয়মে আবেদন করে নির্বাচনী পরীক্ষায় অংশগ্রহন করে উত্তীর্ণ হই এবং নিয়োগপত্র পেয়ে যোগদান করে রীতিমত কার্যক্রম পরিচালনা করি কিন্তু তাতে কি হবে? অধ্যক্ষের চাহিদামত টাকা দিতে না পারায় আমাদের কলেজে রাখা হবে না বলে, কোন নিয়োগ বা নির্বাচনী পরীক্ষায় অংশগ্রহন ছাড়া সম্পূর্ণ অবৈধ ভাবে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে আমাদের নামের স্থানে ফ্লুড দিয়ে মুছে জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে সরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মরত শিক্ষক ও অপেশাদার লোকদের নাম অন্তর্ভুক্ত করে শিক্ষক বানিয়েছে। শিক্ষক অজয় কুমার হোড়, ফুলচাদ মজুমদার, মথুরনাথ বিশ্বাস, নিখিল রঞ্জন হাজরা, ভানু দেব গাইন বলেন- শিক্ষক কর্মচারীদের নামের তালিকা জাতীয়করণের জন্য ঢাকায় পাঠাতে ৩৫ হাজার করে টাকা আদায় করছে অধ্যক্ষ, এদের মধ্যে যারা টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন তাদের নাম পাঠানো হবে না বলে জানিয়েছে। এছাড়াও তার পছন্দের কয়েকজন শিক্ষক যারা অন্য প্রতিষ্ঠানে কর্মরত রয়েছেন তাদের নাম পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন অথচ যে সকল শিক্ষক, কর্মচারীগন কলেজ প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকে নিয়োগ পেয়ে যোগদান করে এমপিও ও নন এমপিও হয়ে কর্মরত রয়েছেন তাদেরকে বাদ দিয়ে নতুন ব্যক্তিদের ভুয়া নিয়োগ ও যোগদান দেখিয়ে জাতীয়করণ করার চেষ্টা করছেন। এতে করে দীর্ঘদিনের কর্মরত শিক্ষক-কর্মচারীগণ ফুসে উঠতে শুরু করেছে। তারা প্রধানমন্ত্রীর কাছে এ দূর্ণীতিবাজ, জাল-জালিয়াতি অধ্যক্ষ রবীন্দ্রনাথ বাড়ৈর অপসারন ও দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির ব্যবস্থা নিয়ে এমপিও ভুক্ত ও জাতীয়করন করার দাবি জানিয়েছেন।

এর আগে ২০০৭ সালের ৭ ফেব্রুয়ারী অধ্যক্ষ রবীন্দ্রনাথ বাড়ৈ নানা দূর্ণীতি অনিয়ম ও নিয়োগ বানিজ্যের অভিযোগে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে একটি অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী শিক্ষক-কর্মচারীগন অভিযোগটি সরজমিনে তদন্ত করে সত্যতা পায় তদন্ত কমিটি। পরে প্রতিবেদনটি জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে শিক্ষা অধিদপ্তরের যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হলেও এপর্যন্ত কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। এছাড়াও ভুক্তভোগী শিক্ষক কর্মচারীগন একই বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারী মাধ্যমি ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক বরাবরে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে আরেকটি অভিযোগ করেন তখন অভিযোগটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করার জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা ঢাকা অঞ্চলের কলেজ শাখার উপ-পরিচালক কাজী নুরে আলম সিদ্দিকি ও সহাকারী পরিচালক মোঃ এরফানুল হক শেখকে তদন্ত করে ১৫ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন পরিচালক। তদন্ত শেষে এ পর্যন্ত আর আলোর মুখ দেখেনি প্রতিবেদনটি ফলে হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন অভিযোগকারী ভুক্তভোগী শিক্ষক ও কর্মচারী বৃন্দ।

 



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: অভিযোগ

১৬ জুন, ২০১৯

আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ