Inqilab Logo

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৫ অক্টোবর ২০১৯, ৩০ আশ্বিন ১৪২৬, ১৫ সফর ১৪৪১ হিজরী

মশা-বায়ুদূষণ-পানিবদ্ধতা রোধে কার্যকর পদক্ষেপের নির্দেশ

ঢাকা দুই সিটির কর্মকান্ডে হাইকোর্টের অসন্তোষ

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১৬ মে, ২০১৯, ১২:০৪ এএম

মশা, বায়ুদূষণ ও যত্রতত্র পানিবদ্ধতা রোধে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবহেলা রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন হাইকোর্ট। বায়ুদূষণ রোধে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের প্রধান দুই নির্বাহীর ব্যাখ্যার পর গতকাল বুধবার বিচারপতি এফআরএম নাজমুল আহাসান এবং বিচারপতি কেএম কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ মন্তব্য করেন। আদালত আরও বলেন, জনগণ যেভাবে ট্যাক্স দিচ্ছেন তাতে নাগরিক সুযোগ-সুবিধা পাওয়া তাদের অধিকার। তাই সব অনিয়ম ও প্রতিবন্ধকতা থেকে বেরিয়ে অচিরেই সব সমস্যা সমাধান করতে হবে দুই সিটি কর্পোরেশনকেই। তাদের মশা-বায়ুদূষণ-পানিবদ্ধতা রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এবিএম আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার। আর আদালতের তলব আদেশের ব্যাখ্যা দিতে হাজির হয়েছিলেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী মো. আবদুল হাই এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী মোস্তাফিজুর রহমান। তাদের পক্ষে আদালতে শুনানি করেন আইনজীবী ড. নুরুন্নাহার নুপুর। শুনানির শুরুতে দুই সিটির নির্বাহীরা বায়ু দূষণরোধে গৃহীত পদক্ষেপগুলো প্রতিবেদন আকারে আদালতে দাখিল করেন। সরকার মেট্রোরেলসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প হাতে নেয়ায় বায়ুদূষণ রোধ করা সম্ভব হচ্ছে না বলে তারা আদালতকে জানান।
তখন আদালত বলেন, বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রজেক্টের কাজের সময় আপনাদের মধ্যে সমন্বয়হীনতা দেখা যায় কেন? আপনারা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন জায়গায় খোঁড়াখুঁড়ি করেন। তাই সমন্বিতভাবে কাজ করবেন। এছাড়া নাগরিক যেসব সুযোগ-সুবিধা রয়েছে তাও আপনারা নিশ্চিত করবেন। পয়োনিষ্কাশন, পানিবদ্ধতা ও মশা নিধনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।
আদালত আরো বলেন, সামনে বর্ষা মৌসুম আসছে। একটু বৃষ্টি হলেই বিভিন্ন এলাকায় হাঁটুপানি উঠে যায়। আবার মশার উৎপাতও বেড়ে যায়। তাই আগামী বর্ষায় মশার উৎপাত কমাতে পদক্ষেপ গ্রহণ করুন। বাংলাদেশে অনেক বিদেশি বসবাস করেন, বেশ কয়টি দূতাবাসও রয়েছে। দেশে বিনিয়োগের আরও সম্ভাবনা রয়েছে। তাই সেগুলো লক্ষ্য রাখতে এবং সচেতন হয়ে আরও কর্মমুখী হতে হবে।
পরে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এবিএম আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার বলেন, এক রিটের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার বায়ুদূষণের মাত্রা পরিমাপ করে এবং দূষণ রোধে কী কী পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে তার ব্যাখ্যা জানতে চেয়েছিলেন হাইকোর্ট। যার ধারাবাহিকতায় আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছিল। কিন্তু বায়ুদূষণ রোধের উপযুক্ত জবাব ওই প্রতিবেদনে না উঠে আসায় সন্তুষ্ট হতে পারেননি আদালত।
এর আগে গত ২৭ জানুয়ারি হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের পক্ষে রিট আবেদনটি দায়ের করেন অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ। সে রিটের শুনানি নিয়ে গত ২৮ জানুয়ারি রাজধানী ঢাকার বায়ুদূষণ বন্ধে রুল জারি করেন হাইকোর্ট। রুল জারির পাশাপাশি বায়ুদূষণ রোধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে অন্তর্বর্তীকালীন আদেশও দেন। রাজধানীর যেসব এলাকায় উন্নয়ন কর্মকান্ড চলছে ১৫ দিনের মধ্যে সেসব এলাকা ঘেরাও করে পরের দুই সপ্তাহের মধ্যে এ বিষয়ে আদালতকে অবহিত করতে নির্দেশ দেয়া হয়। এছাড়া পরিবেশ অধিদফতরের মহাপরিচালক ও ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের নির্বাহী কর্মকর্তাদের ওই আদেশ পালন করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়। যার ধারাবাহিকতায় মামলাটি পুনরায় শুনানিকালে আদালত রাজধানী ঢাকার বায়ুদূষণ রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নেয়ায় হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং এ বিষয়ে আদেশ দেন। উল্লেখ, গত ১৩ মার্চ ঢাকার বায়ুদূষণের মাত্রা পরিমাপ করে এবং দূষণ রোধে কী কী পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে, তা প্রতিবেদন আকারে দাখিল করতে পরিবেশ অধিদফতরের মহাপরিচালককে নির্দেশ দিয়েছিলেন আদালত।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: হাইকোর্ট


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ