Inqilab Logo

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৯, ০২ কার্তিক ১৪২৬, ১৭ সফর ১৪৪১ হিজরী

উৎপাদন বন্ধ ও প্রত্যাহারে দক্ষিণাঞ্চলে পদক্ষেপ নেই

হাইকোর্টে নিষিদ্ধ ৫২ পণ্য

বরিশাল ব্যুরো : | প্রকাশের সময় : ১৬ মে, ২০১৯, ১২:০৫ এএম

হাইকোর্ট দক্ষিণাঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় উৎপাদিত ৫২টি ভোক্তা পণ্য মানসম্মত বিবেচিত না হওয়ায় তার উৎপাদন ও বিপণন নিষিদ্ধ ঘোষণা করলেও সংশ্লিষ্ট উৎপাদনকারীরা এখনো তা বাজার থেকে প্রত্যাহার করেনি। অথচ ভ্রাম্যমাণ আদালতসহ বিভিন্ন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী এসব পণ্য বিক্রির অভিযোগে খুচরা ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করছে বলে অভিযোগ উঠছে। বিষয়টি নিয়ে দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্নস্থানে বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে। দোকানীরা বিপুল অর্থ ব্যয়ে এসব পণ্য উৎপাদক ও সরবারহকারীদের কাছ থেকে ক্রয় করেছেন।
এমনকি এসব নিষিদ্ধ পণ্য নিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতও প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে। ব্যবসায়ীসহ সাধারণ ক্রেতাদের অভিযোগ হাইকার্ট নিষিদ্ধ এসব পণ্যসমূহ বাজার থেকে প্রত্যাহারে বাধ্য করা হচ্ছে না উৎপাদক ও সরবারহকারীদের। নিষিদ্ধ পণ্যের তালিকাও জনসমক্ষে ফলাও করে প্রচার করাও হচ্ছে না। পাইকারী ও খুচরা বিক্রেতাদের দাবি পণ্যমূল্য ফেরত দিয়ে তা ফিরিয়ে নিয়ে ধংস করা হোক।
হাইকোর্ট নিষিদ্ধ ৫২টি পণ্যের মধ্যে বরিশাল ও ঝালকাঠীর ৭টি প্রতিষ্ঠানের পণ্য রয়েছে। এ ৭টি প্রতিষ্ঠানের লাচ্ছা সেমাই ও আয়োডিনযুক্ত লবন নিম্নমানের প্রমানিত হওয়ায় হাইকোর্ট তা উৎপাদন ও বিপণন নিষিদ্ধ করেছে। কিন্তু গতকাল বুধবার পর্যন্ত বরিশালের অমৃত ফুড প্রডাক্ট ও ঝালকাঠীর জেদ্দা ফুড ইন্ডাষ্ট্রির লাচ্ছা সেমাই এবং ঝালকাঠীর নিউ সল্ট মিলস, কোয়ালিটি সল্ট ইন্ডাষ্ট্রি, লাকি সল্ট ইন্ডাষ্ট্রি, তাজ সল্ট ইন্ডাষ্ট্রি ও নুর সল্ট ইন্ডাষ্ট্রির কথিত আয়োডিনযুক্ত লবন বাজার থেকে প্রত্যাহারের কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি কোন কর্তৃপক্ষই। তবে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ গতকাল বুধবার সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপন প্রকাশ করে নিষিদ্ধ পণ্যসমূহের উৎপাদন বন্ধ রাখাসহ আগামী তিন দিনের মধ্যে বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশনা প্রদান করেছে। কিন্তু বুধবার দিনভরই বিএসটিআই ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কোন পদক্ষেপ লক্ষ্য করা যায়নি দক্ষিণাঞ্চলে। এ অঞ্চলে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের কোন অফিসই নেই।
বিএসটিআইয়ের বরিশাল বিভাগীয় দপ্তরের উপ-সহকারী পরিচালক জানান, তারা দক্ষিণাঞ্চলে নিষিদ্ধ ঘোষিত পণ্যের ৭টি উৎপাদক প্রতিষ্ঠানকে শোকজ করেছেন। প্রতিষ্ঠানগুলো এর উত্তরও দিয়েছে। বিষয়টি তিনি সদর দফতরকে অবহিত করেছেন বলে জানান। তবে এসব পণ্যসমূহের উৎপাদন বন্ধসহ বাজার থেকে প্রত্যাহারের কোন নির্দেশনা বরিশাল বিএসটিআইয়ের তরফ থেকে দেয়া হয়নি বলে তিনি স্বীকার করেন। সদর দফতরের নির্দেশনার আলোকেই পরবর্তি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলেও জানান বিএসটিআই কর্মকর্তা।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: উৎপাদন বন্ধ


আরও
আরও পড়ুন