Inqilab Logo

ঢাকা, মঙ্গলবার ২১ মে ২০১৯, ০৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬, ১৫ রমজান ১৪৪০ হিজরী।

করদাতা ১ কোটিতে উন্নীত করতে চান অর্থমন্ত্রী

অর্থনৈতিক রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১৬ মে, ২০১৯, ১২:০৪ এএম

অর্থমন্ত্রী অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, আগামী অর্থবছরে করদাতার সংখ্যা ২২ লাখ থেকে ১ কোটিতে উন্নীত করা হবে। যা পর্যায়ক্রমে চার কোটিতে রুপান্তর করা হবে। এ জন্য রাজস্বখাতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক জনবল নেই বিধায় আউট সোর্সিংয়ের মাধ্যমে এটা বাস্তবায়ন করা হবে। একই সঙ্গে কর প্রদানে উৎসাহিত করতে গণমাধ্যমের সহায়তা কামনা করেছেন অর্থমন্ত্রী। 

গতকাল শেরে বাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষ বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর, বর্তমান গভর্নর ও অর্থনীতিবিদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও ইফতার অনুষ্ঠান শেষে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। বৈঠকে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা এবং প্রখ্যাত অর্থনীতিবীদ ড. এ বি মির্জ্জা মো. আজিজুল ইসলাম, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন, বর্তমান গভর্নর ফজলে কবির, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন ভ‚ঁইয়া, অর্থ বিভাগের সচিব আব্দুর রউফ তালুকদার, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব মো. আসাদুল ইসলাম, বাংলাদেশ ব্যাংকের মহাপরিচালক ও পরিষদের সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আগামী বাজেটে করের হার বাড়ানো হবে না। এবার আমরা কোনোভাবেই কোথাও কর বাড়াবো না। কিছু কিছু ক্ষেত্রে কর কমানো হবে। এবার হয়তো বেশি কমাতে পারবো না। তাবে আগামীতে করের হার আরও বেশি কমাবো। তবে করের আওতা বাড়িয়ে রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ বাড়াবো।
কর প্রদানে উৎসাহিত করতে অর্থমন্ত্রী গণমাধ্যমের সহায়তা কামনা করে বলেন, দেশের সব মানুষ যেনো কর প্রদানে অনুপ্রানিত হয় সে বিষয়টি প্রচার করবেন। আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, আমরা কিন্তু অনেক কঠিন কাজে নামছি। ২০ লাখ, ২২ লাখ থেকে প্রথম বছরে আমরা ১ কোটি করদাতা সংখ্যা করতে চাই। এই যে করদাতা বাড়াবো, কাকে বাড়াবো? যারা কর প্রদানে উপযুক্ত তাদেরকেই করের আওতায় আনা হবে। সে কাজটি কারার জন্য সকল মানুষের সহযোগীতা নিয়ে আগাতে হবে উল্লেখ করেন তিনি বলেন, আমাদের দেশের ৪ কোটি মানুষ আছে, যারা আয়কর দেয়ার উপযুক্ত। আওতা বাড়িয়ে এসব মানুষকে যদি করের আওতায় আনতি পারি তাহলে আমাদের ট্যাক্স জিডিপির অনুপাত অনেক বেড়ে যাবে। আমরা সেদিকে যাচ্ছি।
অর্থমন্ত্রী বলেন, কর নেটের আওতা বাড়ানো হবে। করের আওতা বাড়াতে গিয়ে আমরা অনেক আউট সোসিং করবো। কারণ যে পরিমাণ রাজস্ব আদায়ে লোকবল প্রয়োজন সে পরিমাণ এত অল্প সময়ে পাওয়া যাবে না। তাই আউট সোসিংয়ের মাধ্যমে রাজস্ব আদায় করা হবে। পাশাপাশি প্রতিটি উপজেলায় রাজস্ব অফিস করা হবে। যদি প্রয়োজন দেখা দেয় তাহলে একই উপজেলায় তিন থেকে চারটি রাজস্ব অফিস দেয়া হবে। চাহিদার উপর অফিসের সংখ্যা নির্ভর করবে। একই সঙ্গে কর প্রদানে মানুষ যেন কোন ধরনের হয়রানি বা কষ্ট করতে না হয় সে ব্যবস্থা চালু করা হবে। আমরা সব কিছুই সুন্দরমতো করবো।
আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, আমাদের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে করের আওতা বাড়ানো এবং সেখান থেকে রাজস্বের পরিমাণ বাড়ানো। তবে কোন ভাবেই কর বাড়বে না। বরং অনেক স্থানেই ভ্যাট কমে আসবে। অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রতিক্ষিত নতুন ভ্যাট আইনটি আগামী বাজেট থেকে বাস্তবায়ন করবো। ভ্যাট আইন সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিবর্তনযোগ্য। আইন বাস্তবায়নের পরও যদি কোথাও কোনো সীমাবন্ধতা দেখা দেয় তাহলে তা পরিবর্তন করা হবে। একই সঙ্গে সেটি কিভাবে বাস্তবায়ন করা যায় সে বিষয়ে আজকে বিশেষজ্ঞরা মতামত দিয়েছেন। আমাদের আইডিয়া আর আজকের মতামতের ভিত্তিতে ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন করা হবে।
ড. এ বি মির্জ্জা মো. আজিজুল ইসলাম, ট্যাক্স জিডিপি অনুপাত সারা বিশ্বে সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় রয়েছে বাংলাদেশ। আমরা এটি বাড়ানোর বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছি। করহার না বাড়িয়ে করের আওতা বাড়াতে হবে। এছাড়া ব্যাংক আমনতের ওপর আবগারি শুল্কহার বাড়ানো যৌক্তিক হয়নি। এছাড়া ভেঞ্চার ক্যাপিটাল কে আরো বেশি গতিশীল হরতে হবে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প সম্প্রসারণে আরো উদ্যোগের প্রয়োজন। স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে বরাদ্দ বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে। পিছিয়ে পড়া মানুষের কাছে সরকারের সেবা পৌছাতে হলে এসব খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর কোন বিকল্প নেই।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: অর্থমন্ত্রী


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ