Inqilab Logo

ঢাকা, মঙ্গলবার ২১ মে ২০১৯, ০৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬, ১৫ রমজান ১৪৪০ হিজরী।

শতাব্দীর সেরা চুক্তি না জঘন্যতম চক্রান্ত?

মোহাম্মদ আবদুল গফুর | প্রকাশের সময় : ১৬ মে, ২০১৯, ১২:০৬ এএম

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মধ্যে ফিলিস্তিনি ইসরাইল দ্ব›েদ্বর অবসান ঘটানোর লক্ষ্যে একটি শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এ চুক্তি যদিও প্রকাশ করা হয়নি, তবুও মুসলমানদের রমজান মাসের আবেগ মাথায় রেখে রমজান মাস চলে যাওয়ার পর এ চুক্তি প্রকাশ করা হবে বলে কথা রয়েছে বলে ধরে নেয়া হচ্ছে।
তবে চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত না হলেও ইসরাইলের একটি পত্রিকায় এ চুক্তি স্বাক্ষর ও চুক্তির বিষয়বস্ত প্রকাশিত হওয়ায় এ চুক্তি স্বাক্ষরের খবর ফাঁস হয়ে পড়েছে। এখানে উল্লেখযোগ্য যে অতীতে নিশ্চিত ও ইসরাইলের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র মতো চেষ্টা হয়েছে, তা নিয়ে সব সময় যুক্তরাষ্ট্রের ইউরোপীয় সৈনদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হতো। তাছাড়া দুই রাষ্ট্র নীতি থাকত সে সব পরিকল্পনার ভিত্তি। কিন্তু ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর এক্ষেত্রে এসেছে ব্যাপক পরিবর্তন। ইউরোপীয় মিত্ররাই শুধু নয়, আরব দেশগুলোর মধ্যে যেমন রাষ্ট্র যুক্তরাষ্ট্রের ইয়াসিন প্রশ্নে নমনীয় যেমন সৌদী আরব। তার সাথে ও কোন যোগাযোগ রক্ষার প্রয়োজন অনুভব করেনি যুক্তরাষ্ট্র।
এখানে উল্লেখযোগ্য যে ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র প্রচলভাবে ইসরাইলের প্রতি ঝুঁকে পড়তে শুরু করে।
কারণ যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরাইলের কট্টর সমর্থক। তিনি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর ইসরাইল সম্পর্কে সিদ্ধান্ত প্রহনের জন্য যেমন ইউরোপীয় মিত্রদের সঙ্গে আলোচনার প্রয়োজন অনুভব করেননি, তেমনি গুরুত্ব দেননি সৌদী আরবের মত আরব মিত্রদের সঙ্গে যোগাযোগ করার। তিনি বরং এসব ব্যাপারে সরাসরি ইসরাইলের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা ও চুক্তি স্বাক্ষরের পক্ষপাতী যা ইসরাইলের কথিত চুক্তি ফাঁসের মাধ্যমে বিশ্ববাসী জানতে পেরেছে। সুতরাং কিভাবে, কোন পয়েন্টে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে, কিনা এখন আর বড় কথা নয়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে এবং সে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ড ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, এটাই আসল কথা।
এবার ্আশা যাক চুক্তিতে কী কী প্রাধান্য পেয়েছে, সেসব বিষয়ে। অতীতের যখন আলোচনায় দুই রাষ্ট্র (ফিলিস্তিন ও ইসরাইলী)। যদিও কখনও ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের যথাযথ নিশ্চিত না। এবার দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলে দেয়া হয়েছে ‘ফিলিস্তিন’ নামের কোন দেশ থাকবে না। তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভক্ত ফিলিস্তিনীদের .... দেয়ার জন্য ইসরাইলী সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রিত .... প্যালেন্টাইন নামের কিছু এলাকা থাকতে পারবে। আসলে কোন ব্যক্তিকে যেমন হত্যা করা যায়, কোন দেশকে হত্যা করা যায় না। অথচ সম্পাদিত চুক্তিটির মাধ্যমে ফিলিস্তিন নামের দেশটিকেই হত্যা করা হয়েছে। কারণ চুক্তিতে স্পষ্ট বলে দেয়া হয়েছে ‘ফিলিস্তিন’ বলে কোন দেশ থাকবে না।
এভাবে একটি চুক্তির মারফৎ ‘ফিলিস্তিন’ নামের দেশটির হত্যা করার মাধ্যমেই তার কাছে ঘোষণা করা হচ্ছে’ শতাব্দীর সেরা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। অথচ এই গোপন চুক্তির মূল হোতা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দাবী করে তারা নাকি স্বাধীন বিশ্বের প্রবক্তা ও নেতা, তারা নাকি গণতান্ত্রিক বিশ্বের নেতা।
যেহেতু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে সমস্ত রাষ্ট্র কর্মকর্তা নির্বাচিত হয় তাতে এক অর্থে গণতান্ত্রিক দেশ বলা যেতে পারে। কিন্তু অন্যান্য দেশের প্রতি তাদের গৃহিত নীতিকে কোন অর্থে গণতান্ত্রিক বলে স্বীকার করে নেয়া যায় কি? যায় না। সেখানে তাদের নীতি দ্ব্যর্থহীনভাবে সা¤্রাজ্যবাদী নীতি। ফিলিস্তিন, আরব বা কোন মুসলিম দেশের বেলায় তারা কখনও গণতন্ত্রের পথে চলতে অভ্যস্ত নয়, দ্বিধাহীনভাবেই ঘোষণা করা যায়।
ফিলিস্তিন প্রশ্নে বলা যায়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যতদিন তার ইউরোপীয় মিত্রদের সঙ্গে মিলে দুই রাষ্ট্র নীতি অনুকরণ করতো ততদিন তাদের ফিলিস্তিন নীতিতে ক্ষীণ হলেও গণতান্ত্রিক নীতি অনুসরণ করতো বলে দাবী করা সম্ভব ছিল। কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সে নীতির আমূল পরিবর্তন হয় ডোনাল্ড ট্রাম্পের মত কট্টর মুসলিম বিরোধী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার সাথে সাথে। এর প্রমাণ ফিলিস্তিন প্রশ্নে ফিলিস্তিনকে আলোচনার বাইরে রেখে ফিলিস্তিনের জনমত মধ্যপ্রাচ্যের গলার কাঁটা ইসরাইলের সাথে আলোচনা ও গোপন চুক্তি স্বাক্ষর করে তাকে শতাব্দীর সেরা চুক্তি বলে চালিয়ে দেবার অপচেষ্টা দেশে..।
তাই যদি গণতান্ত্রিক বিশ্বের নেতা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গণতন্ত্র অনুসরণ, তবে সে গণতন্ত্র থেকে রেহাই দিন বিশ্বকে, এই হবে বিশ্বের শন্তিকারী মানুষদের অন্তরের প্রার্থনা। আমাদের সুস্পষ্ট ঘোষণা যে গণতন্ত্রে সংশ্লিষ্ট দেশের গণমানুষদের বক্তব্যের মূল্য নেই, সে গণতন্ত্র তো নয়ই, তা গণতন্ত্রের নামে প্রতারণা মাত্র।
আর ফিলিস্তিনের কথায় যদি আসি, এ কথা স্বীকার করতেই হবে যে, ফিলিস্তিনের বর্তমান যে সংকট যেখানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দায় সম্পূর্ণ কারণ মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান সংকটের মূলে ১৯১৭ সালের বালফোর ঘোষণা হলেও এবং সে কারণে এব্যাপারে বৃটেন দায়ী হলেও পরবর্তীকালে পশ্চিমা বিশ্বের নেতৃত্বে বৃটেনের স্থানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অধিষ্ঠিত হওয়ায় এ ব্যাপারে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অপরাধের দায় এড়ানোর কোন উপায় নেই। বিশ্বে... ইসরাইলের কট্টর সমর্থক ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি যেভাবে ইসলামের প্রাপ্ত অঙ্গ ভক্তের নীতি অনুসরণ শুরু করেছেন, তাতে এ ব্যাপারে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দায় বেড়ে ...গেছে বহুগুণে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যেভাবে যুক্তরাষ্ট্রের ইউরোপীয় মিত্রদের সাথে আলোচনা ধার না ধেরে স্বয়ং ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতিনিয়াহুর সঙ্গে আলোচনা ও চুক্তি স্বাক্ষরের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, তাতে এটা দ্বিধাহীন চিত্তে ঘোষণা করা যায়, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অশান্তির জন্য মূলত তিনিই দায়ী। কারণ একই চু্িক্ত স্বাক্ষরের মাধ্যমে শুধু মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠা সুদূরপরাহতই করা হয়নি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক অতীতের যে সামান্যতম অবশিষ্ট ছিল তাকেও অসম্ভব করে তোলা হয়েছে। অথচ কলংকিত চুক্তি স্বাক্ষর করে দাবী করা হচ্ছে, এর মাধ্যমে নাকি শতাব্দীর সেরা চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়েছে।
প্রশ্ন আসে, যে চুক্তির মাধ্যমে একটি স্বাধীন জাতির স্বাধীন অস্তিত্বের অধিকার কার্যত অস্বীকার করা হয়েছে, সেটাই যদি হয় শতাব্দীর সেরা চুক্তি তা হলে বিশ্ব থেকে সমস্ত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রর জাতিসংঘ সদস্যপদ বাতিল করে দেয়াই কি হবে দুনিয়ার সমস্ত দেশের স্বাধীনতা নিরাপদ করা? মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ফিলিস্তিন নীতি কিন্তু সেটাই প্রমাণ করে।
অন্য কথায়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ফিলিস্তিন-নীতিকে যদি সমর্থনযোগ্য বিবেচনা করা যায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অতীতের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও ঐসব নেতাদের নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সব সর্ব ও গৌরব মিথ্যা হয়ে পড়ে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মেহেরবানী করে নিরপেক্ষভাবে চিন্তা করে দেখুন তাঁর বর্তমান ঘৃণ্য ফিলিস্তিন নীতি বজায় রেখে সাম্প্রদায়িক স্বাধীন রাষ্ট্র হিসাবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতাদের গৌরবের আসন থেকে টেনে হেঁচড়ে টেনে নামানোর নীতি বজায় রাখবেন না তাঁর নিজের ভুল স্বীকার করে নিয়ে স্বাধীনতাকামী ফিলিস্তিনীদের স্বাধীনতা, দাবীর যথার্থতা স্বীকার করে য্ক্তুরাষ্ট্রের স্বাধীনতা সংগ্রামের নেতাদের প্রতি শ্রদ্ধা বজায় রাখবেন।
প্রথম পথ অনুসরণ করলে তাকে তার বর্তমান ফিলিস্তিন নীতির ভুল স্বীকার করার জন্য মানসিকভাবে তৈরী হতে হবে। আর তা সম্ভব না হলে তিনি নিজের অগণতান্ত্রিক নীতি অনুসরণের ধারা বজায় রেখে পরবর্তীকালের ঐতিহাসিকদের কাছে জঘন্যতম চক্রান্তের জন্য নিজেকে দায়ী করে যাবেন। সেক্ষেত্রে তার স্বাক্ষরিত চুক্তিকে শতাব্দীর সেরা চুক্তি হিসাবে না দেখেতে তারা তাকে শতাব্দীর জঘন্যতম চক্রান্তের জন্য দায়ী করা হবে।



 

Show all comments
  • heron ১৯ মে, ২০১৯, ১০:৫০ এএম says : 0
    ভাষা প্রয়োগ যথাযথ হয়নি মনে হচ্ছে;অর্থ বুঝতে কস্ট হল।অনুবাদক মনে হয় আক্ষরিক অনুবাদ করেছেন ,যাহোক আরো একটু যত্নশীল হলে এটি সহজ ও বোধগম্য হতো।
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: চক্রান্ত


আরও
আরও পড়ুন