Inqilab Logo

ঢাকা, রোববার ১৯ মে ২০১৯, ০৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬, ১৩ রমজান ১৪৪০ হিজরী।

সেভেন ‘লাকি’ হবে তো?

ফাইনাল! ফাইনাল!! আক্ষেপের ফাইনাল!!!

স্পোর্টস রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১৭ মে, ২০১৯, ১২:০৪ এএম

ছয়বার ফাইনাল খেলেও কোনো শিরোপা জেতা হয়নি বাংলাদেশের। আজ সপ্তমবারের মতো যেকোনো ফরম্যাট, যেকোনো টুর্নামেন্টের ফাইনালে নামছে বাংলাদেশ। ফাইনাল জুজু কাটিয়ে উঠবে বাংলাদেশ। ভাগ্য ফিরবে লাকি সেভেনে। এমনটাই বিশ্বাস সবার। এ বিশ্বাসের জন্ম দিয়েছেন ক্রিকেটাররাই। আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজে এখন পর্যন্ত অপরাজিত মাশরাফির দল। ওয়েস্ট ইন্ডিজকে দুবার হারিয়ে পেয়েছে ফাইনালের টিকিট। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে বৃষ্টিতে পয়েন্ট ভাগাভাগি হওয়ার পর দ্বিতীয় ম্যাচে পেয়েছে অনায়াস জয়। মোদ্দাকথা, তিন ম্যাচেই অলআউট ক্রিকেট খেলছেন মাশরাফি, সাকিব, তামিম, মুশফিকরা। মাঠের আবেগ, উত্তেজনা সামলে নিতে পারলে আয়ারল্যান্ডের ডাবলিনে ইতিহাস গড়ার হাতছানি সৌম্য, মুস্তাফিজ, সাইফউদ্দিনদের।
‘ফাইনাল’ শব্দটি এখন অন্যরকম এক অনুরণন তোলে মাশরাফি বিন মুর্তজার মনে। এমনিতে যে কোনো আসরের ফাইনাল খেলা মানে যথেষ্টই বড় প্রাপ্তি। কিন্তু বারবার হৃদয় ভাঙার যন্ত্রণায় পুড়ে বাংলাদেশের জন্য ফাইনাল হয়ে আছে হাহাকারের প্রতিশব্দ। ফাইনাল ম্যাচ নিয়ে তাই চূড়ান্ত কিছু বলতে চাইছেন না মাশরাফি।
ওয়েস্ট ইন্ডিজকে টানা দ্বিতীয় ম্যাচ হারিয়ে আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনাল নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ এক ম্যাচ বাকি রেখেই। ওয়ানডেতে এটি বাংলাদেশের পঞ্চম ফাইনাল, দুটি আছে টি-টোয়েন্টিতে। বাংলাদেশ হেরেছে সবকটি ফাইনাল। হারের ধরনও ছিল বেদনায় মাখা। তিনটি ফাইনালে শেষ বলে হেরেছে বাংলদেশ, দুটিতে হেরেছে শেষের আগের ওভারে। বারবার তাই হাতছানি দিয়েও মিলিয়ে গেছে শিরোপা। এখনও পর্যন্ত কোনো আন্তর্জাতিক ট্রফি জয় করতে পারেনি দল।
ছয় ফাইনাল হারের পাঁচটিতেই ছিলেন মাশরাফি, নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনটিতে। নাগালে পেয়েও হারিয়ে ফেলার হতাশা তিনি খুব ভালো জানেন। ফাইনালে উঠেও তাই রোমাঞ্চ এখনই ছুঁয়ে যাচ্ছে না বাংলাদেশ অধিনায়ককে।
আরেকটি ফাইনাল মানে ট্রফি জয়ের আরেকটি সুযোগ, জানেন মাশরাফিও। কিন্তু ফাইনালের প্রসঙ্গ উঠতেই যে হাসি দেখা গেল তার মুখে, তাতে আক্ষেপটাই ফুটে উঠল বেশি। বারবার স্বপ্নের মৃত্যুর পর এবার আরেকটি ফাইনালে উঠেও বাংলাদেশ অধিনায়ক ভীষণ সাবধানী। ফাইনাল নিশ্চিতের দিনই বলেছিলেন, ‘ফাইনাল নিয়ে আমার কোনো ফাইনাল কথা নেই। অনেক কথা হয়েছে আগে, অনেক অভিজ্ঞতা পেয়েছি। সেগুলো সুখকর ছিল না। এবারও যে কোনো কিছুই হতে পারে। আরেকবার সুযোগ এসেছে, আমরা আবারও চেষ্টা করব। ট্রফি জিততে পারলে অবশ্যই ভালো লাগবে। আগে কখনও জিতিনি আমরা। তবে শুধু সেটিই নয়, বিশ্বকাপের আগে এই টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হতে পারলে অনেক আত্মবিশ্বাস নিয়ে আমরা ইংল্যান্ড যেতে পারব।’
ফাইনালের প্রতিপক্ষ ওয়েস্ট ইন্ডিজকে এই টুর্নামেন্টেই দুই ম্যাচে লড়াই করতেও দেয়নি বাংলাদেশ। ফাইনালেও বাংলাদেশই থাকবে ফেভারিট। তবে অতীত বলে, ফাইনালের মতো ম্যাচে পূর্বানুমান বা আগের হিসাব-নিকাশের মূল্য আছে সামান্যই। নিজেদের হতে হবে দিনটি। বাংলাদেশের অপেক্ষা এবার ফাইনালকে পক্ষে আনার!
আজই সেই উত্তর খোঁজার, সেই অপেক্ষা ঘোচানোর দিন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে আরেকটি জয় মুছে দিতে পারে ব্যর্থতার কালিমা। সাত নম্বর ফাইনালে এসে কাটবে ফাইনাল জুজু। ‘চ্যাম্পিয়ন’ লেখা বোর্ডের সামনে গগনবিদারী চিৎকারের অভিজ্ঞতা পেতে চায় বাংলাদেশও। মাশরাফি-মাহমুদউল্লাহরা ছুঁতে চান রূপালি ট্রফিও। শুক্রবারই কি সেই দিন, সেই মাহেন্দ্রক্ষণ বাংলাদেশ ক্রিকেটের! যদি সব কিছু বাংলাদেশের পক্ষে আসে তাহলে ডাবলিনে নতুন করে লেখা হবে বাংলাদেশের ইতিহাস।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: ফাইনাল

২২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯
৩ ডিসেম্বর, ২০১৮
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৮
৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

আরও
আরও পড়ুন