Inqilab Logo

ঢাকা, মঙ্গলবার ১৮ জুন ২০১৯, ৪ আষাঢ় ১৪২৬, ১৪ শাওয়াল ১৪৪০ হিজরী।

রাজধানীতে জমজমাট ঈদ বাজার

অর্থনৈতিক রিপোর্টার : | প্রকাশের সময় : ১৮ মে, ২০১৯, ১২:১১ এএম

ছুটির দিনে জমজমাট রাজধানীর ঈদ বাজার। সকালের দিকে ক্রেতা কম থাকলেও বেলা বাড়ার সাথে সাথে বাড়তে থাকে সমাগম। ফুটপাত থেকে অভিজাত বিপণি বিতান, সবখানেই ক্রেতার ভিড়। রাজধানীর নিউ মার্কেট এলাকার ফুটপাতে হাঁটতে গিয়ে ভিড়ের কারণে প্রত্যেকেই যেন হাঁপিয়ে উঠছেন। তবে থেমে নেই, সবাই ছুটছেন পছন্দের পোশাকের সন্ধানে। ভিড়ের কারণে ক্রেতার সঙ্গে বেশিক্ষণ কথা বলারও সুযোগ পাচ্ছেন না বিক্রেতারা। এর মধ্যেই পছন্দের কাপড় কিনছেন ক্রেতারা। গতকাল শুক্রবার ১১ রমজানে রাজধানীর নিউ মার্কেট এলাকায় এ চিত্র দেখা যায়।
দোকানি ও ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রমজান শুরুর পর গতকাল ছিল দ্বিতীয় শুক্রবার। প্রতি রমজানে সাধারণত এ সময় থেকেই ঈদের কেনাকাটা পুরোদমে শুরু হয়। এখন থেকে দিন যত যাবে, ভিড় তত বাড়তে থাকবে। এখন যতটুকু দাম-দর করে কাপড় কেনার সুযোগ থাকছে, পরে সে সুযোগও থাকবে না।
ঈদের বাকি প্রায় ২০ দিনের মতো। ঈদের আগ মুহূর্তে কেনাকাটা করতে গেলে নানা ভোগান্তি পোহাতে হয় বলে অনেকেই এখনই কেনাকাটা সেরে ফেলছেন। এমন একজন রাজধানীর বেসরকারি এক প্রতিষ্ঠানের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার মো. নাঈম। শুক্রবার ঈদের কেনাকাটা করতে স্ত্রীকে নিয়ে নিউ মার্কেটে আসেন। নাঈম বলেন, আজই সব কেনাকাটা শেষ করব। ঈদে গ্রামের যাব। বাবা-মা, ভাই-বোনসহ পরিবারের সবার জন্যই কেনাকাটা করবো।
ঈদের বাকি এখনও বেশকিছু দিন, এখনই আসা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এখনই বেটার (ভালো) মনে হয়েছে। পরে তো ভিড় হবে। পরিবারের সবার নতুন পোশাক কেনা অনেকের পক্ষে একদিনে সম্ভব হয় না। এ জন্য একাধিক দিন মার্কেটে আসতে হয়। এ ক্ষেত্রে অনেকেই ছুটির দিন বেছে নেন। এ পন্থা অবলম্বন করেছেন রাজধানীর গোপীবাগের বাসিন্দা মিলন খান। তিনি গত বৃহস্পতিবার ঈদ বাজার করেছেন। শুক্রবারও বাকি কেনাকাটা করতে নিউ মার্কেটে এসেছেন।
তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার ছেলে-মেয়ে, ভাগ্নে-ভাগ্নি ও নিজের জন্য কেনাকাটা করেছি। আজ মা, স্ত্রী, শাশুড়ি ও শ্যালকের জন্য কেনাকাটা করবো। মনে হচ্ছে না আজও সব হবে। আবার একদিন আসতে হতে পারে।
নিউ মার্কেট ঘুরে দেখা যায়, মেয়েদের পোশাকের দোকানে তুলনামূলক ভিড় বেশি। তাদের সঙ্গে কথা বলতে চাইলেই বলে দিচ্ছেন, ব্যস্ততার কারণে কথা বলার মতো সময় নেই। তবে ক্রেতাদের উপস্থিতি থাকলেও দোকানিদের দাবি বেচাকেনা তুলনামূলকভাবে ভালো না। শুধু নিউমার্কেটই নয়; এ অবস্থা রাজধানীর অধিকাংশ সুপারসপ গুলোতে। গাউছিয়া মার্কেটের অনুপম শাড়ি ঘরের সেলস ম্যানেজার মো. মোশারফ হোসেন বলেন, গত বছরের চেয়ে এবার বেচাকেনা খারাপ। মার্কেটে মানুষ আসছে, কিন্তু বেচাকেনা কম। কিনতে আসছেন একজন, কিন্তু সঙ্গে চার-পাঁচজন করে আসছেন।
এদিকে নিউ মার্কেটের চন্দ্রিমা সুপার মার্কেটে ক্রেতাদের উপস্থিতি তুুলনামূলক কম দেখা গেছে। এ মার্কেটের এক দোকান মালিক এম কে আজাদ জানান, শুধু চন্দ্রিমা নয়, চাঁদনি চকের মতো মার্কেটেও এবার বেচাকেনা কম। মানুষ অনলাইনে কেনাকাটা করছে। যার প্রভাব পড়েছে মার্কেটে।
চন্দ্রিমা মার্কেটের আরেক দোকান আর এম ফ্যাশন। এ দোকানে ছোটদের পোশাক বিক্রি হয়। দোকানের মালিক নজরুল ইসলাম বলেন, বেচাকেনার কথা আর কইয়েন না। গত বছর ঈদে প্রতিদিন ২০-৩০ হাজার টাকা বিক্রি করছি। এ বছর পাঁচ-সাত হাজার টাকার বেশি বিক্রি করতে পারিনি। জানি না কেন এমন হচ্ছে। গরমের কারণেও হতে পারে।
অপরদিকে, নিউ মার্কেট ফুটপাতে চলছে হরদম বেচাকেনা। ফুটপাত বিক্রেতারা জানান, বৃহস্পতি ও শুক্রবার থেকে মূলত ঈদের বেচাকেনা শুরু হয়েছে। বেচাকেনা মোটামুটি ভালো।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: ঈদ বাজার


আরও
আরও পড়ুন