Inqilab Logo

ঢাকা, বুধবার, ২৩ অক্টোবর ২০১৯, ০৭ কার্তিক ১৪২৬, ২৩ সফর ১৪৪১ হিজরী

কৃষকের সঙ্গে দয়া করে মসকরা করবেন না: খাদ্যমন্ত্রীর উদ্দেশে হুইপ

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১৫ মে, ২০১৯, ৬:৪৫ পিএম

খাদ্যমন্ত্রীর উদ্দেশে জাতীয় সংসদের হুইপ আবু সাঈদ আল মাহমুদ বলেছেন, আপনি কৃষকের সঙ্গে মসকরা করতে পারেন না। আপনি, আমি কৃষকের ভোটে, কৃষকের দয়ায় সংসদে এসেছি।

আজ বুধবার হুইপ তার ফেসবুকে খাদ্যমন্ত্রীর উদ্দেশে এসব কথা বলেন। হুইপের সেই স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে দেয়া হলো-

ক্ষমতা কি মানুষকে অন্ধত্বের দিকে ঠেলে দেয়? আমার জানা মতে, সুস্থ চোখ অন্ধ হতে সময় লাগে। কিন্তু মাত্র ৪ মাসে ধানের ভাণ্ডার নওগাঁর গাঁও-গেরাম থেকে উঠে আসা খাদ্যমন্ত্রী গাঁয়ের কৃষকদের সঙ্গে তাঁর আত্মিক সম্পর্ক ভুলে গেলেন! অন্ধ হয়ে গেলেন এসির ঠাণ্ডা বাতাসে!

তিনি বলেছেন, সরকারকে বিব্রত করার জন্য না কি কৃষক ষড়যন্ত্র করে পাকা ধানে আগুন দেওয়ানো হয়েছে!

কৃষককে ধানের মূল্য দিতে পারবেন না, বিনয়ের সঙ্গে সম্মানিত কৃষকদের সীমাবদ্ধতার কথা অবহিত করুন। সমস্যা কোথায়? অসীম সমস্যার এই দেশে সব কিছু রাতারাতি ঠিক হবে না, একথা বিনয়ের সঙ্গে বললে মানুষ গ্রহণ করবে।

একজন অসহায় কৃষকের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকেও সহ্য করতে পারবেন না? আপনি তো সামরিক স্বৈরাচারের মন্ত্রী নন। আপনাকে স্মরণ রাখতে হবে, আপনি পরম ধৈর্যশীল, পরমতসহিষ্ণু, উদার গণতান্ত্রিক বিশ্বসেরা রাজনীতিবিদ শেখ হাসিনার সরকারের মন্ত্রী এবং তাঁর সম্মানিত সহকর্মী। উপরন্তু আপনি তেলেতলে আমলা বা ব্যবসায়ী কোটার মন্ত্রী নন। তৃণমূল থেকে কাঁদামাটি গাঁয়ে মাখা রাজনীতিবিদ। ইউনিয়ন চেয়ারম্যান থেকে ধাপে ধাপে ধান আবাদি মানুষের সহযোগিতা, সমর্থনে আজকের পর্যায়ে এসেছেন। অন্ততঃ আপনি কৃষকের সঙ্গে মসকরা করতে পারেন না। আপনি, আমি কৃষকের ভোটে, কৃষকের দয়ায় সংসদে এসেছি।

আগুন দিয়েছে নিজের ক্ষেতে, আপনার পাঞ্জাবিতে দেয়নি। তাতেই সহ্য হচ্ছে না! শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকারটুকুও দেবেন না কৃষককে। কৃষক বলে কি তাদের প্রতিবাদ করার অধিকার নেই! প্রজাতন্ত্রের দায়িত্বশীল পদে থেকে অসহিষ্ণু হওয়া সমীচীন নয়।

কৃষক উৎপাদন করে, ন্যায্য মূল্য পায় না। একথা অন্য রাজনীতিবিদ না জানলেও আপনার, আমার অজানা নয়। ধানের দামের খোঁজ নেন, প্রতি মুহূর্তে নিজের ম্যাকানিজম দিয়ে খবর নেন। অফিসারদের উপর শতভগ নির্ভরশীল থাকবেন না। দেখেন, হাটে বাজারে ধানের প্রকৃত দাম কত? আপনি এই মন্ত্রণালয়ে নতুন। কথিত আছে, এই মন্ত্রণালয়ে অধীনস্থ খাদ্য বিভাগের শুধু কর্মচারী নয়, অফিসের দেয়ালও না কি ঘুষ চায়। ভূমিমন্ত্রীর মত সচল হোন, দুর্নীতির জঞ্জাল পরিষ্কার করুন।

কৃষককে প্রতিপক্ষ ভেবে সময় নষ্ট না করে, বিনয়ের সঙ্গে কৃষককে আর কিছু দিন ধৈর্য ধরতে বলুন। প্রতিবেশী ভারত বা অন্য কোন দেশে ধানের আধুনিক সাইলো বা গুদাম পরিদর্শন করুন। নিজে লেগে থেকে প্রকল্প প্রস্তুত করে একনেকে অনুমোদন করান। দেশে বড় বড় ধানের সাইলো নির্মাণ করুন। বিনা কমিশন বা ঘুষে সরাসরি কৃষকের নিকট থেকে ধান ক্রয়ের ব্যবস্থা করুন। তবেই কৃষক বাঁচবে। কৃষকরত্ন শেখ হাসিনার শ্লোগান, কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে।

সরাসরি কৃষক এর আগে খাদ্যমন্ত্রী হয় নাই। মহান প্রধানমন্ত্রী শখ করে কৃষককে খাদ্যমন্ত্রী এবং কৃষিবিদকে কৃষিমন্ত্রী বানিয়েছেন। আমরা, আপনাদের নিয়ে স্বপ্ন দেখি, আস্থা রাখি, বিশ্বাস রাখি। আপনি এবং কৃষিমন্ত্রী একত্রে বসে কৃষকদের কল্যাণে বড় কিছু করুন, তাদের বাঁচান।

জাতির পিতার আত্মা শান্তি পাবে।

- জাতীয় সংসদের হুইপ আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন এর ফেসবুক থেকে



 

Show all comments
  • SK abdus sattar ১৬ মে, ২০১৯, ১:২৭ এএম says : 0
    Nice writing.
    Total Reply(0) Reply
  • SK abdus sattar ১৬ মে, ২০১৯, ১:২৭ এএম says : 0
    Nice writing.
    Total Reply(0) Reply
  • মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম ১৭ মে, ২০১৯, ১০:১০ এএম says : 0
    হুইপ সাহেব আপনাকে প্রথমে ধন্যবাদ কৃষকদের সম্পর্কে কিছু লিখার জন্য। আমি শর্টকাট বলে ফেলি খাদ্যমন্রী দায়িত্ব নেওয়ার পর বলছিলেন আমি নিজে কৃষি পরিবারের সন্তান এখন বোল পাল্টাতে কি মন্রীর নিজের কথাই ভুলে গেলেন।মসকরা বন্ধ করে কৃষকদের স্বপক্ষে কথা বলুন না পারলে কেটে পরুন।
    Total Reply(0) Reply
  • Mohammad Ali chowdhury ১৬ মে, ২০১৯, ৪:৩৪ পিএম says : 0
    স্বপন ভাই, আপনাকে ধন্যবাদ। আপনি জানেন বর্তমানে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড়ো পরিবারেও অশান্তি, অবিশ্বাস বিরাজ করছে। শিক্ষক দেরকে জননেত্রীর বিপক্ষে দার করানোর চেষ্টা চলছে।যে সরকার পদ্মা সেতুর মত একটা সেতু করতে পারে,যে সরকার ৩৯ কোটি বই বছরের প্রথম দিন দিতে পারে ছাত্রদের হাতে, গত নির্বাচনের আগে বেসরকারি শিক্ষকদের৫% প্রবৃদ্ধি করতে পারে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা, নির্বাচনের পর শিক্ষকদের ধন্যবাদ দিলেন। তার কিছু দিন পর দুই একজন তথাকথিত শিক্ষক নেতাদের কথা শুনে 4% কর্তনের গেজেট প্রকাশ করে সারা বাংলাদেশে শিক্ষা বান্ধব সরকারের বদনাম করাচ্ছে। বেসরকারি শিক্ষকদের অবসর সুবিধা বোর্ড ও কল্যাণ ট্রাস্ট কে এই সরকারের আদর্শ বিরুদী লোকদের কমিটিতে জাগা দিলেন। এই বিচার কে করবে???? আপনি অনেক সাহসী মানুষ আপনাকে উত্তাল গণ আন্দোলনের সময় দেখেছি। জনাব তেলাওয়াত হোসেন খান,পাবনা জনাব মোঃ নজরুল ইসলাম।, মনোহরদী, নরসিংদী জনাব মাহবুবুর রহমান।বসাবো,ঢাকা কিছু দিন আগে জেলে গিয়েছিল। এই তিন জন ছাত্র জীবনে এই সরকারের চেতনা বিরোধী ছিলেন। একজন নেতা কে ৪ বার একটি পদে দেওয়া হলো। তাহলে জীবনের স্বর্ণালী দিনগুলি ঢাকার রাজপথে দিয়েছিলাম আমাদের কে বাদ দিয়ে কাদের কে নিয়ে কমিটি করলো। বিষয় টি আপনি দেখবেন আমি বিশ্বাস করি স্বপন ভাই। আমাকে আপনিও চিনেন। অনেক রক্ত, শ্রম আমিও অনেকে র মত রাজ পথে রক্ত দিয়েছি। বিষয় টি একটু ভাবার বিষয।
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ