Inqilab Logo

ঢাকা, মঙ্গলবার ২১ মে ২০১৯, ০৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬, ১৫ রমজান ১৪৪০ হিজরী।

রাহীর ৫ উইকেটেও বাংলাদেশের লক্ষ্য ২৯৩

স্পোর্টস রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১৫ মে, ২০১৯, ৭:৫৪ পিএম

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে গত সোমবার অভিষেকটা ঝলমলে করতে পারেননি আবু জায়েদ রাহী। তবে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে দুর্দান্ত বোলিং করলেন বাংলাদেশের এই পেসার। তাতে ডাবলিনে ত্রিদেশীয় সিরিজের নিয়ম রক্ষার ম্যাচে স্বাগতিকরা থেমেছে ৮ উইকেটে ২৯২ রান করে।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সেঞ্চুরি হাঁকানো অ্যান্ড্রু বলবার্নিকে ফিরিয়ে শুরু করেন রাহী। এরপর পল স্টারলিং ও উইলিয়াম পোর্টারফিল্ডের ১৭৪ রানের জুটি ভাঙার পর এই ডানহাতি পেসার জ্বলে ওঠেন। অষ্টম ও নবম ওভারে আরও তিন উইকেট নেন। তাতে দ্বিতীয় ম্যাচেই এক ইনিংসে ৫ উইকেট নিয়ে বিশ্বকাপ দলে জায়গা পেতে নির্বাচকদের সুনজরে পড়লেন রাহী। ৯ ওভারে ৫৮ রান দিয়ে ৫ উইকেট নেন তিনি।

৩১ রানে আয়ারল্যান্ডের উদ্বোধনী জুটি ভাঙে বাংলাদেশ। রুবেল হোসেনের দ্বিতীয় ওভারে জেমস ম্যাককলামকে মাঠ ছাড়া করেন। চতুর্থ ওভারে লিটনক দাসকে ক্যাচ দেনে তিনি। প্রস্তুতি ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান ম্যাককলাম ১০ বলে একটি চারে মাত্র ৫ রান করে বিদায় নেন।

আয়ারল্যান্ডের দ্বিতীয় উইকেটটি তুলে নেন রাহী। অভিষেক ম্যাচে ৯ ওভারে ৫৬ রান দিয়ে উইকেটশূন্য ছিলেন এই পেসার। অবশেষে ক্যারিয়ারের ১৪ ওভার পর প্রথম ওয়ানডে উইকেট শিকার করেন রাহী। বিপজ্জনক ব্যাটসম্যান বলবার্নিকে ফেরান তিনি ২০ রানে, পেছনে ক্যাচ ধরেন মুশফিকুর রহিম।

৫৯ রানে আইরিশদের দুটি উইকেট নিয়ে স্বস্তিতে ছিল বাংলাদেশ। কিন্তু ১৭তম ওভারে মোসাদ্দেক হোসেনের বলে একটি রান নিয়ে ফিফটি হাঁকানো স্টারলিং প্রতিরোধ গড়েন পোর্টারফিল্ডের সঙ্গে। তাদের একশ ছাড়ানো জুটিতে এগিয়ে যায় আয়ারল্যান্ড। অবশ্য মোসাদ্দেক ও সাকিব আল হাসানের পরপর দুই বলে জীবন পান স্টারলিং। ২১তম ওভারের শেষ বলে লং অফে তাকে ডাইভ দিয়ে ক্যাচ নিতে পারেননি সাব্বির হোসেন। পরের ওভারের প্রথম বলে পয়েন্টে তার সহজ ক্যাচ মিস করেন সাইফউদ্দিন। ৫৭ রানে জীবন পাওয়া স্টারলিং ১২৬ বলে দ্বিতীয় শতক হাঁকান।

তবে অন্য প্রান্তে থাকা পোর্টারফিল্ড ৬ রান না করতে পারার আক্ষেপ নিয়ে মাঠ ছাড়েন। ১০৬ বলে ৭ চার ও ২ ছয়ে লিটনের ক্যাচ হন আইরিশ অধিনায়ক। ৯৬ রান করে রাহীর দ্বিতীয় শিকার হন তিনি। ১৭৪ রানের এই শক্ত জুটি ভাঙার পর জ্বলে ওঠেন রাহী। অষ্টম ওভারে তার জোড়া আঘাতে ফেরেন কেভিন ও’ব্রায়ান (৩) ও স্টারলিং। ১৪১ বলে ৮ চার ও ৪ ছয়ে ১৩০ রান করে লিটনের হাতে ক্যাচ হন স্টারলিং। ৪৯তম ওভারে গ্যারি উইলসন পরপর দুটি চার মেরে রাহীর পঞ্চম শিকার হন।

শেষ ওভারে সাইফউদ্দিন জোড়া আঘাতে ফেরান মার্ক অ্যাডাইর (১১) ও জর্জ ডকরেলকে (৪)।

বিশ্বকাপের আগে সবাইকে ম্যাচ খেলার সুযোগ দিতে এ ম্যাচে পরিবর্তন এসেছে। সৌম্য সরকার, মোহাম্মদ মিঠুন, মেহেদী হাসান মিরাজ ও মোস্তাফিজুর রহমানকে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে। তামিম ইকবালের সঙ্গে উদ্বোধনী জুটি গড়বেন লিটন দাস। মোসাদ্দেক হোসেন ও রুবেল হোসেনের সঙ্গে ফিরেছেন চোট কাটিয়ে ওঠা মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন।

পরীক্ষা-নিরীক্ষার এই ম্যাচে বাংলাদেশের দুই অধিনায়কের সামনেই ছিল মাইলফলকের হাতছানি। অধিনায়ক হিসেবে উইকেটের সেঞ্চুরির পথে মাশরাফি। ৭৫ ম্যাচে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিয়ে ইতোমধ্যেই তুলে নিয়েছেন ৯৭টি উইকেট। এ ম্যাচে ৩টি উইকেট পেলে ওয়াসিম-ইমরান খানদের কাতারে পৌঁছাতেন তিনি। এছাড়া সহ-অধিনায়ক সাকিবের সামনেও ছিল আরেকটি মাইলফলক। তবে আইরিশদের বিপক্ষে ৯ ওভারে ৬৫ রান দিয়ে উইকেটশূণ্য থাকায় অপেক্ষা বাড়ল দেশসেরা এই অলরাউন্ডারের। ১টি উইকেট নিলে দ্রুততম ক্রিকেটার হিসেবে ২৫০ উইকেট ও ৫ হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করতেন বিশ্বের অন্যতম সেরা এই অলরাউন্ডার।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: ক্রিকেট


আরও
আরও পড়ুন