Inqilab Logo

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৪ অক্টোবর ২০১৯, ০৮ কার্তিক ১৪২৬, ২৪ সফর ১৪৪১ হিজরী

আল্লাহরু অস্তিত্ব : আধুনিক বিজ্ঞান ও দর্শন তত্ত

মুহাম্মদ মনজুর হোসেন খান | প্রকাশের সময় : ১৭ মে, ২০১৯, ১২:০৫ এএম | আপডেট : ৬:১১ এএম, ১৭ মে, ২০১৯

আট
(ক) অনেকেশ্বরবাদ বা বহু ইশ্বরবাদ ঃ এ মতবাদ বহুদেববাদ নামেও পরিচিত। এ মত বহু স্বতন্ত্র ও স্বাধীন ঈশ্বর বা দেবতার বিশ্বাসী। এ মতে বিশ্বাসী মানুষের এক এক সমস্যা এক এক দেবতা সম্পাদন করে থাকেন। অতীত কালের ন্যায় বর্তমান কালেও বহুদেববাদে বিশ্বাসী মানুষের সংখ্যা কম নয়। “আমিনুল ইসলাম, জগৎ জীবন দর্শন, পৃ ১৭৮”।
(খ) দ্বিÑঈশ্বরবাদ ঃ এ মতে বিশ্বাসীরা কল্যাণ ও অকল্যাণের উৎস হিসেবে স্বতন্ত্র স্বভাবের ও পরস্পর বিরোধী দুই দেবতার অস্থিত্বে বিশ্বাসী। “প্রাগুক্ত, পৃ. ১৭৯”। পারসিক ধর্মে এরূপ দু’জন দেবতা বা ঈশ্বরের অস্তিত্ব কল্পনা করা হয়।
(গ) একেশ্বরবাদ ঃ এ মতে ঈশ্বর এক ও অদ্বিতীয়। তিনি পূর্ণ স্বভাব ও সার্বভৌম শক্তির অধিকারী। এ মতবাদ অনুযায়ী বিশ্বের সৃষ্টি, এর স্থিতি, স্থায়ীত্ব, ক্রমবিকাশ, ক্রমোন্নতি, প্রতিপালন, পরিপোষণ, ক্ষয়, লয় প্রভৃতি সকল ব্যাপারেই এক ঈশ্বর তথা আল্লাহ্র কোন সমসক্ষ বা শরীক নেই। “ প্রাগুক্ত, পৃ. ১৮০”।
আল্লাহ সম্পর্কিত উপরে যে তিনটি মতবাদের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা পেশ করা হলো এর মধ্যে একেশ্বরবাদ তথা তৌহিদাবাদী মতবাদটি সবচেয়ে বেশি গ্রহণযোগ্য এবং যৌক্তিক। পবিত্র কুরআনের বহু জায়গায় বহু দেববাদ ও দ্বিÑঈশ্বরবাদ ধারনার যৌক্তিকযোগ্য বলে মনে হয়। আর সেটি হল, দর্শন ও ধর্মতত্তে¡র ইতিহাস পর্যালোচনা করতে যেয়ে দেখানো হয়েছে যে, শিরকের তথা বহুদেববাদের অন্ধকারময় আবর্তে সর্বপ্রথম মানুষের ধর্মীয় জীবনের সূত্রপাত হয়। “সাইয়েদ আবুল আ’লা মওদুদী, সীরাতে সরওয়ারে আলম (প্রথম খন্ড), পৃ. ৩৮”।
অতঃপর ধারাবাহিক বিবর্তনের মাধ্যমে এ অন্ধকার দূরীভূত হয় এবং আলোর রেখা উজ্জ্বল হতে থাকে। এভাবে অবশেষে তওহীদ বা এক আল্লাহ্র ধারণায় উপনীত হয়। কিন্তু কুরআন এর সম্পূর্ণ বিপরীত তথ্য পরিবেশন করে বলেছে, দুনিয়ার পরিপূর্ণ আলোকে মানুষের জীবনের সূত্রপাত হয়। আল্লাহ্ সর্বপ্রথম যে মানুষটিকে সৃষ্টি করেছিলেন ঐ প্রথম মানুষটিকে কুরআনের পরিভাষায় বলা হয়ে থাকে আদম (আ) এবং প্রথম ঐ ব্যক্তিটিকে তিনি কনের প্রথম নবী এবং এই এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেন তার জোড়া। অতঃপর ঐ জোড়ার বংশ ধারা চালু করেন। শত শত হাজার হাজার বছর ধরে তা চলতে চলতে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। পৃতিবীতে যত মানুষ জন্ম নিয়েছে সবাই ঐ প্রথম জোড়াটির সন্তান।
সকল জাতির ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক বর্ণনাধারা এক বাক্যে ঘোষণা করে যে, একজন মানুষ থেকেই মানুষ জাতির বংশ ধারার সূচনা হয়। বিজ্ঞানের অনুসন্ধান থেকেও একথা প্রমাণিত হয়নি যে, পৃথিবীর বিভিন্ন এলাকায় পৃথক পৃথক মানুষ সৃষ্টি হয়েছিল। বরং অধিকাংশ বৈজ্ঞানিক এ ধারণা পোষণ করেন যে, প্রথমে একজন মানুষই জন্মে থাকবে এবং দুনিয়ার যেখানেই যত মানুষ পাওয়া যাবে সবাই ঐ একজন মানুষেরই সন্তান। “এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানার জন্য দেখুন, ড. মরিস বুকাইলি, মানুষের আদি উৎস, অনুবাদÑআখতার উল-আলম (জ্ঞানকোষ প্রকাশনী, ঢাকা: তৃতীয় প্রকাশ, ১৯৯৬”।
কিন্তু পরবর্তীতে হযরত আদম (আ)-এর সন্তানদের মধ্যে যারা ছিল ভাল ও সৎ তারা পিতার নির্দেশিত সোজা পথে চলতে থাকে। কিন্তু যারা অসৎ ছিল তারা এ পথ ত্যাগ করে ধীরে ধীরে সব রকমের অন্যায় ও অপকর্মের জন্ম দেয় এবং চাঁদ, সূর্য, তারকা, বৃক্ষ, পশু ইত্যাদির উপাসনায় মগ্ন হয়। এ প্রসঙ্গে পবিত্র কুরআন বলেছে, “শুরুতে সব মানুষ একই পথে চলছিল। (তারপর এ অবস্থা অব্যাহত থাকল না এবং মতবিরোধ দেখা দিল) অতঃপর আল্লাহর নবী পাঠালেন, তারা ছিলেন (সত্য-সোজা পথ অবলম্বনকারীদের জন্য) সুসংবাদ দানকারী এবং (বক্র-ভুল পথ অবলম্বনের পরিণাম সম্পর্কে) ভীতি প্রদর্শনকারী। তাদের সাথে নাযিল করেন সত্য গ্রন্থ। যাতে সত্যের ব্যাপারে লোকদের মধ্যে যে মতবিরোধ দেখা দিয়েছিল সে সম্পর্কে ফয়সালা করা যায়। আর এ মতবিরোধ দেখা দেবার কারণ এটা নয় যে, শুরুতে তাদেরকে সত্য সম্পর্কে অবহিত করা হয়নি.........।“সূরা ২, আয়াত ২১৩”।
পবিত্র কুরআন পর্যালোচনা করলে বুহদেববাদ, দ্বি-ঈশ্বরবাদ প্রভৃতি মতবাদ যে অসার এবং অযৌক্তিক তা অত্যন্ত বলিষ্ঠ ভাষায় দেখানো হয়েছে। কুরআনে বলা হচ্ছে, “আসমান যমীনে যদি আল্লাহ্ ছাড়া আরও ইলাহ থাকতো, তবে বিশ্বের ব্যবস্থাপনা ওলট-পালট হয়ে যেত।” “সূরা ৭৮, আয়াত ২২”।
বিশ্ব সৃষ্টির পর থেকে আজ অবধি বিশ্ব ব্যবস্থাপনা একই নিয়মের অধীনে চলছে। আজ পর্যন্ত এই নিয়মের ব্যতিক্রম হয়নি। যদি একের অধিক আল্লাহ্ থাকতো তাহলে অবশ্যই যে বিশ্বব্যবস্থাপনায় বিশৃঙ্খলা দেখা যেত সেই কথাটি উপরের আয়াতে বলা হয়েছে। পবিত্র কুরআনে অন্যত্র বলা হচ্ছে, “বল, আল্লাহ্র সাথে যদি অন্য ইলাহ্ হতো, যেমন লোকেরা বলছে, তাহলে তারা আরশ অধিপতির রাজত্ব দখল করার জন্যে অবশ্যই কৌশল অবলম্বন করত।” “সূরা ১৭, আয়াত ৪২-৪৩”।

 



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন