Inqilab Logo

ঢাকা, বুধবার, ২৩ অক্টোবর ২০১৯, ০৭ কার্তিক ১৪২৬, ২৩ সফর ১৪৪১ হিজরী

আশায় বুক বেঁধেছেন সংগ্রহকারীরা

পূর্ণিমায় হালদায় মা মাছের ডিম ছাড়ার সম্ভাবনা

আসলাম পারভেজ, হাটহাজারী (চট্টগ্রাম) থেকে : | প্রকাশের সময় : ১৮ মে, ২০১৯, ১২:১১ এএম

দেশের একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদীতে ২০ মে পূর্ণিমায় মা মাছের ডিম ছাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে খুশির জোয়ার বইতে শুরু করেছে ডিম সংগ্রহকারীদের মাঝে। প্রতি বছর বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ডিম ছাড়ে এই নদীতে। মা মাছ প্রতি বছর বৃষ্টি বজ্রপাত হলে হালদা নদীতে ২/৩ দফা ডিম ছাড়ে।
এই মৌসুমে এখন পর্যন্ত একবারও ডিম না দেওয়ার ফলে হতাশ হয়ে পড়েছেন ডিম সংগ্রহকারীরা। হালদার মা মাছ মৌসুমের আমাবশ্যা ও পূর্ণিমার তিথিতে ডিম দিয়ে থাকে। ডিম দেওয়ার এই মৌসুমে আমাবশ্যা ও পূর্ণিমা তিথি আসলে মা মাছেরা ডিম দেবে এমন আশা নিয়ে অপেক্ষায় থাকলেও কিন্তু ডিম দেয়নি মা মাছগুলো। গত আমাবশ্যাও ঘূর্ণিঝড় ফণির প্রভাবে কিছুটা বৃষ্টি হলেও সামান্য পরিমাণ মা মাছের ডিমের নমুনা দেখা দিলেও কিন্তু পুরো দমে ডিম দেয়নি। আগামী ২০ মে আসছে পূর্ণিমার তিথি এই তিথিকে সামনে রেখে ডিম সংগ্রহকারীরা আশায় বুক বেঁধে অপেক্ষামান রয়েছেন।
হালদা বিষেজ্ঞদের মতে নদীর দুই পারে ভাঙন রোধে পাথরের ব্লক বসানোর কারণে এবং গরমের তাপমাত্রা বেশি হওয়ার ফলে এবং ইঞ্জিন চালিত নৌকা চলাচলের কারণে মা মাছগুলো মারা যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। এপ্রিল মাসের শেষের দিকে মে মাসের মাঝামাঝি সময়টুকু হালদায় মা মাছের ডিম দেওয়ার উপযুক্ত সময়। আগামী পূর্ণিমা তিথিতে বৃষ্টি, বজ্রপাত ও নদীর স্রোত এবং পাহাড়ি ঢল আসলে ডিম ছাড়বে বলে শতভাগ ধারণা করছেন সংগ্রহকারীরা। এই মৌসুমে যদি মা মাছ ডিম না দেয় তাহলে ডিম সংগ্রহকারীরা লোকসানে পড়বে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কয়েকজন ডিম সংগ্রহকারীরা।
পাশাপাশি মৎস্য চাষীরাও অনেকেই সনাতন পদ্ধতিতে মাছের ডিম থেকে রেনু ফোটানোর কাজে ব্যবহৃত মাটির কুয়াও ভাড়া নিয়েছেন। আবার অনেকে ডিম থেকে রেনু ফুটানোর পর পোনাগুলো লালন পালন করতে অনেক মৎস্য চাষীরা পুকুর ভাড়া নিয়ে পানি সেচ করে পুকুর তৈরি করে রেখেছেন। হালদার নদীর পোনা ক্রয় করতে এককালে ভারতের আসাম, ত্রিপুরা ও বার্মা আরাকান রাজ্যের লোকদের কাছে পর্যন্ত পরিচিত ছিল। এই নদীর ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের উদয় নগরের পাহাড় হতে সৃষ্টি হয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম ও চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি, হাটহাজারী, রাউজান উপজেলার উপর দিয়ে কর্ণফুলী নদীর সাথে মিলিত হয়। এক সময় হালদার পোনা বিক্রয় করে হাটহাজারী ও রাউজান উপজেলার বহু মানুষ সারা বছর জীবন জিবীকা নির্বাহ করত। কিন্তু এই হালদার পুরানো স্মৃতি যেন দিন দিন অবক্ষয়ের দিকে যাচ্ছে। হালদা নদীতে সারা বছর মাছ মারার ও বালুর ড্রেজার, ইঞ্জিন চালিত নৌকা চলাচল এবং বড়শি দিয়ে মাছ ধরা জাল ফালানোর উপর নিষেধাজ্ঞা জারী করলেও এই নিষেধাজ্ঞা কেউ মানছে না।
রাত দিন পাহাড়া বসিয়ে হাটহাজারী উপজেলার নির্বাহী অফিসার মো. রহুল আমিন ও উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আজহারুল আলম উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. নিয়াজ মোর্শেদসহ যৌথ সহযোগিতায় এই পর্যন্ত ৮০ থেকে ৯০ হাজার মিটার জাল জব্দ করে পুড়িয়ে দিয়েছে। বালুর ড্রেজার আটক করে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়। এমনকি মাছ ধরার দায়ে কয়েকজনকে কারাদণ্ড দেয়। এরপরও বন্ধ হচ্ছে না এইসব কর্মকাণ্ড। এই দিকে আগামী পূর্ণিমা তিথিতে মা মাছ ডিম দেওয়ার সম্ভবনা দেখা দিয়েছে। তার আগে এই ব্যাপারে স্থানীয় প্রশাসন হালদার তীরবর্তী মানুষ আরো সচেতন হওয়া ও কঠোর হস্তে দমন করতে জরুরী বলে মনে করছেন হালদা বিষেজ্ঞরা।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ