Inqilab Logo

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৯, ০২ কার্তিক ১৪২৬, ১৭ সফর ১৪৪১ হিজরী

মিয়ানমারে গণহত্যার সকল মেসেজ মার্ক ডিলিট করেন

মিয়ানমারে গণহত্যার সকল মেসেজ মার্ক ডিলিট করেন ফেসবুক ভেঙে ফেলার সময় এসেছে-৫

নিউ ইয়র্ক টাইমস | প্রকাশের সময় : ১৫ মে, ২০১৯, ১২:০৩ এএম

ফেসবুক ইঞ্জিনিয়াররা অ্যালগরিদম লেখেন যা বাছাই করে যে ব্যবহারকারীর কোন মন্তব্য বা অভিজ্ঞতা বন্ধু ও পরিবারের নিউজ ফিডে প্রদর্শিত হয়েছে। এসব আইন মালিকানামূলক ও এত জটিল যে বহু ফেসবুক কর্মচারীই সেগুলো বুঝতে পারে না।
২০১৪ সালে এ সব আইন ঔৎসুক্য জাগানো ‘ক্লিকবেইট’ শিরোনামগুলোর অনুক‚ল হয়। ২০১৬ সালে তা রাজনৈতিক ঝালর লাগানো মতামত ও ভুয়া খবর ছড়াতে সহায়ক হয় যা রুশ অভিনেতাদের মার্কিন নির্বাচনে নাক গলানো সহজ করে। ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে মার্ক ঘোষণা করেন যে অ্যালগরিদম বন্ধুদের শেয়ার করা অ-সংবাদ বিষয়কে ও বিশ্বাসযোগ্য সূত্রের খবর পছন্দ করবে। তার ইঞ্জিনিয়াররা এর ব্যাখ্যা করে রাজনীতি, অপরাধ, ট্র্যাজেডি শ্রেণির সংবাদের উদ্দীপক হিসেবে।
ফেসবুক মার্ক প্রণীত ও জ্যেষ্ঠ নির্বাহীদের উন্নয়নকৃত আইনগুলো বাস্তবায়নে হাজার হাজার ভাড়া করা লোকের মাধ্যমে কিভাবে কথাবার্তার ব্যবস্থা করে তা নিয়ে বহু সমালোচনার জবাব দিয়েছে। কয়েক সপ্তাহের প্রশিক্ষণের পর এই ভাড়া করা লোকেরা ঠিক করে যে কোন ভিডিওগুলো বিদ্বেষী বক্তব্য সম্বলিত বা মুক্ত বক্তব্য বলে গণ্য হবে। কোন ছবিগুলো ত্রæটি পূর্ণ ও কোনগুলো স্রেফ নান্দনিক আর কোন সরাসরি দৃশ্যগুলো সম্প্রচার করা বেশি সহিংস হবে। (দি ভার্জ-এর রিপোর্ট মতে, আরিজোনার এক দালালের মাধ্যমে কর্মরত এ সব মডারেটরের মধ্যে কিছু লোককে বছরে ২৮ হাজার ৮০০ ডলার করে দেয়া হত। তাদের সীমিত বিরতি দেয়া হত এবং বড় রকম মানসিক সমস্যার সম্মুখীন হয়)।
ফেসবুকের অস্বচ্ছ অ্যালগরিদম যেহেতু পর্যাপ্ত ছিল না। গত বছর আমরা শুনেছিলাম যে ফেসবুক নির্বাহীরা প্ল্যাটফর্ম থেকে স্থায়ী ভাবে তাদের নিজ মেসেজগুলো ডিলিট করে দিয়েছেন। প্রাপকের ইনবক্স থেকে তা মুছে দেয়া হয়েছে। আর এর যৌক্তিকতা হিসেবে দেখানো হয়েছে কর্পোরেট নিরাপত্তা উদ্বেগ। আমি এখন যখন মার্কের সাথে আমার ফেসবুকের বছরগুলোর দিকে ফিরে তাকাই, দেখি এটা হচ্ছে আমার নিজের হালকা-নীল মন্তব্যের দীর্ঘ প্রবাহ। সুস্পস্টভাবে তার কথার জবাব যা একসময় সে আমার কাছে পাঠিয়েছিল।
২০১৭ সালের শেষ দিকে মিয়ানমারে ফেসবুক ম্যানিপুলেটিং স্পিচের চরম ঘটনা ঘটে। ভক্স-এর সাথে এক সাক্ষাতকারে মার্ক বলে, মিয়ানমারে গণহত্যা চালাতে যারা উৎসাহ যুগিয়েছে, সে ব্যক্তিগত ভাবে তাদের মধ্যে ফেসবুক ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত মেসেজ ডিলিট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সে বলে, মনে পড়ে এক শনিবার সকালে আমি একটা ফোন পেলাম। আমরা সনাক্ত করলাম যে লোকজন সংবেদনশীল বার্তা ছড়ানোর চেষ্টা করছে, এ ব্যাপারে দু পক্ষই ব্যবহার করছে ফেসবুককে। বিশেষ করে মুসলিমদের বলা হচ্ছে যে এই! বৌদ্ধদের অভ্যুত্থান শুরু হচ্ছে। অতএব তোমরা অস্ত্র হাতে নাও ও জায়গামত চলে যাও। এর জবাবে অন্যপক্ষও একই ধরনের আহ্বান জানাচ্ছে।
মার্ক নির্দেশ দিল- আমরা এ ধরনের মেসেজ প্রচার করতে দেব না। বেশির ভাগ লোকই এ সিদ্ধান্তের সাথে একমত হল। কিন্তু সমস্যা হল এই যে সে এ ব্যাপারে কোনো নিরপেক্ষ কর্তৃপক্ষ বা সরকারের কাছে কোনো জবাবদিহিতা করেনি। ফেসবুক তত্ত¡গতভাবে গণহারে আমেরিকানদের মেসেজ ডিলিট করতে পারে যদি এর নেতৃত্ব সিদ্ধান্ত নেয় যে তারা সেগুলো পছন্দ করে না।
মার্ক জোর দিয়ে বলেছে যে ফেসবুক শুধু একটি সামাজিক উপযোগিতা। মানুষের ইচ্ছেমত যোগাযোগের এক নিরপেক্ষ প্ল্যাটফর্ম। এখন সে দুটোই স্বীকার করে যে ফেসবুক একই সাথে প্ল্যাটফর্ম ও প্রকাশক। এভাবে ফেসবুক অনিবার্যভাবে মূল্যবোধ সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। কোম্পানির আইনজীবীরা আদালতে বলেছেন যে ফেসবুক এক প্রকাশক এবং সে কারণে প্রথম সংশোধন সুরক্ষার অধিকারী।
মার্ক জানে যে এটা খুব বেশি শক্তি এবং তা সহনীয় করতে সে দ্বিমুখী কৌশল গ্রহণ করেছে। সে ফেসবুকের দৃষ্টিকে অধিকতর গোপনীয়তা ও গোপন বার্তা উৎসাহিত করার প্রতি নিবদ্ধ করছে যা ফেসবুক কর্মচারীরা দেখতে পাবে না। সে একা নিয়ন্ত্রণ করবে। দ্বিতীয়ত সে নিয়ন্ত্রণকারী ও অন্যান্য শিল্প নির্বাহীদের কাছ থেকে বন্ধুত্বপূর্ণ তত্ত্বাবধান আশা করছে।
গত বছর সে সামাজিক মাধ্যম প্ল্যাটফর্ম কর্তৃক কঠিন বিষয় মডারেশন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে একটি স্বাধীন কমিশন গঠনের প্রস্তাব করে। মার্ক যুক্তি দেখায় যে এটা ফেসবুকের সিদ্ধান্ত স্বাধীন ভাবে পরীক্ষার সুযোগ দেবে। আর ব্যবহারকারীরা অরাজি হলে এর কাছে আপিল করতে পারবে। কিন্তু এর সিদ্ধান্ত আইনি বলে বলিয়ান হবে না যেহেতু কোম্পানিগুলো স্বেচ্ছায় অংশ নেবে।
ওয়াশিংটন পোস্টে মার্চে এক অভিমত-সম্পাদকীয় নিবন্ধে সে লেখে যে আইনপ্রণেতারা প্রায়ই আমাকে বলেন যে কথাবার্তার ওপর আমাদের খুব বেশি নিয়ন্ত্রণ এবং আমি সে ব্যাপারে একমত। সে আগের চেয়ে আরো বেশি এগিয়ে গিয়ে আরো সরকারি নিয়ন্ত্রণ আরোপের আহ্বান জানায়। আর তা শুধু কথাবার্তার ওপর নয়। ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও আত্মোপলব্ধির, ভোক্তাদের এক নেটওয়ার্ক ছেড়ে যাওয়ার। তাদের প্রোফাইল পরিবর্তন, বন্ধু যোগাযোগ, ফটো এবং একজনের কাছে আরেকজনের তথ্যের ব্যাপারেও। (অসমাপ্ত)



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: ফেসবুক


আরও
আরও পড়ুন