Inqilab Logo

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৯ আশ্বিন ১৪২৬, ২৪ মুহাররম ১৪৪১ হিজরী

রাজধানীতে ৬৫ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়া

বায়তুল মোকাররমে ১জনসহ নিহত ৫ আহত ১৫

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১৭ মে, ২০১৯, ৯:০০ পিএম

রাজধানীসহ সারাদেশে হঠাৎ ঝড়-বৃষ্টিতে বায়তুল মোকাররম মসজিদের দক্ষিণ গেটের প্যান্ডেল ভেঙে পড়ে এতে একজন নিহত ও অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে ইফতারের আগে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নওগাঁ জেলায় ঝড়-বৃষ্টির সময় বজ্রপাতে চারজন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা ইউনিয়নের শ্রীরামপুর এলাকায় বজ্রপাতে দুইজন নিহত হয়েছেন। গতকাল শুক্রবার বায়তুল মোকাররম মসজিদের দক্ষিণ গেটের সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে উদ্ধার করে।
আবহাওয়া অধিদফতরের আবহাওয়াবিদ শাহিনুল ইসলাম জানান ইফতারের পর রাজধানীতে ঘণ্টায় ৬৫ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যায়। সেই সঙ্গে মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হয়।
ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মো. বাচ্চু মিয়া জানান বায়তুল মোকাররম মসজিদ থেকে আহত ১৬ জনের মধ্যে শফিকুল (৩৮) নামে একজন মুসল্লির মৃত্যু হয়েছে। ১৫ জন মুসল্লি বর্তমানে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতলে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পরিচালক (মসজিদ ও মার্কেট বিভাগ) মুহাম্মদ মহীউদ্দিন মজুমদার জানান শুক্রবার দিন মসজিদে অনেক লোক হয়, এর মধ্যে রমজান মাস, তাই মসজিদের দক্ষিণ গেটে মুসল্লিদের নামাজের জন্য একটি প্যান্ডেল করা হয়। গতকাল (আজ) মাগরিবের নামাজের সময় প্রবল ঝড়ে প্যান্ডেলটি ভেঙে পড়ে যায়। তখন সেখানে ১০০ থেকে ১৫০ জনের মতো মুসল্লি ছিল। এর পর আমরা ১৪-১৫ জন মুসল্লিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠিয়েছি। এর মধ্যে ২-৩ জনের অবস্থা গুরুতর দেখেছি।
ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স সদর দফতরের কন্ট্রোল রুমের ডিউটি অফিসার মো. রাসেল সিকদার সাংবাদিকদের বলেন, বায়তুল মোকাররম মসজিদের দক্ষিণ গেটে নামাজের জন্য তৈরি একটি প্যান্ডেল ঝড়ো বাতাসে ভেঙে পড়ে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুই ইউনিট ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। পল্টন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, ঝড়ে মসজিদের দক্ষিণ গেটের প্যান্ডেল ভেঙে পড়ে। এ ঘটনায় বেশ কয়েকজন মুসল্লি আহত হয়েছেন। ফায়ার সার্ভিস উদ্ধার কাজ চালাচ্ছে। তাদের সঙ্গে পল্টন থানা পুলিশও কাজ করছে।
এদিকে ইফতারের আগে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নওগাঁ জেলায় ঝড়-বৃষ্টির সময় বজ্রপাতে চারজন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা ইউনিয়নের শ্রীরামপুর এলাকায় বজ্রপাতে দুইজন নিহত হয়েছেন। নিহতরা হলেন- সদর উপজেলার শ্রীরামপুর গ্রামের মৃত হজরত আলীর ছেলে রেজাউল হোসেন (৪০) ও মোতালেব হোসেনের ছেলে মো. মুসা (৩৫)। আহত হয়েছেন একই এলাকার হজরত আলী (৬০)। তাকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বালিয়াডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান তরিকুল ইসলাম জানান, শুক্রবার বিকেল সোয়া ৪টার দিকে ধানের জমিতে কাজ করার সময় বজ্রপাত হলে রেজাউল ও মুসা ঘটনাস্থলেই মারা যান। এ সময় আহত হজরত আলীকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করে।
অপরদিকে নওগাঁর পোরশা উপজেলায় বজ্রপাতে দুই ধানকাটা শ্রমিক নিহত হয়েছেন হয়েছেন। বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার গানুইর গ্রামে মালিপুকুর মাঠে এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন- উপজেলার নিতপুর ইউনিয়নের গানুইর গ্রামের আজাদ হোসেনের ছেলে শফিনুর রহমান বিষু (৩২) এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ থানার পিঠাইল গ্রামের মতিউর রহমানের ছেলে হাসান আলী (৩০)। হঠাৎ করেই বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই শফিনুর রহমান ও হাসান আলী মারা যান। এ সময় বুলবুল হোসেন আহত হন। তাকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পোরশা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুর রহমান বজ্রপাতে নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, নিহতদের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
রাজধানীর মানিকনগর এলাকার বাসিন্দার সিরাজ ফকির বলেন, প্রচন্ড গরমের কারণে ইফতার শেষ করে মাগরিবের নামাজ পড়ার আগে অফিসের জানালা খুলে নামাজ পড়তে দাঁড়ান। সালাম ফেরানোর আগেই টের পান প্রচন্ড বাতাসে তার শরীর জুড়িয়ে যাচ্ছে। ক্ষণিকের মধ্যে বৃষ্টির ঝাপটা এসে শরীর ভিজিয়ে দেয়। তিনি বলেন, বিকালে আকাশে মেঘবৃষ্টির ছিঁটেফোটার লক্ষণও ছিল না। গুমোট গরমে দম বন্ধ হয়ে আসছিল।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: আবহাওয়া


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ