Inqilab Logo

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৯, ০২ কার্তিক ১৪২৬, ১৭ সফর ১৪৪১ হিজরী

খাদ্যে ভেজাল বিষ প্রয়োগের শামিল

নাগরিক সমাবেশে সৈয়দ আবুল মকসুদ

স্টাফ রিপোর্টার : | প্রকাশের সময় : ১৬ মে, ২০১৯, ১২:০৫ এএম

বাপা’র সহ-সভাপতি, বিশিষ্ট লেখক-গবেষক, সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেছেন, বর্তমানে খাদ্যে ভেজাল এমন একটা পর্যায়ে দাঁড়িয়েছে যা সরাসরি বিষ প্রয়োগের সামিল। বাপা’র পক্ষ থেকে আমরা দীর্ঘদিন ধরে নিরাপদ খাদ্যের ব্যাপারে সরকারকে বলে আসছি। সরকার আমাদের কথায় কোন কর্ণপাত করেনি। যার ফলে এখন সর্বত্র ভেজালে সয়লাব হয়ে গেছে। তখন থেকে যদি কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হতো তা হলে আজ এ অবস্থার সৃষ্টি হতো না। তিনি খাদ্যে ভেজালকারী প্রতিষ্ঠান এবং বিএসটিআইসহ সংশ্লিষ্ট দায়ী কর্তা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ফৌজদারী আইনে বিচার করে সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান। বাপা ও গ্রীন ভয়েসের উদ্যোগে গতকাল ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের চারুকলা ইনিস্টিটিউটের সামনে এক নাগরিক সমাবেশে তিনি একথা বলেন।
‘ইফতারসহ সকল খাদ্য বিষ ও ভেজালমুক্ত এবং নিরাপদ করণের’-দাবিতে এক নাগরিক সমাবেশে সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, বাংলাদেশ নানা রকম বিপদের মধ্যে রয়েছে। আর এ বিপদ সৃষ্টির মুলে রয়েছে এক শ্রেণীর অতি মুনাফালোভী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান। তিনি খাদ্যে ভেজালকারীদেরকে হত্যাকারী হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন, কারণ হিসেবে বলেন, একটা মানুষ খুন করলে ৩০২ ধারায় হত্যাকারীর বিরুদ্ধে হত্য মামলা হয়। এখানেতো লক্ষ-লক্ষ মানুষকে তিলে-তিলে বিষ প্রয়োগের মাধ্যমে হত্যা করা হচ্ছে।
বাপা’র যুগ্ম সম্পাদক ও গ্রীন ভয়েসের প্রতিষ্ঠাতা আলমগীর কবির এর সঞ্চালনায়, এতে বক্তব্য রাখেন, বাপা’র যুগ্ম সম্পাদক মিহির বিশ^াস। তিনি বলেন, আমাদের দেশের মত পৃথিবীর কোথায়ও মানুষ নিরাপদ খাবার নিয়ে এত ভীত নয়। ভেজাল খাদ্যের কারণে শিশুসহ সকলে আজ স্বাস্থ্য হুমকীর মুখে। মিহির বলেন, পবিত্র রমজান মাসে সারাদিন রোজা থেকে দিন শেষে বাজারে তৈরী মুখরোচক খাবার দিয়ে মানুষ যা দিয়ে ইফতার করে তা একদিকে যেমন অস্বাস্থ্যকর, অন্যদিকে তা কতটুকু হালাল তাও প্রশ্ন সাপেক্ষ। তাই রোজা শেষে নিরাপদ ও হালাল ইফতার নিশ্চিত করা খুবই জরুরি। বাজারে বিক্রিত মুড়ি, জিলাপী, গুড়সহ বিভিন্ন খাদ্যে হাইড্রোজ, পোড়া মবিল মেশানো হয়, হাইড্রোজ যা পাথর পর্যন্ত ভেঙ্গে ফেলে যেটা মানব দেহের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর পদার্থ। তিনি আরো বলেন বাজারে যে ৫২টি কোম্পানির পণ্যে ভেজালের কথা আজ প্রচারিত হচ্ছে সেইগুলোর মধ্যে অনেক কোম্পানির পণ্য মানুষ কোন কিছু না দেখেই শুধু কোম্পানির নাম দেখে নিশ্চিন্তে ব্যবহার করে। সেই কোম্পানিগুলো আজ মানুষের সরলতার সুযোগ নিয়ে খাদ্যের নামে মানুষকে বিষ খাওয়াচ্ছে যা হত্যার সামিল। তিনি এর সংঙ্গে জড়িত সকল ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুধ্যে সর্বোচ্চ শাস্তির দাবীসহ প্রয়োজনে আইন সংশোধন করারও আহŸান জানান। সমাবেশে থেকে কয়েকটি দাবিতুলে ধরা হয়। তারা মানুষের সাথে সম্পর্কিত সকল পশুপাখি ও মাছের নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতের দাবি জানান। মুরগীর খাদ্যে ট্যানারীবর্জ্য ব্যবহার বন্ধ কর, এ বিষয়ে হাইকোর্টের রায় বাস্তবায়নের পাশপাশি মৃত বা অসুস্থ পশু কিংবা পাখির গোস্ত যেন বিক্রি করা না হয় তা নিশ্চিত করার দাবি জানান। নাগরিক সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন গ্রীন ভয়েসের ঢাকা মহানগর শাখার সমন্বয়ক, আব্দুস সাত্তার, ঢাকা টিচার্স ট্রেনিং কলেজ শাখার সমন্বয়ক, ফাহমিদা নাজনীন তিতলী, আরিফুল ইসলাম আরিফ প্রমুখ। এছাড়াও অনুষ্ঠানে ভোক্তা অধিকার কর্মী, পুষ্টিবিদ, গবেষক, পরিবেশবাদী ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন কলেজ-বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: খাদ্যে ভেজাল


আরও
আরও পড়ুন