Inqilab Logo

ঢাকা, রোববার ২১ জুলাই ২০১৯, ০৬ শ্রাবণ ১৪২৬, ১৭ যিলক্বদ ১৪৪০ হিজরী।

তারাবিতে উজ্জীবিত রোজাদার

চট্টগ্রামের এনায়েত বাজার চট্টগ্রামের এনায়েত বাজার

আইয়ুব আলী : | প্রকাশের সময় : ১৫ মে, ২০১৯, ১২:০৩ এএম

চট্টগ্রাম নগরীর এনায়েত বাজার শাহী জামে মসজিদে প্রতিদিন তারাবিহ নামাজে ধর্মপ্রাণ রোজাদার মুসলমানদের ঢল নামছে। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের পাশাপাশি তারাবরি নামাজেও শামিল হচ্ছেন সব শ্রেণি, পেশা ও বয়সের মানুষ। বয়োবৃদ্ধদের পাশাপাশি তরুণ, কিশোর এমনকি শিশুরাও তারাবরি নামাজে শামিল হচ্ছে।
নামাজ চলাকালে আশপাশের দোকান-পাট বন্ধ হয়ে যায়। নগরীর ব্যবসায়িক প্রাণকেন্দ্র ব্যস্ততম এনায়েত বাজারে অবস্থিত এটি একটি ঐতিহ্যবাহী ও পুরনো মসজিদ। স্থানীয় লোকজন ছাড়াও দূর-দূরান্ত থেকে অনেক মুসল্লি এ মসজিদে তারাবরি নামাজ আদায় করেন। অত্যন্ত সুশৃঙ্খল মনোরম পরিবেশে এক ভিন্ন আমেজে মুসল্লিরা খতম তারাবিহ আদায় করছেন। তিন তলা মসজিদ ছাড়িয়ে মুসল্লির কাতার ছাদ, বারান্দা এবং সামনের খোলা মাঠ পর্যন্ত বিস্তৃত হচ্ছে। স্থান সঙ্কুলান না হওয়ায় অনেক মুসল্লি মসজিদের পাশে ফুটপাতেও কাতারবন্দি হচ্ছেন।
মসজিদের খতিব মাওলানা মীর মোহাম্মদ রাশেদুল আলম বলেন, অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর তারাবিতে মুসল্লির সংখ্যা অনেক গুণ বেড়েছে। সাড়ে চার থেকে পাঁচ হাজার মুসল্লি তারাবরি নামাজ আদায় করছেন। মসজিদে ব্যাপক মুসল্লির সমাগমে অত্যন্ত খুশি উল্লেখ করে খতিব বলেন, এ রমজানে নতুন প্রজন্মের অনেকে মসজিদমুখী হয়েছে।
মাহে রমজান গুনাহ মার্জনার একটি সুবর্ণ সুযোগ। তিনি বলেন, রমজান হচ্ছে একটি মঞ্চ। মঞ্চের প্রধান অতিথি হচ্ছেন কোরআনুল কারীম। আর বিশেষ অতিথি হচ্ছেন লাইলাতুল কদর। লাইলাতুল কদরকে তালাশ করতে রমজানের শেষ ১০ দিনে মুসল্লিদের সংখ্যা অনেক গুণ বেড়ে যায়। নগরীর হালিশহর, পতেঙ্গাসহ শহরের বাইরে পটিয়া, বোয়ালখালী, চন্দনাইশসহ অনেক দূর-দূরান্ত হতে মুসল্লিরা এ মসজিদে নামাজ পড়তে আসেন।
মসজিদ কমিটির পক্ষ থেকে শান্তিপূর্ণভাবে নামাজ আদায়ের সুব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি এ মসজিদে কেয়ামুল লাইল নামাজেরও সুব্যবস্থা রয়েছে। এসিসহ প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় ফ্লোরে ৮৪টি ফ্যানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ২২ নং এনায়েত বাজার ওয়ার্ড কাউন্সিলর আলহাজ মো. সলিমউল্লাহ বাচ্চু বলেন, এনায়েত বাজার শাহী জামে মসজিদ একটি ঐতিহ্যবাহী পুরনো মসজিদ। আমার নানা আকবর খান, বাবা সালামত খান ও প্রাক্তন কমিশনার ইউসুফ খানের আমল থেকে এ মসজিদটি সুচারুভাবে পরিচালিত হয়ে আসছে।
মসজিদ কমিটিতে কোন মতবিরোধ নেই। ব্যাংক, বীমাসহ ব্যবসায়িক প্রাণকেন্দ্রে এ মসজিদ অবস্থিত। স্থানীয় ৮০ শতাংশ লোক এ মসজিদে নামাজ আদায় করেন। বাইরের অনেক দূর-দূরান্ত থেকে অনেক মুসল্লি প্রতিবছর মাহে রমজানে
এনায়েত বাজার শাহী জামে মসজিদ ওয়াকফ এস্টেট ও মহল্লা কমিটির সেক্রেটারি মো. ইসমাইল মনু বলেন, নগরীর ঐতিহ্যবাহী এ মসজিদে প্রতিবছর তারাবহিতে মুসল্লির ঢল নামে। মসজিদ পরিচালনা কমিটির বর্তমান এবং প্রাক্তন সদস্যরা এ মসজিদের উন্নয়ন এবং মুসল্লিদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধিতে সম্মিলিতভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। মসজিদের ভেতরে যেমন আমরা একসাথে কাজ করছি বাইরেও সেরকম মিলেমিশে থাকতে পারি মহান আল্লাহর কাছে এ ফরিয়াদ করছি। মসজিদের প্রথম ও দ্বিতীয় ফ্লোরে অজুখানার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তৃতীয় তলায়ও অজুখানার ব্যবস্থা করা হবে। আগামী রমজানের মধ্যে চতুর্থ তলার কাজও সম্পন্ন হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: চট্টগ্রাম


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ