Inqilab Logo

ঢাকা, বুধবার ২৬ জুন ২০১৯, ১২ আষাঢ় ১৪২৬, ২২ শাওয়াল ১৪৪০ হিজরী।

দাগনভূঞায় ৪ মাসে ৯ ট্রান্সফরমার চুরি : জনমনে ক্ষোভ

দাগনভূঞা (ফেনী) থেকে সৈয়দ ইয়াছিন সুমন | প্রকাশের সময় : ১৯ মে, ২০১৯, ১২:০৪ এএম

দাগনভূঞায় বিদ্যুৎ ট্রান্সফরমার চুরির হিড়িকে গ্রাহক ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। অভিনব কায়দায় ট্রান্সফরমার চুরিতে হিমশিম খাচ্ছে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি কর্তৃপক্ষ। গত চার মাসে ৯টি ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে। ট্রান্সফরমার চুরি হলে নতুন ট্রান্সফরমার সংযোগ দিতে গ্রাহকদের গুনতে হবে জরিমানা। চোরেরা চুরি করলে জরিমানা কেন দিতে হবে গ্রাহকদের মাঝে অসন্তোষ বিরাজ করছে। প্রতি মাসে মাসে বিদ্যুৎ বিলের সাথে ট্রান্সফরমার বাবত টাকা কেটে নিচ্ছে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি। এযেন গোদের উপর বিষ ফোঁড়। গত চার মাসে চুরি হওয়া ট্রান্সফরমারগুলো হলো ১০ জানুয়ারি উপজেলার গজারিয়া গ্রামের ২৫ কেভিএ, ২১ ফেব্রæয়ারি উত্তর আলমপুর ২ কেভিএ, ৭মার্চ দক্ষিন নেয়াজপুর গ্রামের ২টি ২৫ কেভিএ, ২৫মার্চ উত্তর লালপুরে ২ কেভিএ, ৩১ মার্চ হায়াতপুরে ২৫ কেভিএ ও দক্ষিন ধর্মপুরে ১৫ কেভিএ এবং পৌরসভার জগতপুরে গত শনিবার গভীর রাতে এক অভিনব কায়দায় বিদ্যুতের দুইটি ২৫ কেভিএ ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা ঘটেছে।
এভাবে ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনায় উদ্বিগ্ন এলাকাবাসী। ফেনী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির দাগনভূঞা জোনাল অফিস জানায়, চুরি যাওয়া ট্রান্সফরমার বিদ্যুতের একটি খুঁটি থেকে ২৫ ও ১৫ কেভির একটি ট্রান্সফরমার দুর্বৃত্তরা চুরি করে নিয়ে যায়। দুর্বৃত্তরা বিদ্যুৎ লাইনের দুইটি তার একত্রিত করে সুতা দিয়ে টেনে গাছের সাথে বেঁধে বিদ্যুতের পুরো লাইনটি শর্ট করিয়ে চুরির এই ঘটনওা ঘটিয়েছে। একই কায়দায় ওই রাতে একই গ্রামের সুরুজ মিঞার বাড়ির সামনে থেকেও ১০ কেভির আরেকটি ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে। চুরি হওয়া দুইটি ট্রান্সফরমারের বক্সের কভার খুলে ফেলে রেখে শুধু তামার তার দিয়ে তৈরি ভেতরের মূল্যবান কয়েল দুইটি নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। মোট ৯টি ট্রান্সফরমারের মূল্য ১৫ লাখ টাকার বেশি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিটরা। ধারণা করা হচ্ছে, একটি সংঘবদ্ধচক্র অভিনব কায়দায় প্রতিনিয়ত চুরির ঘটনাগুলি ঘটাচ্ছে।
পল্লী বিদ্যুৎ দাগনভূঞা জোনাল অফিসের সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম) প্রকৌশলী আজিম উদ্দিন জানান, চুরির এই কায়দা এককবারেই অভিনব। এর আগে তিনি কোথাও এভাবে ট্রান্সফরমার চুরি হতে দেখেননি। অভিনব চুরির এই ঘটনায় তাঁরা খুবই উদ্বিগ্ন বলে তিনি জানান।
দাগনভূঞা জোনাল অফিসের উপ-মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) প্রকৌশলী মো. জাহিদুল ইসলাম ট্রান্সফরমার চুরির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, চুরি যাওয়া ট্রান্সফরমার বিষয়ে থানায় মামলা করা হয়েছে। তাদের কিবা করার আছে। গ্রাহক সচেতনতা বৃদ্ধি পেলে হয়তো চুরি রোধ করা যাবে। পৌরসভার জগতপুরেও আমরা বহু কষ্টে লাইন মেরামত করে ওই দিন বিকেলেই বিদ্যুৎ সরবরাহ করি। প্রাকৃতিক দুর্যোগের পরপরই আমাদের সীমিত জনবল নিয়ে স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় লাইন মেরামত করে যেখানে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করলাম, সেখানে ওইদিন রাতেই ওই এলাকা থেকে দুটি ট্রান্সফরমার চুরি হয়ে যাওয়ার ঘটনা খুবই দুঃখজনক। এছাড়া উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনায় আমরা খুবই উদ্বিগ্ন। ট্রান্সফরমার চুরি রোধে তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতা কামনা করেন এছাড়া ও পল্লী বিদুৎ সমিতির দাগনভূঞা জোনাল অফিস প্রতিনিয়ত মাইকিং, জনপ্রতিনিধি, মসজিদের ইমাম, বিভিন্ন স্কুল কলেজ মাদরাসায় মোটিভেশন সভাসহ ট্রান্সফরমার চুরিরোধে সচেতনতামূলক সভা করে আসছে।
গ্রাহক রমিজ উদ্দিন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, একেতো ভুতুড়ে বিলে অতিষ্ঠ। উপরোন্ত ট্রান্সফরমার চুররি টাকাও তাদের দিতে হচ্ছে। সাধারন লোকতো ট্রান্সফরমার চুরি করবে না। যারা দালাল ফড়িয়াল ও এবিষয়ে পারদর্শী তারা ছাড়া এহেন নিকৃষ্ট কাজ কেউ করবেনা। দালাল দমন এখন সময়ের দাবি। ব্যবসা করবে পল্লী বিদ্যুৎ। পাহারা ও জরিমানা দিতে হবে গ্রাহকদেরকে। একোন রাজত্বে আমরা বাস করছি। দাগনভূঞা থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ ছালেহ আহাম্মদ পাঠান জানান, ট্রান্সফরমার উদ্বার এবং চোর সনাক্তের চেষ্টা করছে পুলিশ।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন