Inqilab Logo

ঢাকা, সোমবার, ২১ অক্টোবর ২০১৯, ০৫ কার্তিক ১৪২৬, ২১ সফর ১৪৪১ হিজরী
শিরোনাম

ক্ষমতা থাকলে জনসভা আটকান : মোদি

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ১৭ মে, ২০১৯, ১২:০৩ এএম

ভারতে লোকসভা নির্বাচনের শেষ পর্যায়ে নির্বাচনী রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে পশ্চিমবঙ্গ। এ রাজ্যের ৪২ টি লোকসভা আসনের মধ্যে অন্তত ২৩টি দখলের টার্গেট অর্জনে মরিয়া হয়ে উঠেছে বিজেপি। যে কোনো মূলে বিজেপিকে রুখতে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে তৃণমূল। এর মধ্যে কলকাতায় বিদ্যাসগরের মূর্তি ভাঙ্গাকে কেন্দ্র করে বিজেপি-তৃণমূল বিরোধ চরমে উঠেেেছ। এদিকে ক্ষমতা থাকলে বৃহস্পতিবার পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জনসভা আটকানোর চ্যালেঞ্জ দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধায়কে। নির্বাচন কমিশন সময় এগিয়ে আনায় বৃহস্পতিবার রাত ১০টায় শেষ হচ্ছে নির্বাচনের প্রচার। খবর এনডিটিভি, এই সময় ও আনন্দবাজার পত্রিকা।
গতকাল বৃহস্পতিবার এক জনসভায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘স্টিকার দিদি’ বলে সম্বোধন করে বলেছেন, কেন্দ্রের প্রকল্পগুলি নিজের বলে চালাচ্ছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। ‘স্পিডব্রেকার দিদি’র পর এবার ‘স্টিকার দিদি’সম্বোধন।
শেষ দফার প্রচারের শেষ লগ্নে এসে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পশ্চিমবঙ্গে মথুরাপুর লোকসভা কেন্দ্রের দলীয় প্রার্থী শ্যামাপ্রসাদ হালদারের সমর্থনে স্থানীয় বিবেকানন্দ শিশু উদ্যানে নির্বাচনী জনসভায় যোগ দেন মোদি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নতুন অস্ত্রে আক্রমণ করেন তিনি। মোদির অভিযোগ, কেন্দ্রের প্রকল্পগুলি নিজের বলে চালাচ্ছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। অর্থাৎ কেন্দ্রের প্রকল্পে রাজ্যের স্টিকার সাঁটিয়ে দিচ্ছেন। সেই কারণেই তাকে ‘স্টিকার দিদি’ সম্বোধনে বিঁধলেন প্রধানমন্ত্রী। এদিনই উত্তর প্রদেশের মৌ-এ এক জনসভায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ঘোষণা দেন যে বিজেপি ক্ষমতায় এলে ওই একই জায়গায় বিদ্যাসাগরের পঞ্চধাতুর মূর্তি পুনঃপ্রতিষ্ঠা করে তৃণমূলকে কড়া জবাব দেবে। বিদ্যাসাগর কলেজের একই জায়গায় ওই মূর্তি বানানো হবে।›
এর আগে কলকাতায় বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙা নিয়ে মমতার হুঁশিয়ারির কঠিন জবাব দেন প্রধানমন্ত্রী। বুধবার পশ্চিমবঙ্গের ডায়মন্ড হারবারের সুলতানপুরে একটি সভায় মোদি মমতাকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, কান খুলে শুনে রাখুন দিদি, তোমার ঘরে এসে বলছি- গোলা, গালি ও অত্যাচারের মধ্যেই মৃতু্যুকে হাতের মুঠোয় নিয়ে চলি আমি। প্রতিশোধ নয়, বাংলা থেকে পরিবর্তনের ইঙ্গিত আসছে। উল্লেখ্য, মঙ্গলবার ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির সভাপতি অমিত শাহের রোড শো থেকে বিদ্যাসাগর কলেজে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙেন বিজেপিকর্মীরা।
পশ্চিমবঙ্গে শেষ দফা ভোটের প্রচার এগিয়ে আনা প্রসঙ্গে কার্যত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশেই দাঁড়ালেন বহুজন সমাজ পার্টি প্রধান মায়াবতী। বৃহস্পতিবার মায়াবতী অভিযোগের সুরেই বলেন, ‘মোদী-অমিত শাহদের ইশারাতেই কাজ করছে নির্বাচন কমিশন। প্রচন্ড চাপের মুখেই তাদের কাজ করতে হচ্ছে।’ মায়াবতীর যুক্তি, বৃহস্পতিবার রাত দশটার পর থেকে প্রচার বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। কারণ এদিন সকালে পশ্চিমবঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর দুটি সভা রয়েছে। প্রচার যদি বন্ধ করার দরকার, তাহলে তা বৃহস্পতিবার সকাল থেকে করা হল না কেন! সেইসঙ্গে টুইটে মায়াবতী লিখেছেন, একটা বিষয় স্পষ্ট, অমিত শাহ ও নরেন্দ্র মোদি পরিকল্পনা করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করেছেন। দেশের পক্ষে এটি একটি মারাত্মক প্রবণতা। প্রধানমন্ত্রীকে এ জিনিস মানায় না।
সন্ত্রাসের জন্য প্রচারের সময় কমানো নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সমালোচনা করল কংগ্রেসও। দলের প্রধান মুখপাত্র রণদীপ সুরজেওয়ালা বলেন, আজ ভারতীয় গণতন্ত্রের জন্য কালো দিন। পশ্চিমবঙ্গের জন্য কমিশন যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা সংবিধানের রীতিনীতির বিরোধী।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: মোদি

১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ